১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা ইউসুফের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার জেরা অব্যাহত
৩০ জানুয়ারি ২০১৪, বৃহস্পতিবার,
১৯৭১-এ সংঘটিত কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা একেএম ইউসুফের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনকে ডিফেন্স পক্ষের আইনজীবীর জেরা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো জেরা শেষে আজ বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিনের মতো জেরা করবে ডিফেন্স পক্ষ।
গতকাল জেরা করার এক পর্যায়ে মাওলানা ইউসুফের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম ‘দৈনিক জনকন্ঠে’ প্রকাশিত রিপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু জানাতে চাইলে ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি মোঃ শাহিনুর ইসলাম বলেন, আপনি কি মনে করেন আপনার সব প্রশ্নই এলাও করবো? তখন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, যে প্রশ্নগুলো রিলায়্যাবল শুধুমাত্র সেই প্রশ্ন করতে পারবেন। তাতে আইনজীবী হ্যাঁ সূচক সম্মতি দেন। তখন শাহিনুর ইসলাম বলেন, এবার আপনার প্রশ্ন করুন।
ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করে আসামীপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করে ট্রাব্যুনাল-২।
গতকাল বুধবার ট্রাইব্যুনালে একেএম ইউসুফের মামলার তদন্ত কর্মকর্তার জেরার এক পর্যায়ে প্রশ্ন করে জানতে চাওয়া হয় আপনি তদন্তের সময় ‘দৈনিক জনকন্ঠ’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘৭১ সালে ইউসুফ পালিয়ে আত্মগোপনে যায় এবং ’৭৫ সালে বের হয়ে আসেন’ তার গ্রহণযোগ্যতা বা রিপোর্টটির সত্যতা কতটুকু আপনি কি জানেন?  জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘না সংবাদ বা রিপোর্টের সত্যতা বিষয়ে আমি বলতে পারবো না।’
সঙ্গে সঙ্গে মিজানুল আরও বলেন, ‘দৈনিক জনকন্ঠে’ প্রকাশিত রাজাকার বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ইউসুফ ছিলেন কিনা  ইতিহাসভিত্তিক লেখা ‘মুক্তিযুদ্ধের দলিল পত্র’ কি আপনি সংগ্রহ করেছিলেন বা ওই পত্রিকার রিপোর্টার আজাদুর রহমান চন্দনের সাথে কথা বলেছেন। জবাবে আইও বলেন, প্রতিবেদনের তথ্যসূত্রগুলো দেখেছি, তবে ‘মুক্তিযুদ্ধের দলিল পত্র’ সংগ্রহের প্রয়োজন মনে করিনি।
পরের প্রশ্নে আইনজীবী জানতে চান, দলিল পত্রের যে সকল তথ্যসূত্র দেখেছেন তার একটির নাম বলেন। জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ওয়ারক্রাইমস ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ রিপোর্ট।
পরের প্রশ্নের জবাবে আইও বলেন, ড. এমএ হাসান লিখিত বইটি আমি দাখিল করিনি তাই এর প্রকাশকের নাম বলতে পারবো না। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ’৭১ সালে একেএম ইউসুফ গ্রেফতার হয়েছিলেন তথ্যসূত্র  মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন বই থেকে নেয়া ।
১৯৭১-এ সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াতের নায়েবে আমীর একেএম ইউসুফের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনকে জেরা অব্যাহত রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার তদন্ত কর্মকর্তাকে আবারো জেরা করবে আসামীপক্ষের আইনজীবী। তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন গত ২৭ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কার্যক্রম ও অনুসন্ধান বিষয়ে প্রসিকিউশনের পক্ষে ২৭ সাক্ষীর জবানবন্দী পেশ করেছেন।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=137435