১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে জব্দ তালিকার সাক্ষী: জব্দনামার মূল ডকুমেন্ট কোথায় প্রস্তুত ও সংগ্রহ করা হয়েছে এর কোন ধারণা আমার নাই
২৭ মে ২০১৪, মঙ্গলবার,
কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন সরকারপক্ষের জব্দ তালিকার সাক্ষী পুলিশ কনষ্টেবল মো. সজল মাহমুদ। জবানবন্দীতে তিনি বলেন, বিগত ২০১২ সালের ৩ মে আমার সম্মুখে অত্র মামলার তদন্তকর্মকর্তা ইদ্রিছ আলী সংস্থার লাইব্রেরী থেকে তদন্ত সংস্থার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মতিউর রহমানের প্রস্তুত করা সিজার লিস্ট, ফোর্ট নাইটলী রিপোর্ট, ও পুলিশ এ্যাবষ্ট্রাক্ট এর  ফটোকপি  জব্দ করে জব্দনামা তৈরী করেন।
জবানবন্দী শেষে জেরার জবাবে সাক্ষী বলেন, জব্দকৃত ১, ২ ও ৩ নম্বর আইটেমের মঝল সিজার লিস্ট, ফোর্ট নাইটলি রিপোর্ট ও পুলিশ এ্যাবষ্ট্রাক্ট কোথায় প্রস্তুত করা হয় তাহা আমার জানা নাই।  অপর প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী বলেন, আমি যে জবানবন্দীর জব্দকৃত সাক্ষী ঐ জব্দনামার মূল ডকুমেন্ট সমূহ কোন দপ্তর হতে সংগ্রহ করা হয়েছে সেই বিষয়ে আমার কোন ধারণা নাই। জেরা শেষে পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামীকাল বুধবার দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
গতকাল সোমবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে অপর দুই সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ সাক্ষ্য দেন সজল মাহমুদ।  তাকে জেরা করেন এডভোকেট আব্দুস সুবহান। জবানবন্দী গ্রহণ করেনÑ প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম। তাকে সহযোগিতা করেন প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বল। আসামীপক্ষে উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট রায়হান উদ্দিন ও মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন। সাক্ষ্যগ্রহণকালে এটিএম আজহারুল ইসলাম কাঠগড়ায় ছিলেন। এদিকে সাক্ষ্য গ্রহণের পূর্বে আসামীপক্ষের করা দুটি আবেদন খারিজ করেন ট্রাইব্যুনাল।
জবানবন্দী নিম্নরূপ:
আমার মো. সজল মাহমুদ। আমার বর্তমান বয়স আনুমানিক ৩৩ বৎসর। আমার ঠিকানা গ্রাম : গোপীনাথপুর থানা- গোপালগঞ্জ সদর, জেলা : গোপালগঞ্জ।
আমি ২০১২ সালের এপ্রিল মাস হতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, তদন্ত সংস্থায় কনস্টেবল হিসাবে কর্মরত আছি। আমি তদন্তকারী কর্মকর্তা মো: ইদ্রিস আলীর সাথে কর্মরত আছি। আমার সম্মুখে তদন্তকারী কর্মকর্তা মো: ইদ্রিস আলী তদন্ত সংস্থার লাইব্রেরী থেকে বিগত ২০১২ সালের ৩ মে দুপুর আনুমানিক ০২.৩০ ঘটিকার সময় তদন্ত সংস্থার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মতিউর রহমানের প্রস্তুত করা ১। সিজার লিস্টের ফটোকপি ২। ফোর্ট নাইটলী রিপোর্টেও ফটোকপি ও ৩।পুলিশ এ্যাবষ্ট্রাক্ট এর ফটোকপি জব্দ করে জব্দনামা প্রস্তুত করেন। এই সেই জব্দনামা প্রদশর্নী-১, যাহাতে আমার স্বাক্ষর প্রদর্শনী-১/১ হিসাবে চিহ্নিত হল। উক্ত জব্দনামা প্রস্তুতের সময় এস আই আনিছুর রহমান ও এস আই মো: আকরাম হোসেন উপস্থিত ছিলেন এবং তারাও জব্দনামায় সাক্ষী হিসাবে স্বাক্ষর করেন। আমি তাদের চিনি। এই সেই এস আই আনিছুর রহমানের দস্তখত প্রদর্শনী-১/২ এবং এস আই মো: আকরাম হোসেনের দস্তখত প্রদর্শনী-১/৩ হিসাবে চিহ্নিত হল।
জেরার বিবরণ ঃ
প্রশ্ন : জব্দকৃত ১, ২ ও ৩ নম্বর আইটেমের মূল সিজার লিস্ট, ফোর্ট নাইটলি রিপোর্ট ও পুলিশ এ্যাবষ্ট্রাক্ট কোথায় প্রস্তুত করা হয়েছে।
উত্তর : আমার জানা নাই।
প্রশ্ন :  সিজার লিস্টল্ট ফোর্ট নাইটলি রিপোর্ট ও পুলিশ এ্যাবস্ট্রাক্ট এ কি কি ডকুমেন্ট আছে?
উত্তর: সিজার লিস্টল্ট ফোর্ট নাইটলি রিপোর্ট ও পুলিশ এ্যাবষ্ট্রাক্ট এ কি কি ডকুমেন্ট আছে সে সম্পর্কে আমি জানি না কিন্তু ফোর্ট নাইটলি রিপোর্টে আসামী এটিএম আজহারুল ইসলামের নাম আছে।
প্রশ্ন : মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সাথে আপনারা কয়জন ছিলেন?
উত্তর : আমি অত্র মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সহযোগী ছিলাম। জব্দনামা প্রস্তুতের সময় এসআই আনিসুর রহমান ও এসআই আকরাম হোসেন উপস্থিত ছিলেন। তারাও জব্দনামায় সাক্ষর করেন।
প্রশ্ন : এসআই আনিসুর রহমান ও এসআই আকরাম হোসেন জীবিত ও চাকুরীরত আছেন কি না।
উত্তর: এসআই আনিসুর রহমান ও এসআই আকরাম হোসেন জীবিত ও চাকুরীরত আছেন। তাদের মধ্যে এস এম আকরাম হোসেন ইতিমধ্যে বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন।
প্রশ্ন : জব্দনামার মূল ডকুমেন্টসমূহ কোন দপ্তর হতে সংগ্রহ করা হয়েছে ।
উত্তর :  আমি যে জবানবন্দীর জব্দকৃত সাক্ষী ঐ জব্দনামার মূল ডকুমেন্টসমূহ কোন দপ্তর হতে সংগ্রহ করা হয়েছে সেই বিষয়ে আমার কোন ধারণা নাই।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=147383