১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
আজহারের মামলায় ১৩তম সাক্ষী যাদের কাছ থেকে ঘটনা শুনেছেন তারা সবাই মৃত
১৯ মে ২০১৪, সোমবার,
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকার পক্ষের ১৩তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন রংপুর বারের এডভোকেট রথিশ চন্দ্র ভৌমিক। তিনি তার বাবাকে ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ রংপুর শহরের বাড়ি থেকে অপহরণ এবং পরে শ্মশান ঘাটে নিয়ে গুলী করে আহত করার বর্ণনা দিয়েছেন। ঐ গুলীতে ১০ জন মারা যায়। তবে তার পিতা আহত হয়ে প্রাণে বেঁচে যান। এই ঘটনায় পাক বাহিনীর পরিকল্পনার সাথে এটিএম আজহারুল ইসলাম জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে এই ঘটনা তিনি তার পিতা, চাচাসহ যাদের কাছ থেকে শুনেছিলেন তারা কেউই জীবিত নেই। তিনি প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীও নন। ১৯৭১ সালে তার বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর। গতকাল রোববার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে অপর দুই সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ সাক্ষ্য দেন এডভোকেট রথিশ চন্দ্র ভৌমিক। গতকাল বিকেলের সেশনে তার জবানবন্দী শেষে জেরা করেন এটিএম আজহারুল ইসলামের আইনজীবী এডভোকেট আব্দুস সুবহান তরফদার। জেরা অসমাপ্ত থাকায় বাকী জেরার জন্য আজ সোমবার নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। তার জবানবন্দী গ্রহণ করেনÑ প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বল। এছাড়াও প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মাসুম, রেজিয়া সুলতানা চমন উপস্থিত ছিলেন। আসামী পক্ষে আরো উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট রায়হান উদ্দিন ও মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন।
সাক্ষী রথিশ ভৌমিকের জবানবন্দী নি¤œরূপ : আমার নাম এডভোকেট রথিশ চন্দ্র ভৌমিক। আমার বর্তমান বয়স আনুমানিক ৫৫ বছর। আমার ঠিকানা : গ্রাম- বাবুপাড়া, পোঃ আলমনগর, থানা- কোতয়ালী, জেলা- রংপুর।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিল আনুমানিক ১৩ বৎসর। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি আমার বাবা মার সাথে বর্তমান ঠিকানাতেই বসবাস করতাম। আমি তখন পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র ছিলাম। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার পিতা হোমিও ডাক্তার ছিলেন এবং আওয়ামী কৃষক লীগের রংপুর জেলা শাখার সভাপতি ছিলেন।
১৯৭১ সালের ২৭শে মার্চ দুপুর ৩ ঘটিকায় তখন কারফিউ ছিল, পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র সংঘের বিভিন্ন বয়সের লোকজন আমাদের বাড়ি ঘেরাও করে। আমাদের বাড়িটি বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা ছিল বিধায় আমরা আমাদের বাড়ির উঠান থেকে ঐ সমস্ত লোকজনকে দেখতে পাই। তারা আমাদের বাড়ির দরজায় জোরে জোরে নক করে উর্দু ভাষায় জিজ্ঞাস করে ‘ডা. মন্টু ঘরমে হ্যায়’। আমার বাবা সরল বিশ্বাসে বাড়ির দরজা খুলে দেয় এবং আমরা ভাই-বোনরা সকলে দরজার কাছে যাই। আমার বাবার গায়ে গেঞ্জি, পরনে লুঙ্গি এবং পায়ে খড়ম ছিল। তারা বলেন ‘কর্ণেল সাহেব সালাম দিয়্যা হ্যায়’ এবং উর্দুতে এখনি যেতে হবে বলে আমার বাবাকে জানায়। আমার বাবা যে অবস্থায় ছিল সেই অবস্থাতেই তাকে সকলে মিলে ধরে নিয়ে রাস্তায় অপেক্ষমান তাদের গাড়িতে তুলে। রাস্তার অপর পাশে আমার মামা শান্তি চাকিকেও তারা ধরে নিয়ে ঐ গাড়িতে তুলে শহরের দিকে নিয়ে যায়। আমরা বিভিন্ন জায়গায় আমার বাবা ও মামার সন্ধান করি কিন্তু তাদের কোন খোঁজ পাইনি।
১৯৭১ সালের ৩রা এপ্রিল দিবাগত রাত্র আনুমানিক আড়াইটা/তিনটার দিকে দখিগঞ্জ শ্মশানের দিক হতে প্রচ- গোলাগুলির শব্দ শুনতে পাই। ভোর আনুমানিক সাড়ে চারটার দিকে রবার্টসনগঞ্জ এলাকার গোপাল বাবু আমার কাকা মানিক চন্দ্র ভৌমিকের কাছে এসে পরিবারের সকলকে নিয়ে বাড়ি ঘর ছেড়ে নিরাপদ জায়গায় চলে যেতে বলেন। পরমুহূর্তেই আমার কাকা এবং আমাদের পরিবারের সকলে মিলে দুইটি গরুর গাড়িতে করে অযোগ্যাপুর চলে যাই। সেখান হতে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে প্রায় একমাস পরে সিতাই সীমান্ত দিয়ে ভারতের নিউ জলপাইগুড়ি এলাকায় যাই এবং সেখানে আমার মামা দেবু চাকির রেলওয়ে কোয়ার্টারে আশ্রয় নেই। সেখানে আমার বাবার সাথে আমাদের সকলের দেখা হয়। তখন আমার বাবা আমাদের বলে যে, পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা তাকে ধরে ক্যান্টনমেন্টে রাখে। ক্যান্টেনমেন্টে গিয়ে তিনি দেখেন যে একই সেলে রংপুরের বিশিষ্ট বক্তি দূর্গাদাস অধিকারী ও তার ছেলে উত্ত অধিকারীকে। ঐ সময় আমার বাবা জানান যে ১৯৭১ সালের ২৪শে মার্চ দুপুর ৩ ঘটিকায় পাক হানাদার বাহিনী ও দোসররা তাদেরকে তাদের রংপুর শহরের ধাপ নিউ ইঞ্জিনিয়ার পাড়ার বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে ক্যান্টনমেন্টের ঐ সেলে আটক করে রাখে এবং ১৯৭১ সালের ২৭শে মার্চ রংপুরের বিশিষ্ট আয়কর আইনজীবী ও ন্যাপ নেতা এবিওয়াই মাহফুজ আলী জররেজকে তার মুন্সীপাড়া বাসা হতে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা ক্যান্টনমেন্টে ধরে নিয়ে আসে। ঐ একই দিন ধাপ ইঞ্জিনিয়ার পাড়ার খুররম, মহররম, দুলাল এবং খ্রিস্টানদের চার্চ হতে ক্ষিতিশ হালদার ও গোপাল অধিকারীকে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা ধরে এনে ক্যান্টেনমেন্টের একই সেলে রাখে। ঐ সেলে প্রতিরাতেই আমার বাবাসহ আটককৃত সকলকে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংঘের নেতারা, যাদের মধ্যে রংপুর জেলা ও শহর শাখার সভাপতিও ছিলেন, নির্যাতন করতো। ৩রা এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিরাতেই ঐ নির্যাতন চলতে থাকে। ৩রা এপ্রিল দিবাগত রাত আড়াইটা/তিনটার দিকে আমার বাবাসহ সকলকেই হাত পা বেঁধে ক্যান্টনমেন্ট থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে দখিগঞ্জ শ্মশানে নিয়ে যায়। রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা চারিদিক থেকে হাত পা বাঁধা অবস্থায় তাদের উপর ব্রাশফায়ার করে। আমার বাবা শ্মশান ঘাটের দাহ করার বিমের পিছনে থাকায় প্রথম অবস্থায় কোন গুলি লাগেনি। পরে আবার পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা ব্রাশফায়ার করলে জররেজ সাহেবের শরীর ভেদ করে আটটি গুলি আমার বাবার বাম পায়ে ও ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে লাগে। পাক সেনারা ও তাদের দোসররা সবাইকে মৃত ভেবে ঐ স্থান থেকে চলে গেলে আমার বাবা আহত অবস্থায় দেখেন যে, অন্য দশজন সকলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেনÑ আমার মামা শান্তি চাকি, খুররম মহররম, জররেজ সাহেব, দুলাল, দূর্গাদাস অধিকারী, উত্তম অধিকারী, ক্ষিতিশ হালদার, গোপাল অধিকারী ও পাগলা দরবেশ। আমার বাবা আহত অবস্থায় ক্রলিং করে তুত ফার্মের ভিতর দিয়ে এলকাট ল্যাবরেটরীর চীফ কেমিস্ট জাফর আলী সাহেবের রবার্টসনগঞ্জ এলাকার বাসায় যান। জাফর সাহেব তখন আমার বাবার প্রাথমিক চিকিৎসা করেন। পরে জাফর সাহেব ও গোপাল বাবু আমার বাবাকে শাড়ি পরিয়ে ভারতে পাঠিয়ে দেন। আমার বাবা ভারতে গিয়ে কুচবিহার হাসপাতালে চিকিৎসা করেন। সেখানে অস্ত্রপ্রচার করে তার শরীর থেকে গুলি বের করা হয়। পরে তিনি কলকাতাতেও চিকিৎসা করান। আমার বাবা কুচবিহার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন বদরগঞ্জের মজিবর মাস্টার, রংপুর পীরগাছা এলাকার এমএনএ শাহ আব্দুল রাজ্জাক, মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক আনিছুল হক পেয়ারাসহ আমার আত্মীয়-স্বজন যারা হাসপাতালে খোঁজখবর নিতে গিয়েছেন সকলকে বলেন যে ইসলামী ছাত্র সংঘের রংপুর শহর শাখার সভাপতি এটিএম আজহারুল ইসলাম ঐ হত্যাকা- ও নির্যাতনের পরিকল্পনা ও সহায়তা করেছে।
আমার বাবা কলকাতায় চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মার্কিন সিনেটর কেনেডিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের কাছে উক্ত হত্যাকা- ও নির্যাতনের সাথে পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র সংঘের লোকেরা এবং এটিএম আজহারুল ইসলাম জড়িত থাকার কথা বলেন। কলকাতায় চিকিৎসা শেষে আমার বাবা নিউ জলপাইগুড়িতে মামার বাসায় এলে আমি এবং আমাদের পরিবারের সকলের সাথে বাবার দেখা হয়। তখন তিনি উপরে উল্লেখিত ঘটনাগুলো আমাদেরকে বলেন। আমার বাবা ১৯৮৯ সালের ২৯শে নবেম্বর তারিখে মৃত্যুবরণ করেন।
আমি স্বাধীনতার পরে শুনি যে, ৩০শে এপ্রিল ১৯৭১ সালে রংপুর কারমাইকেল কলেজের শিক্ষক কোয়ার্টার হইতে উক্ত কলেজের শিক্ষক কালাচাঁদ বাবু, সুনীল বরণ চক্রবর্তী, চিত্তরঞ্জন রায় এবং রামকৃষ্ণ অধিকারীকে এটিএম আজহারুল ইসলামের পরিকল্পনা ও সহযোগিতায় ধরে দমদমা ব্রীজের নিকট নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। আসামী এটিএম আজহারুল ইসলাম অদ্য ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় উপস্থিত আছেন (সনাক্তকৃত) তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল।
 জেরার বিবরণ
প্রশ্ন-আপনার বাবা-জেঠারা কত ভাই ছিলেন?
উত্তর-দুই ভাই।
প্রশ্ন-১৯৭১ সনে আপনার বাবা- জেঠারা একান্নবর্তী পরিবারে ছিলো?
উত্তর-জি।
প্রশ্ন-আপনারা কত ভাই- বোন ছিলেন?
উত্তর- তখন ৬ ভাই- বোন ছিলাম।
প্রশ্ন-আপনার চাচাতো ভাই- বোন কতজন ছিল?
উত্তর-ওরাও ৪ জন ছিলেন।
প্রশ্ন-আপনার কাকা কখন মারা যান?
উত্তর-এখন থেকে ৬ মাস আগে।
প্রশ্ন-আপনারা ৬ ভাই- বোনের মধ্যে কত ভাই কত বোন ছিলেন?
উত্তর-৩ ভাই ৩ বোন।
প্রশ্ন-ভাইদের মধ্যে সবার বড় কে?
উত্তর-আমি।
প্রশ্ন-আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র আছে?
উত্তর-জি।
প্রশ্ন- সেখানে আপনার জন্ম তারিখ কত আছে?
উত্তর-১০/৬/১৯৬০।
প্রশ্ন- ভোটার তালিকাতেও আপনার জন্ম তারিখ একই আছে?
উত্তর-জি।
প্রশ্ন-১৯৭১ সালে আপনার বয়স ১৩ বছর ছিল। এটা সত্য নয়।
উত্তর-জি।
প্রশ্ন-আপনি ১৯৭১ সালে ৫ম শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন কোন স্কুলে?
উত্তর-রংপুর রাজহাট হাই স্কুলে ৫ম শ্রেণীর ছাত্র ছিলাম।
প্রশ্ন-ঐ স্কুলের হেড মাস্টার তখন কে ছিলেন?
উত্তর-হাই স্কুলের হেড মাস্টার ছিলেন ইয়াহিয়া সাহেব।
প্রশ্ন-১৯৭১ সালে আপনি কোন রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না।
উত্তর-জি।
প্রশ্ন-আপনার কাকা ১৯৭১ সালে কি করতো?
উত্তর-মডার্ন সাইকেল স্টোর নামক একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত ছিলেন।
প্রশ্নÑ আপনার চাচাতো ভাই-বোনদের মধ্যে কেউ কি স্কুলে যেতো?
উত্তর-রতন যেত স্কুলে। সে তখন ক্লাস ওয়ানের ছাত্র ছিল।
প্রশ্ন-জকিগঞ্জ শ্মশানঘাট থেকে আপনার বাড়ি বাবুপাড়ার বাড়ি কোন দিকে কত দূরে?
উত্তর-আড়াআড়ি দক্ষিণ দিকে হাফ কিঃ মিঃ
প্রশ্ন-ঐ শ্মশান ঘাট থেকে আপনার বাড়ি পর্যন্ত ১৯৭১ সালে কি কোন পাকা রাস্তা ছিল?
উত্তর- আমার স্মরণ নেই।
প্রশ্ন-আপনাদের বাসা থেকে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট কোন দিকে, কত  দূরে?
উত্তর-আনুমানিক ৫ কি: মি: পশ্চিমে।
প্রশ্ন-১৯৭১ সালে আপনাদের বাড়ি থেকে ক্যান্টনমেন্ট পর্যন্ত পাকা রাস্তা ছিল না।
উত্তর-আমার যতদূর স্মরণ হয় তাতে পাকা রাস্তা ছিল।
প্রশ্ন- ১৯৭১ সালে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠ্য পুস্তকে উর্দু ভাষার শিক্ষা দেয়া হতো না।
উত্তর-সত্য নয়।
প্রশ্ন-১৯৭১ সালে আপনাদের বাসার কোন দিকে কাদের বাড়ি ছিল।
উত্তর- উত্তর দিকে রাস্তার ওপারে আমার মামা শান্তি চাকি, পূর্ব দিকে আমিনুল ইসলাম, দক্ষিণ দিকে অনন্ত বর্মন এবং পশ্চিম দিকে সাত্তার, ইসমাইলদের বাড়ি ছিল।
প্রশ্ন-আপনার মামার ছেলে- মেয়ে ক’জন ছিল। তাদের মধ্যে আপনার বড় কেউ ছিল?
উত্তর-৫ জন। মামাতো বোন গোপালী আমার থেকে ৬ মাসের বড় ছিল।
প্রশ্ন-আমিনুল ইসলামের কত ছেলে- মেয়ে ছিল?
উত্তর-২ জন ছেলে- মেয়ে ছিল।
প্রশ্ন-অনন্ত বর্মনের কত ছেলে- মেয়ে ছিল?
উত্তর-২ ছেলে।
প্রশ্ন-ইয়াছিন আলীর ছেলে- মেয়ে ক’জন ছিল?
উত্তর-৭ ছেলে- মেয়ে ছিল।
প্রশ্ন- আপনাদের বাড়ির আশপাশের ঐসব ছেলে-মেয়েরা এখন কেউ জীবিত আছেন?
উত্তর-অনেকেই জীবিত আছে। শান্তি চাকি, আমিনুল ইসলাম, অনন্ত বর্মন ও ইয়াছিনের ছেলে-মেয়েরা অনেকেই জীবিত আছে।
প্রশ্ন-এদের মধ্যে  কেউ এই মামলায় সাক্ষী নেই।
উত্তর-আমার জানা নেই।
প্রশ্ন-আপনার ভাই- বোনদের মধ্যে কেউ এই মামলার সাক্ষী আছে?
উত্তর-ছোট ভাই প্রশান্ত ভৌমিক সাক্ষী আছে।
প্রশ্ন-১৯৭১ সালে বাবুপাড়া এলাকাটি রংপুর পৌরসভার মধ্যে ছিল।
উত্তর-জি।
প্রশ্ন-১৯৭১ সালে আপনার মা-বাবা, ভাই-বোন সকলেই জীবিত ছিলেন।
উত্তর-জি।
প্রশ্ন-১৯৭২-১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর সরকারের সময়ে  ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ আপনার বাবাকে ধরে নিয়ে যাওয়া ও গুলী করার বিষয়ে থানা বা কোর্টে কোন মামলা বা জিডি করেছিলেন?
উত্তর-আমার স্মরণ নেই।
প্রশ্ন-আপনি কখন আইন পেশায় যোগদান করেন?
উত্তর-১/১/১৯৯০ তারিখে রংপুর বারে যোগদান করি।
প্রশ্ন-১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। তারা ৫ বছর ক্ষমতায় ছিল।
উত্তর-জি।
প্রশ্ন-ঐ বছর কি আপনি কোন মামলা বা জিডি করেছিলেন?
উত্তর-স্মরণ নেই।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=146674