১৫ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শেষ, ৪ ফেব্রুয়ারি ডিফেন্স সাক্ষ্যগ্রহণ: মাওলানা ইউসুফের পক্ষে সাক্ষী তিনজন
৩১ জানুয়ারি ২০১৪, শুক্রবার,
জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আবুল কালাম মুহাম্মদ (এ কে এম) ইউসুফের পক্ষে তিনজনকে সাক্ষ্য দেয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে। আগামী ৪ থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন দিন ডিফেন্স সাক্ষীদের সাক্ষ্য দেয়ার দিন ধার্য করা হয়েছে। গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলার তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শেষে ডিফেন্স সাক্ষ্যের জন্য এই সূচি ধার্য করে দেন।
গতকাল মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে আসামিপক্ষের জেরা শেষে আসামিপে ৫৬ জন সাীর তালিকা থেকে তিনজনকে স্যা দেয়ার অনুমতি দেয়ায় তাদের স্যা গ্রহণের জন্য ট্রাইব্যুনাল আগামী ৪, ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারণ করে দেন। মাওলানা এ কে এম ইউসুফকে ওই তিন দিন ট্রাইব্যুনালে হাজির থাকতে হবে বলে মৌখিকভাবে জানিয়ে দেন ট্রাইব্যুনাল। 
তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শেষে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান মাওলানা ইউসুফের সাথে কথা বলেন এবং তার শারীরিক অবস্থা জানতে চান। জবাবে মাওলানা ইউসুফ বলেন, শরীর ভালো না। এরপর বিচারপতি বলেন, ঠাণ্ডা কমেছে। ঠাণ্ডা ও অসুস্থতার কারণে আপনাকে সাত দিন ট্রাইব্যুনালে না আসার অনুমতি দিয়েছি। সামনে তিন দিন আসতে হবে। আপনার পক্ষে ডিফেন্স সাক্ষী সাক্ষ্য দেবে। আপনার শোনা জরুরি। জবাবে মাওলানা ইউসুফ বলেন, তারিখ একটু দেরিতে দেয়া যায় কি না।
এরপর বিচারপতি ওবায়দুল হাসান মাওলানা ইউসুফের কাছে জানতে চান মালেক মন্ত্রিসভায় আপনারা কতজন ছিলেন? জবাবে মাওলানা ইউসুফ বলেন, কতজন ছিলাম মনে নেই।
বিচারপতি প্রশ্ন করেন, আপনি কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন? জবাবে মাওলানা ইউসুফ বলেন, রাজস্বতে ছিলাম। ট্রাইব্যুনাল প্রশ্ন করেন, কত তারিখে ও কোথায় আপনারা আত্মসমর্পণ করেন? জবাবে মাওলানা ইউসুফ বলেন, ঠিক মনে করতে পারছি না। তবে ১৪ ডিসেম্বর হতে পারে। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল।
বিচারপতি প্রশ্ন করেন, পদত্যাগের জন্য ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত কেন অপেক্ষা করলেন না? জবাবে মাওলানা ইউসুফ বলেন, তখনকার পরিস্থিতির কারণে। ট্রাইব্যুনাল আরো জানতে চান, মালেক সাহেব দাঁতের ডাক্তার ছিলেন কি না? জবাবে মাওলানা ইউসুফ বলেন, মনে নেই। এরপর ট্রাইব্যুনাল বলেন, একটু কষ্ট হলেও আপনাকে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি তারিখে ট্রাইব্যুনালে আসতে হবে।
এর আগে মাওলানা ইউসুফের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো: হেলাল উদ্দিনকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম।
জেরার জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, চুলকাঠী বাজার হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত জনৈক খলিল কর্তৃক বাগেরহাট থানায় দায়েরকৃত ১৫(৭) ২০০৯ নম্বর মামলায় এ কে এম ইউসুফকে জড়িয়ে কোনো অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না আমার জানা নেই। চুলকাঠী বাজার হত্যাকাণ্ডের সময় রাজাকারদের মধ্যে পাঞ্জাবি পরিহিত মুখে সামান্য দাড়িওয়ালা কোনো রাজাকারের উপস্থিতি সম্পর্কে আমি কোনো বর্ণনা কোনো সাক্ষীর কাছ থেকে পাইনি।
এটা আমার রেকর্ডে নেই, শাঁখারীবাড়ি রাজাকার হত্যাকাণ্ডসংক্রান্ত কচুয়া থানায় দায়েরকৃত ৬(৫) ২০০৯ মামলায় আসামি মাওলানা এ কে এম ইউসুফের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল কি না।
১৯৭১ সালে সংঘটিত ঘটনাগুলোর তদন্তের জন্য ১৯৭২ সালে থানা পর্যায়ে সিও ডেভকে আহ্বায়ক ও সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে সদস্যসচিব করে কমিটি গঠন হয়েছিল মর্মে তদন্তকালে আমি তথ্য পাইনি।
আমার জানা নেই, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সারা দেশে সংঘটিত অপরাধ  তদন্তের জন্য তৎকালীন অতিরিক্ত আইজিপি আবদুর রহিম সাহেবকে আহ্বায়ক করে কোনো কমিটিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল কি না। আমি মেজর (অব:) এ এস এম শামসুল আরেফিন সাহেবকে চিনি। তার লেখা বই বাংলাদেশ ডকুমেন্টস তদন্তকালে পর্যালোচনা করেছি কি না তা এ মুহূর্তে মনে নেই।
এটা আমার জানা নেই, ১৯৭৩ সালের শেষ দিকে মাওলানা ইউসুফকে দালাল আইনে রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও অন্যান্য অভিযোগে সাজাপ্রাপ্তদের সাধারণ ক্ষমার আওতায় মুক্তি দেয়া হয়েছিল কি না। এটা সত্য নয় যে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মাওলানা এ কে এম ইউসুফ সাহেব কখনো বাগেরহাটে জাননি বলে আমি তদন্তে পেয়েছি।
এটা সত্য নয় যে, আমি আমার তদন্তকালে ১৯৭১ সালে সংঘটিত অপরাধগুলোর অভিযোগে বাগেরহাটে অনেক মামলা হলেও কোনো মামলাতেই মাওলানা ইউসুফ সাহেবের সম্পৃক্ততা না থাকায় আমি সেই মামলাগুলো সম্বন্ধে তদন্ত করিনি বলে তদন্তে উল্লেখ করেছি। এটা সত্য নয় যে, রাজনৈতিক কারণে সরকারের নির্দেশে আমি মাওলানা ইউসুফ সাহেবের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছি।
http://www.dailynayadiganta.com/details.php?nayadiganta=MTM1MTM=&sec=16