২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে চতুর্থ সাক্ষীর জেরা শেষ আজ পঞ্চম সাক্ষীর জেরা
১৫ মে ২০১৪, বৃহস্পতিবার,
জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের চতুর্থ সাক্ষী রুস্তম আলীকে আসামীপক্ষের জেরা শেষ হয়েছে। গতকাল বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এই সাক্ষীকে জেরা করেন মাওলানা সুবহানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম। জেরা শেষে পঞ্চম সাক্ষী মোঃ ইসরাইলের জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার এই সাক্ষীকে আসামীপক্ষের জেরার দিন ধার্য করা হয়েছে।
গতকাল আসামীপক্ষের জেরার জবাবে সাক্ষী রুস্তম আলী বলেন, আমি লেখাপড়া জানি না। এটা সত্য যে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান আর্মি পাকশি এলাকায় আসার দুই বা তিনদিন বিহারী ও বাঙ্গালীদের মধ্যে দাঙ্গা হয়। এটা সত্য নয় যে ওই দাঙ্গায় ব্যাপক সংখ্যক বিহারী নিহত হয়।
১৯৭১ সালে পাকশি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন ইউসুফ সাহেব তিনি জামায়াত করতেন। এটা সত্য যে, আমাদের এলাকার রাজাকার আল-বদর কারা ছিল তা আমি শুনিনি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যুক্তিতলা এলাকা বা পার্শ¦বর্তী এলাকায় স্বাধীনতা বিরোধীদের বিরুদ্ধে কোন মামলা হয়েছিল বা কেউ আটক হয়েছিল কি না তা আমি জানি না। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমার বিরুদ্ধে অত্যাচারের জন্য থানা বা আদালতে আমি নিজেও  মামলা করিনি।
এটা সত্য নয় যে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী আমাদের যুক্তিতলা এলাকায় প্রবেশের পর বিহারীরা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে ছিল। আমি মেজর জয়তুনের নাম শুনেছি কিন্তু তাকে আমি চিনতাম না। আমি দেশ স্বাধীন হওয়ার মাস খানিক পরে জয়নুদ্দীন এর ভাইয়ের বাড়ী হতে নিজ পৈত্রিক বাড়ী যুক্তিতলায় ফিরে আসি। আমি আহত হওয়ার পূর্বে জয়নুদ্দিন সাহেবের বাড়ীতে থাকতাম। জয়নুদ্দিন-এর ৫ ছেলে এখনো জীবিত আছে এবং তারা যুক্তিতলাতেই থাকে। আমার জবানবন্দীতে বর্ণিত সারাঘাট কার নিকট থেকে টাকা আদায় করার জন্য গিয়েছিলাম তা মনেই নেই।
সাক্ষী জেরার জবাবে আরো বলেন, ১৯৭০ সালে নির্বাচন সম্পর্কে আমার কোন ধারণা নেই। আমি তখন ভোটার ছিলাম না। আমি লেখাপড়া জানি না। ৭১ সালের বছর তিনেক আগে থেকেই জয়নুদ্দিনের রেশনের দোকানে কাজ করতাম। ইহা সত্য যে, পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ঈশ্বরদী ও পাকশী এলাকায় প্রবেশ করার ২/৩ দিন পূর্বে বিহারীরা নিহত হয়েছিল। পাকিস্তান সেনাবাহিনী প্রথম ১৩ই এপ্রিল আমাদের এলাকায় আসে। যুক্তিতলা গ্রামটি পাকশী ইউনিয়ন এর আওতাধীন। ১৯৭১ সালে পাকশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন ইউসুফ সাহেব, উনি জামায়াতে ইসলামী করতেন। ঈশ্বরদী এলাকায় বিহারী নেতা নেছার আহমেদ এর নাম শুনিনি।
ইহা সত্য যে, আমাদের এলাকায় রাজাকার আলবদর কারা ছিল তা আমি জানি না। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যুক্তিতলা ইউপির স্বাধীনতা বিরোধীরা আমার ওপর নির্যাতন হওয়ার পরে আমার ওপর নির্যাতন এর অভিযোগ থানা বা আদালতে আমি মামলা করতে যাইনি। (নিজে বলেন) তবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বরের নিকট অভিযোগ করেছিলাম। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পরই কালাম চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করেছিলাম। বর্ণিত কালাম কিসের চেয়ারম্যান ছিল তা আমি বলতে পারবো না। ইহা সত্য নয় যে, পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ঈশ্বরদী ও পাকশী এলাকায় প্রবেশের পর বিহারীরা আমাদের যুক্তিতলা  গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। আমি মেজর জয়তুনের নাম শুনেছিÑ কিন্তু তাকে আমি চিনতাম না। আমার জানা নাই যে, জয়নুদ্দিন তার পিতার একমাত্র পুত্র সন্তান কিনা।
 জেরার জবাবে সাক্ষী বলেন, যুক্তিতলা থেকে সারাঘাট গ্রামটি উত্তর দিকে মাইল তিনেক দূরে। যুক্তিতলা থেকে গোপালপুর গ্রামটি কতদূরে এ সম্পর্কে আমার কোন ধারণা নেই। বাঘইল ও যুক্তিতলা গ্রাম দুটি পাশাপাশি। আমার জবানবন্দীতে বর্ণিত হালিমের পিতার নাম আমার এই মুহূর্তে স্মরণ নাই। ইহা সত্য নয় যে, মাওলানা সুবহানকে এই ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেয়ার পূর্বে আমি কখনো দেখিনি। ওনাকে চিনতাম  কারণ উনি দাড়িপাল্লা মার্কায় ভোট চাওয়ার জন্য আমাদের এলাকায় বাড়ি বাড়ি যেতেন। তবে ১৯৮৬ সালের নির্বাচনের সময় গিয়েছিলেন কি না তা এই মুহূর্তে আমার স্মরণ নাই। ১৯৮৬ সালে এদেশে কোন নির্বাচন হয়েছিল কিনা তা আমার স্মরণ নাই। মাওলানা সুবহান ছাড়া অন্য কোন দলের ব্যক্তি ভোট চাইতে আমার এলাকায় গিয়েছিল কিনা তা আমার স্মরণ নাই।
সাক্ষী বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা বছর খানেক পূর্বে আমাদের গ্রামের একটি চায়ের দোকানে আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন। গতকাল ইংরেজি মাসের কত তারিখ ছিল তা আমি বলতে পারবো না। ইহা সত্য নয় যে, আমার বর্ণিত ১৩ এপ্রিল এর সংঘটিত ঘটনায় আমি ইসরাইল তার মা টুলু বেগম আহত হওয়ার সাথে এবং জয়নুদ্দীন তার জামাই হারেজ উদ্দিন ও ইসমাইলকে হত্যার বিষয়ে মাওলানা সুবহানকে জড়িয়ে যে বক্তব্য দিলাম তা অসত্য।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=146267