১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা ইউসুফের বিরুদ্ধে মামলা সমাপ্তি ঘোষণা
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, বৃহস্পতিবার,
জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির ও বিশিষ্ট হাদিস বিশারদ মাওলানা আবুল কালাম মুহাম্মদ (এ কে এম) ইউসুফের মৃত্যু হওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলাটি সমাপ্ত ঘোষণা করে নিষ্পত্তির আদেশ দেন।
আদেশে ট্রাইব্যুনাল বলেন, মামলার একমাত্র আসামি মাওলানা এ কে এম ইউসুফ মৃত্যুবরণ করেছেন। এই মামলায় অন্য কোনো আসামি থাকলে তাদের বিচার চালিয়ে নেয়া যেত। কিন্তু আসামি মাওলানা এ কে এম ইউসুফের মৃত্যুতে মামলার কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করা হলো। গত ৯ ফেব্রুয়ারি মাওলানা এ কে এম ইউসুফ কারা হেফাজতে মৃত্যুবরণ করায় আমরা আইনিভাবে এই মামলা সমাপ্ত ঘোষণা করছি এবং সব কার্যক্রম বন্ধ করছি। এই আদেশের মাধ্যমে মামলাটি নিষ্পত্তি করা হলো। অপর এক আদেশে ট্রাইব্যুনাল মাওলানা ইউসুফের লাশের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আদালতে উপস্থাপনের আদেশ দেন। আদালত আইজি প্রিজনকে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশ দিয়ে বলেন, আমরা দেখব স্বাভাবিক মৃত্যু কি না। অন্যভাবে মৃত্যু হয়ে থাকলে আমরা ব্যবস্থা নেবো।
আদালত আদেশে আরো বলেন, ট্রাইবু্যুনালে উপস্থাপিত প্রসিকিউশনের সাক্ষী অনেক অপরাধমূলক ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। আসামিপক্ষেও সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। তারপরও আসামিকে আমরা দোষী কিংবা নির্দোষ ঘোষণা করছি না। তার বিরুদ্ধে সাজাও দেয়নি এবং খালাসও ঘোষণা করছি না। কারণ ভিকটিমরা প্রকৃতপক্ষে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অভিযুক্ত মাওলানা এ কে এম ইউসুফও ন্যায় বিচার পেতে পারতেন।
ট্রাইব্যুনালের আদেশের পর প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, ট্রাইব্যুনাল মাওলানা এ কে এম ইউসুফের মামলা নিষ্পত্তি করেছেন। তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। এজন্য মামলা আর চলমান থাকবে না। তবে মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ রেকর্ডে থাকবে।
অপর দিকে মাওলানা ইউসুফের আইনজীবী সাইফুর রহমান বলেন, আমরা সব সময় বলেছি এরকম বয়স্ক ও অসুস্থ একজন ব্যক্তির ট্রায়াল করা সম্ভব নয়। এজন্য আমরা বারবার তার জামিন চেয়েছি। কিন্তু জেল কর্তৃপক্ষ তার শারীরিক অবস্থা ঠিক আছে বলে রিপোর্ট দেয়ার কারণে জামিন হয়নি। কারা হেফাজতে মৃত্যুর কারণে তার মামলা সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে মাওলানা ইউসুফ আল-কুরআন ও হাদিসের ওপর যেসব গ্রন্থ রচনা করেছেন সেজন্য তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন।  
গতকাল সকালে ইউসুফকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় ঘোষণার আবেদন করেন প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী। তিনি বলেন, ইউসুফকে দোষী সাব্যস্ত করে একটা রায় অথবা কমপক্ষে একটা পর্যবেক্ষণ থাকা উচিত। কারণ এটা সাধারণ কোনো দাবি নয়। এটা মানবতার ও ইতিহাসের দাবি।
অপর দিকে ট্রাইব্যুনালের আহ্বানে সিনিয়র আইনজীবী আবদুস সোবহান তরফদার আদালতকে বলেন, আমাদের দেশের ফৌজদারি আইন এবং কাস্টোমারি আইনে আসামি মারা যাওয়ার পর বিচারের বিধান নেই। আর ট্রাইব্যুনাল আইনে আসামি মারা যাওয়ার পর তাকে দোষী বা নির্দোষ সাব্যস্ত করা হবে কি না, সে বিষয়ে কিছু বলা নেই। রাষ্ট্রপক্ষের দাবির কারণে যেন আদালত বিব্রত না হয় সে ব্যাপারে খেয়াল রাখা উচিত।
তবে অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান বলেন, একজন আসামি মৃত্যুবরণ করার পর তাকে নির্দোষ ঘোষণা করার এ সাধারণ নীতিটি মানা উচিত।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাবন্দী মাওলানা এ কে এম ইউসুফ (৮৮) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায়  ইন্তেকাল করেন। তিনি কাশিমপুর কারাগার-১ এ বন্দী ছিলেন।
মাওলানা ইউসুফের মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ১২ ও ১৩ ফেব্রুয়ারি বুধ ও বৃহস্পতিবার মামলার শেষ রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য ছিল। গত ৫ ফেব্রুয়ারি আসামিপক্ষের একমাত্র ডিফেন্স সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন মাওলানা ইউসুফের বড় ছেলে এ কে এম মাহবুবুর রহমান। এর আগে মাওলানা ইউসুফের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষের ২৭ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।
গত ৩০ জানুয়ারি মাওলানা ইউসুফের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো: হেলাল উদ্দিনকে আসামিপক্ষের জেরা শেষে তিনজন ডিফেন্স সাক্ষী দেয়ার অনুমতি দেন ট্রাইব্যুনাল। গত ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন দিন ডিফেন্স সাক্ষীদের সাক্ষ্য দেয়ার দিন ধার্য করা হয়। গত ১ আগস্ট মাওলানা এ কে এম ইউসুফের বিরুদ্ধে একাত্তর সালে সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ গঠন করা হয়। তার বিরুদ্ধে ১৩টি অপরাধের ঘটনা আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। গত বছরের ১২ মে ট্রইব্যুনালের আদেশে ধানমন্ডির বাসা থেকে মাওলানা এ কে এম ইউসুফকে গ্রেফতার করা হয়। গত ৮ মে মাওলানা এ কে এম ইউসুফের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। গত ২২ এপ্রিল মাওলানা এ কে এম ইউসুফের বিরুদ্ধে তদন্ত চূড়ান্ত করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
http://www.dailynayadiganta.com/details.php?nayadiganta=MTY2MTc=&sec=1