২৪ জানুয়ারি ২০২০, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে পঞ্চম সাক্ষীর জেরা শেষ ষষ্ঠ সাক্ষী মঙ্গলবার
১৬ মে ২০১৪, শুক্রবার,

জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের পঞ্চম সাক্ষী ইসরাইলকে আসামীপক্ষের জেরা শেষ হয়েছে। গতকাল বৃহস্প্রতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এই সাক্ষীকে জেরা করেন মাওলানা সুবহানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম। জেরা শেষে ষষ্ঠ সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণের জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন ধার্য করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার মাওলানা আবদুস সুবহানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। গতকাল ডিফেন্স আইনজীরীর জেরার জবাবে সাক্ষী ইসরাইল বলেন, ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিলে আমার চাচাকে হত্যা করার ঘটনা ছাড়া আগে পরের আর কোন ঘটনাই আমার মনে নেই। এছাড়া  আমার বর্ণিত ১৩ এপ্রিল ছাড়া এর আগে বা পরে আমাদের এলাকাতে পাক আর্মি এসেছিল কিনা বা কোন আক্রমণ করেছিল কিনা তা আমার স্মরণে নেই। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে এই সাক্ষীর গ্রামে মুক্তিযোদ্ধারা গিয়েছিল কিনা তাও তার স্মরণে নেই বলে জেরার জবাবে জানান এই সাক্ষী।
এদিকে গতকাল ট্রাইব্যুনাল-২ সাবেক কৃষিপ্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মো: কায়সারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন এ মামলায় প্রসিকিউশনের ১৩ তম সাক্ষী গোলাম নূর। তার পিতার নাম গোলাম রসুল। এই সাক্ষী ১১ নং অভিযোগের উপরে তার বক্তব্য দিয়েছেন।  ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেয়ার পরে তাকে জেরা করেন ডিফেন্স আইনজীবী  এডভোকেট এস এম শাহজাহান।
গতকালের জেরার উল্লেখযোগ্য অংশ
প্রশ্ন: আপনার বর্ণিত চাচার লাশ কোথায় দাফন হয়েছিল ?
 উত্তর: মনে পড়ছে না। তবে আমার চাচী বলেছেন সারা গ্রামের গোপালপুরে  চাচার লাশ দাফন হয়েছিল।
প্রশ্ন: দেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই আপনার চাচা তার শ্বশুরবাড়িতে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেছিলেন?
 উত্তর: সত্য নয়।
প্রশ্ন: আপনার ছেলে মেয়ে কয়জন?
উত্তর: ছেলে নেই তবে মেয়ে আছে।
প্রশ্ন: তারা কোথায় থাকেন?
উত্তর: তারা সারা গ্রামের গোপালপুরেই থাকে।
প্রশ্ন: আপনার চাচা তাইজুদ্দিন তিনিও ১৯৭১ সালে ঐ গ্রামেই থাকতেন কি?
উত্তর: হ্যাঁ, সত্য।
প্রশ্ন: চাচার কবর কি কখনো দেখেছেন?
উত্তর: ঐ সময়ে দেখিনাই। তবে স্বাধীনের পরে দেখেছি।
প্রশ্ন:১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিলের মনোহরপুর গ্রামে কি ঘটেছিল তা কি আপনার মনে আছে?
উত্তর: না, মনে নেই।
প্রশ্ন: আপনার এলাকাতে স্বাধীনতার পক্ষে বিপক্ষে কারা ছিল তা কি মনে আছে?
উত্তর: না, তা আমার স্মরণে নেই।
প্রশ্ন: ১৯৭১ সালের  ১৩ এপ্রিলের আগে বা পরে আর কখনোই আপনি  আপনাদের গ্রামে পাক আর্মিদের  দেখেননি।
উত্তর: হ্যাঁ, সত্য।
প্রশ্ন: জয়নুদ্দিনের বাড়ি আপনার বাড়ি থেকে কতদূরে ?
উত্তর: এক- দেড় কিলো হবে।
প্রশ্ন: রুস্তমকে আপনি কবে থেকে চিনতেন ?
উত্তর: রুস্তম জয়নুদ্দিনের দোকানে চাকুরি করতো । সেই সুবাধে তাকে আমি চিনতাম।
প্রশ্ন: আপনার বর্ণিত মতে যুদ্ধকালীন সময়ে ১৩ এপ্রিল ছাড়া আর কখনোই আপনি রুস্তককে দেখেননি।
উত্তর: হ্যাঁ, সত্য।
প্রশ্ন:  আহত অবস্থায় তরিকল ডাক্তারের বাড়িতে আপনারা কে কে চিকিৎসা নিয়েছিলেন ? উত্তর: আমি, আমার মা, ভাই ও রুস্তম।
প্রশ্ন: এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আপনি কবে কখন কোথায় সাক্ষ্য জবানবন্দি দিয়েছেন ?
উত্তর: বছর খানেক আগে আমাদের এলাকাতেই একটি প্রাইমারী স্কুলে বসে জবানবন্দি দিয়েছি।
প্রশ্ন: জবানবন্দি দেয়ার সময়ে আপনার সাথে আর কে কে ছিলো ?
উত্তর: আমার সাথে রুস্তমও ছিল। সেও জবানবন্দি দিয়েছে।
প্রশ্ন: আপনার জন্ম স্বাধীনের ৫/৬ বছর আগে হয়েছে।
উত্তর: সত্য নয়।
প্রশ্ন: আপনার ইংরেজি বছর বা তারিখ বিষয়ে কোন ধারনা নেই।
 উত্তর: হ্যাঁ সত্য।
প্রশ্ন: ইংরেজি তারিখ উল্লেখ করে ট্রাইব্যুনালে আপনি মাওলানা সুবহান সাহেবকে জড়িয়ে যে জবানবন্দি দিয়েছেন তা শেখানো মতে অসত্য বক্তব্য দিয়েছেন ।
উত্তর: সত্য নয়।
প্রশ্ন: মাওলানা সুবহান সাহেব পাক আর্মিদের দিয়ে আক্রমন চালিয়েছেন এবং নির্যাতন চালিয়েছেন এসব তথ্য ও আপনার বক্তব্য অসত্য বানোয়াট এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
উত্তর: সত্য নয়।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=146361