২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, সোমবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আদেশ ১৫ জুলাই:মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে অষ্টম সাক্ষীর জবানবন্দী ডিফেন্স জেরা আজ
২৬ মে ২০১৪, সোমবার,
জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের অষ্টম সাক্ষী আশরাফ ঊদ্দিন মিয়ার জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এই সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণ করার পর আজ সোমবার আসামীপক্ষের জেরার জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।
জবানবন্দীতে সাক্ষী বলেন, আমার নাম আশরাফ ঊদ্দিন মিয়া, পিতা-মৃত আলাঊদ্দিন মিয়া। ১৯৭১ সালে আমার বয়স ছিল ১২ বা ১৩ বছর। আমি তখন পঞ্চম শ্রেণীতে লেখাপড়া করতাম। আমার বাবা আলাউদ্দিন মিয়া আনসার কমান্ডার ছিলেন। ১৯৭১ সালের বৈশাখ মাসের মাঝামাঝি সময় কোন একদিন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্য এবং বিহারীরা আমাদের বাড়িতে এসে আমার বাবাকে খোঁজাখুঁজি করে। বাবাকে না পেয়ে আমাদের বাড়িতে লুটতরাজ শুরু করে এবং একটি খড়ের ঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়।
১৯৭১ সালের জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রথম দিন মাওলানা সুবহান, খোদা বকস (খুদু খা) ও ১৫-২০ জন রাজাকার সদস্য নিয়ে অরণখোলার একটি চায়ের দোকান থেকে আমার বাবা ও আনসার সদস্য জয়েন উদ্দিন ঝাড়ু খাকে ধরে ফেলে। আমি তখন সেখানে উস্থিত ছিলাম। পরে বাবা ও ঝাড়ু খাকে তারা ঈশ্বরদীর ডাক বাংলোতে অবস্থিত রাজাকার ও আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের স্মরণাপন্ন হয়ে কোনো কাজ না হওয়ায় তিনদিন পর আমি ও আমার চাচা জালাল উদ্দিন বাবাকে ছাড়িয়ে আনতে মসুরিয়া পাড়ার কসিম উদ্দিনের কাছে যাই। তিনি আমাদেরকে ঈশ্বরদীর খোদা বকসের (খুদু খা) কাছে নিয়ে যান। এরপর খোদা বকস আমাদেরকে মাওলানা সুবহানের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
এরপর আমার চাচা জালাল ঊদ্দিন ও পাবনার আমাদের এক আত্মীয় আল-এন্তেজাকে নিয়ে মাওলানা সুবহানের কাছে গিয়ে সব কিছু বুঝিয়ে বললে তিনি আমার বাবা ও ঝাড়– খাকে ছেড়ে দিতে সম্মত হন এবং তাদেরকে ছেড়ে দিতে খোদা বকসকে ফোন করে জানিয়ে দেন।
পরে খোদা বকস আমাদেরকে নিয়ে ডাক বাংলোয় যায় এবং সেখানে পাকিস্তানী আর্মিদের সাথে কথাবার্তা বললে বাবা ও ঝাড়– খাকে তারা ছেড়ে দেয়। বাবা ও ঝাড়– খাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ডাকবাংলোর ভিতর থেকে বের করে নিয়ে আসি। তাদের অবস্থা এতই খারাপ ছিল যে, তারা তখন দাঁড়াতে পারছিলনা, তাদেরকে খাটিয়ায় করে আমরা বাড়িতে নিয়ে আসি।
বাড়িতে আসার পর স্থানীয় লোকদের জিজ্ঞাসার জবাবে আমার বাবা বলেছিলেন পাক সেনারা আমার বাবা এবং ঝড়–র নামে বরাদ্দকৃত দুটি রাইফেলের খোঁজে আমাদের এলাকায় আসে এবং তাদের ধরে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করে। আমার বাবা আরো বলেছিলেন ডাক বাংলোয় চেয়ারে বসে থেকে সোবহান মাওলানা এবং খুদু খা রাজাকারদেরকে দিয়ে তাদের উপর নির্যাতন করিয়েছে। এরপর আমরা বাবার চিকিৎসা করাই কিন্তু তিনি আর সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ঊঠতে পারেননি। সারাজীবন পঙ্গু থেকে আমার বাবা ও ঝাড়– ঊভয়েই স্বাধীনতার কয়েক বছর পর মারা যান।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা সংক্রান্ত অভিযোগের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আদেশের জন্য ১৫ জুলাই নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল-১।  গতকাল রোববার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল-১ উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৯ ডিসেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দ-প্রাপ্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি স্থগিত করার আহ্বান জানিয়ে ছিল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
এইচআরডব্লিউ’র নিজস্ব ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে সংগঠনটির এশিয়া পরিচালক ব্র্যাড আডামস বলেছিলেন, কাদের মোল্লার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকে বিতর্ক উঠেছে। কাজেই রায় পর্যলোচনার আবেদন করার অধিকার কাদের মোল্লার রয়েছে এবং সে সুযোগ তাকে দেয়া উচিত।
ওই বিবৃতিতে অ্যাডামস বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় যে অবর্ণনীয় নির্যাতন চালানো হয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অনেক আগে থেকেই এর বিচার চেয়ে আসছে।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=147304