২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, সোমবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে সপ্তম সাক্ষীর জবানবন্দী জেরা রোববার
২৩ মে ২০১৪, শুক্রবার,
জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সপ্তম সাক্ষী জাহানারা বেগম গতকাল ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দী দিয়েছেন। জবানবন্দী শেষে সাক্ষীকে আংশিক জেরা করেন মাওলানা সুবহানের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। আগামী রোববার সাক্ষী পুর্ণাঙ্গ জেরা করার দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।  গতকাল মাওলানা সুবহান সাহেব ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষীর জবানবন্দী (সংক্ষিপ্ত)
সাক্ষী তার জবানবন্দীতে বলেন, আমার নাম জাহানারা বেগম। আমার স্বামীর নাম শহীদ রজব আলী বিশ্বাস। আমার বয়স ৬৫ বছর।  ঠিকানা সাহাপুর গ্রাম, ইশ্বরদী পাবনা। আমার স্বামী স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। সাক্ষী বলেন, ১৯৭১ সালে আমার বয়স ছিল ২২ বছর। স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রায় ৮ বছর আগে আমার বিয়ে হয়। আমার স্বামী ঠিকাদারী করতেন এবং সেই সাথে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথেও জড়িত ছিলেন।
সাক্ষী বলেন, ১৯৭১ সালের ২ মে ফজরের নামাজের পরে আমরা বাড়িতেই ছিলাম । খুব ভোরে আমরা গুলীর শব্দ শুনতে পাই। মাওলানা সুবহান সাহেব পাকিস্তানী আর্মিদের নিয়ে আমাদের গ্রামের দিকে আসে। তারা গুলী করতে করতে আমাদের বাড়ির পশ্চিম দিকে এগুতে থাকে। ঐ দিন রাতে আমরা বাড়িতেই ছিলাম। আমার স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি দেবর সবাই বাড়িতে অবস্থান করছিলাম। আমার স্বামীর বন্ধু শামসুল হক ও তার পরিবারও ঐ দিন আমাদের বাড়িতে ছিলেন। গুলীর শব্দ শুনে আমরা সবাই বাড়ির পাশে বাঁশঝাড়ের ভেতরে গিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করি।  ঐ দিন প্রিন্সিপাল তৈয়বুর রহমান সাহেবের বাড়িতে পাক আর্মিরা আগুন দেয়। আমরা বাড়ির পেছনে বাঁশঝাড় থেকে লুকিয়ে এসব ঘটনা দেখি। কিন্তু একসময় তারা আমাদেরকে দেখে ফেলে এবং চার দিক থেকে পাক আর্মিরা আমাদের ঘিরে ফেলে।
এর কিছু সময় পরে সুবহান সাহেবের দেখানো মতে পাক আর্মিরা আমার স্বামীকে গুলী করে হত্যা করতে উদ্যত হলে আমি সুবহান সাহেবের পায়ে ধরে কান্নাকাটি করে বলি আমার স্বামীকে ছেড়ে দেয়ার জন্য। কিন্তু তাতে কিছুই হয়নি। পাক আর্মিরা আমার স্বামীকে গুলী করে হত্যা করে। তারা আমার স্বামীর বন্ধু শামসুল হককেও গুলী করে হত্যা করে। আমি শুনেছি অন্যদেরকে তারা গুলী করে হত্যা করেছে। তবে অন্যদের হত্যা করতে নিজ চোখে দেখেনি। এভাবে ঐ দিন তারা জোহরের নামাজ পর্যন্ত এসব কর্মকা- পরিচালনা করতে থাকে।
সাক্ষী বলেন, আমি সুবহান সাহেবকে ১৯৭০ সাল থেকেই চিনি। আমি ৭০ সালের নির্বাচনে সুবহান সাহেবকে দেখেছি। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাইতে আমাদের গ্রামে গিয়েছিলেন। সাক্ষী বলেন, আমি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে এর আগে জবানবন্দী দিয়েছি। আজো সুবহান সাহেব ডকে আছেন।
উল্লেখ্য, এর আগে মাওলানা সুবহান সাহেবের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ৬ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। ডিফেন্স পক্ষের আইনজীবীরা তাদের জেরাও সম্পন্ন করেছেন।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=147043