২৪ জানুয়ারি ২০২০, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে ষষ্ঠ সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণ; ডিফেন্স পক্ষের জেরা আজ
২১ মে ২০১৪, বুধবার,
জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ষষ্ঠ সাক্ষী কুরবান আলী গতকাল  মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দী পেশ করেছেন। জবানবন্দী শেষে তাকে জেরা শুরু করেন ডিফেন্স আইনজীবী এস এম শাহজাহান। আজ বুধবার এই সাক্ষীকে বিস্তারিত জেরা করবেন সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট মিজানুল ইসলাম। গতকাল মাওলানা আবদুস সুবহানকে ট্রাইব্যুনালে হাািজর করা হয়।
সাক্ষীর জবানবন্দী (সংক্ষিপ্ত)
গতকাল ট্রাইব্যুনালে দেয়া জবানবন্দীতে সাক্ষী বলেন, আমার নাম কুরবান আলী। আমি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার জন্য ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণও নিয়েছিলাম। ডিফেন্স আইনজীবীর জেরার জবাবে সাক্ষী বলেন,  আমি ৭ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছি। ভারতে আমাদের প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন কাজী নুরুজ্জামান।
জবানবন্দীতে সাক্ষী আরো বলেন, পাকিস্তানী সেনাবাহিনী অনেক লোককে লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলী করে হত্যা করেছে। সেনাদের সাথে সেখানে  মাওলানা সুবহান সাহেবও ছিলেন। লোকজনের সেই লাইন থেকে আমার পরিচিত ইসমাইল ও হারেজ উদ্দিন পালানোর জন্য দৌড় মারে। কিন্তু সেনাদের গুলীতে ইসমাইল মারা যায় আর হারেজ আহত হয়। হারেজের পায়ে গুলী লেগেছিল। লাইনের বাকিদের সবাইকে গুলী করে হত্যা করা হয়। পরে পাক আর্মিদের সাথে সুবহান সাহেবও এলাকা ত্যাগ করেন।
ঐ দিনের ঘটনায় আহত রুস্তম ও ইসমাইলকে আমি তরিকুল ডাক্তারের বাড়িতে নিয়ে যাই চিকিৎসা করানোর জন্য। তাদেরকে সেখানে একদিন চিকিৎসা দেয়ার পরে আমি রাতেই নিজের বাড়িতে ফিরে আসি। আমি আমার বাড়িতে এসে দেখি গ্রামের অনেক বাড়িতেই আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সুবহান সাহেব ও আর্মিরা এসব কাজ করেছে।
এ সময় ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান সাক্ষীকে প্রশ্ন করেন আপনি তো তরিকুল ডাক্তারের বাড়িতে ছিলেন। পরে বাড়িতে এসেছেন । এসব কাজ যে সুবহান সাহেবই করেছেন তা আপনি নিশ্চিত হলেন কিভাবে ?  জবাবে  সাক্ষী বলেন, গ্রামে তখন সুবহান সাহেব ও আর্মিরাই ছিলেন।
সাক্ষী বলেন, আমি গ্রামে এসে দেখি আমার গ্রামের হারান ফকির, রাজ্জাক পাগলা ও কেরুকে গ্রামবাসী দাফন করছে। পরে আমি ঐ রাতেই ভারতে চলে যাই। সাক্ষী বলেন, সম্ভবত এই সময়টা হবে এপ্রিলের শেষের দিকে। আমি শিলিগুড়িতে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছি। এর পর  আমরা দেশে এসে বিভিন্ন এলাকাতে যাই। আমি যেখানেই গিয়েছি সেখানেই গিয়ে শুনেছি যে, সুবহান মাওলানাই অনেক লোককে হত্যা করেছে, লুটতরাজ করেছে।
সাক্ষী বলেন, আমার খালাতো ভাই ফজলুকেও যুদ্ধের সময়ে হত্যা করা হয়েছে। ফজলু মুজাহিদ ছিল। সে মটরের (ডাক নাম) সাথে থাকতো। পরে আমার খালা ও খালু পাগল হয়ে গিয়েছিল। আমি এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছেও জবানবন্দী দিয়েছে।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=146866