১৫ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা ইউসুফের বিরুদ্ধে লিখিত কোন অভিযোগ পাননি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা
২৮ জানুয়ারি ২০১৪, মঙ্গলবার,
জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আবুল কালাম মুহাম্মদ (একেএম) ইউসুফের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ হেলাল উদ্দিন ডিফেন্স পক্ষের  আইনজীবীর জেরার জবাবে বলেছেন, আমার কাছে এই মামলা সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগ ছিল না। আমি তদন্ত সংস্থার সমন্বয়কের নির্দেশে তদন্ত শুরু করি। গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন জবানবন্দী প্রদান করেন। জবানবন্দী শেষে তাকে জেরা শুরু করেন আসামীপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। এরপর আগামীকাল বুধবার পরবর্তী জেরার দিন ধার্য করা হয়েছে।
জবানবন্দীতে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, তদন্তকালে বিভিন্ন ঘটনাস্থলে মামলা সংক্রান্ত সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ ও জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করি। মামলার তদন্তে ও সাক্ষ্য-প্রমাণে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয় যে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় আসামী একেএম ইউসুফ খুলনা জেলার কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি গঠন করে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। খুলনা জেলার সকল থানা ও ইউনিয়নে মিটিং করার মাধ্যমে শান্তি কমিটি গঠন করে প্রত্যেক এলাকা হতে জামায়াত, মুসলিম লীগ ও অন্যান্য স্বাধীনতাবিরোধীদের সংগ্রহ করে খুলনায় আনসার ক্যাম্পে স্বল্পকালীন ট্রেনিং দিয়ে ৫ মে ১৯৭১ আনুষ্ঠানিকভাবে রাজাকার বাহিনী প্রতিষ্ঠা করেন।
জেরার জবাবে কর্মকর্তা আরো বলেন, তদন্ত সংস্থার লাইব্রেরিতে রক্ষিত তথ্যাদি পর্যালোচনা করি। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে সংঘটিত ঘটনা সম্পার্কে অনুসন্ধান করি। বাংলা একাডেমী ও পিআইবিতে ’৭১ সাল এবং তার পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ঠিক করি ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সিজ করি।
মামলার প্রত্যেকটি ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে গোপনে ও প্রকাশের তদন্ত করি। তদন্তকালে ২০১২ সালের ১৩ ডিসেম্বর বাংলা একাডেমী থেকে ১৯টি পত্রিকার ফটোকপি সংগ্রহ করি। গত ১৭ ডিসেম্বর বাংলা একাডেমী হতে ১৪টি পত্রিকা জব্দ করি।  গত বছরের ৩ মার্চ পিআইবির লাইব্রেরি হতে দুটি পত্রিকার কপি সিজ করি। গত বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি তদন্ত সংস্থার লাইব্রেরি হতে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন হতে প্রাপ্ত তথ্যাদির ফটোকপি সংগ্রহ করি।
তদন্তকালে গত বছরের ৩০ জানুয়ারি এটিএন বাংলা টিভি চ্যানেলে প্রচারিত প্রামাণ্য চিত্র একাত্তরের ঘাতকরা নামক এটি ডিভিডি সংগ্রহ করি।
জেরায় তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, গত ২৫ জানুয়ারি তারিখে আমি একজন অতিরিক্ত সাক্ষীর বক্তব্য রেকর্ড করেছি। জনৈক আজমল হোসেন তপন (এটিএন বাংলা টিভি চ্যানেলের প্রামাণ্য চিত্রে) বলেছিলেন, ১০ এপ্রিল ১৯৭১ একটি নৃশংস ঘটনা ঘটে যা রাজাকারদের কর্তৃক সংঘটিত হয়েছিল।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=137259