৯ এপ্রিল ২০২০, বৃহস্পতিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে তৃতীয় সাক্ষীকে জেরা শেষ চতুর্থ সাক্ষীর জেরা কাল
১৩ মে ২০১৪, মঙ্গলবার,

একাত্তরে সংঘটিত কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুস সুবহানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের তৃতীয় সাক্ষী আবু আসাদকে জেরা শেষ করেছে ডিফেন্স পক্ষের আইনজীবী। গত সপ্তাহে ট্রাইব্যুনালে এই সাক্ষী তার জবানবন্দী পেশ করেছিলেন। গতকাল সোমবার ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীকে জেরা করেন ডিফেন্স আইনজীবী এডভোকেট মিজানুল ইসলাম। আগামীকাল বুধবার এই ট্রাইব্যুনালে মামলার চতুর্থ সাক্ষীকে জেরা করবে ডিফেন্স পক্ষ।
সাক্ষীর জেরার উল্লেখযোগ্য অংশ
প্রশ্ন: আপনার কাছে কি এসএসসি পাশের সার্টিফিকেট আছে?
উত্তর: হ্যাঁ, আছে। তবে কাছে নেই বাড়িতে আছে।
প্রশ্ন: আপনার জন্ম তারিখ ১৮/০৮/১৯৫৬ তারিখ?
উত্তর: সত্য নয়।
প্রশ্ন: ভোটার আইডিকার্ডে আপনার দেয়া তথ্যমতেই জন্ম তারিখ লেখা হয়েছ।
উত্তর: হ্যাঁ সত্য।
প্রশ্ন: আপনার বর্ণিত যুদ্ধকালে শাহাপুর গ্রামে অপারেশনে আপনার সাথে আর কে কে ছিল?
উত্তর: কারো নাম মনে নেই।
প্রশ্ন: স্বাধীনতার পরে কি আর কখনো ঐ গ্রামে গিয়েছিলেন?
উত্তর: না; আর কখনো যাইনি।
প্রশ্ন: ১৯৭১ সালের ১৫ এপ্রিলের পরে আপনি কি মুলাডুলির বেতবাড়িয়া ও আরংবাড়িয়াতে গিয়েছিলেন ?
উত্তর: আড়ংবাড়িয়াতে গিয়েছি, বেতবাড়িয়াতে যাইনি।
প্রশ্ন: ঐ দুটি গ্রামে কি ধরনের ক্ষতি হয়েছিল এবং সেখানে কারা কারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল?
উত্তর: বেতবাড়িয়াতে কোন ধরনের ক্ষতি হয়নি। আর আড়ংবাড়িয়াতে কারা কারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল তা মনে নেই। কারণ আমি গ্রামের ভেতরে যাইনি, কোন বাড়িতেও প্রবেশ করিনি।
প্রশ্ন: আপনার দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম রোকেয়া?
উত্তর: সত্য নয়।
প্রশ্ন: আপনার একটি ছেলের নাম আবু সাঈদ খোকন?
উত্তর: হ্যাঁ সত্য।
প্রশ্ন: আপনার ছেলে আবু সাঈদ খোকনের মায়ের নাম রোকেয়া বেগম?
উত্তর: হ্যাঁ সত্য।
প্রশ্ন: আপনি তাকে ৭১ সালে বিয়ে করেছেন?
উত্তর: ৭৩ সালের দিকে হবে।
প্রশ্ন: স্বাধীনের পরে আপনার আব্বা সন্ত্রাসীদের আক্রমনে আহত হন এবং তার একটি হাত কাটা পড়ে?
উত্তর: সত্য নয়।
প্রশ্ন: সরকারী লোকজন আপনাকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় না অন্তর্ভুক্তির প্রলোভন দেখিয়ে এই মামলায় সাক্ষ্য দিতে বলেছে।
উত্তর: সত্য নয়।
প্রশ্ন: আপনি এই মামলায় যেসব সাক্ষ্য দিয়েছেন তা অসত্য সাজানো ও মাওলানা সুবহান সাহেবকে জড়িয়ে যা বলেছেন তা অসত্য।
উত্তর: আমি যা বলেছি তা সবই সত্য।
প্রশ্ন: যুদ্ধকালে আপনি জামাত আলীর মেয়ে রাখি বেগমকে জোর করে বিয়ে করেছেন?
উত্তর: সত্য নয়।
প্রশ্ন: আপনার এলাকায় আপনি মটর ডাকাত নামে পরিচিত।
উত্তর: সত্য নয়, তবে আমি এলাকায় মটর নামে পরিচিত। এটা আমার ডাক নাম।
কায়সারের বিরুদ্ধে ১২তম
সাক্ষীকে জেরা
এদিকে অপর এক মামলায় আটক সাবেক কৃষি প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১২তম সাক্ষী মুক্তিযোদ্ধা গৌর প্রসাদ রায় (৬৯)কে জেরা করেছে ডিফেন্স পক্ষ।
গত ১১ মে ট্রাইব্যুনালে দেয়া জবানবন্দীতে এই সাক্ষী বলেছিলেন  মুক্তিযুদ্ধের সময় শোয়েস্তাগঞ্জ খাদ্য গুদাম থেকে ধরে আনা সাত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে খোয়াই নদীর পাড়ে এক সাঁড়িতে দাঁড় করানো হয়। সৈয়দ কায়সার হাতে ইশারা করার সঙ্গে সঙ্গে  পাক সেনারা তাদের গুলী করে হত্যা করে। জবানবন্দী দেয়ার সময় প্রসিকিউটর রানাদাশ গুপ্ত সাক্ষীকে সহযোগিতা করেন। পরে গত রোববারই সাক্ষীকে জেরা শুরু করেন আসামি পক্ষের কনিষ্ঠ আইনজীবী সাজ্জাদ এ চৌধুরী। জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় গতকাল সোমবার পর্যন্ত মুলতবী করা হয়।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=146074