১৫ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা ইউসুফের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে ২৪ ও ২৫তম সাক্ষীর সাক্ষ্য
২২ জানুয়ারি ২০১৪, বুধবার,
জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আবুল কালাম মুহাম্মদ (একেএম) ইউসুফের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আরো দুই সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ রাষ্ট্রপক্ষের ২৪তম এবং ২৫তম সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষী দু’জন হলেন দুলাল কৃষ্ণ দাস ও বরুণ দাস। প্রসিকিউশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এ দু’জনকে টেন্ডার সাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করেন।
দুই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পরে আজ বুধবার পরবর্তী সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। গতকাল মাওলানা এ কে এম ইউসুফের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ২৪ ও ২৫তম সাক্ষী তাদের জবানবন্দী পেশ না করে  পুর্বের রেকর্ডকৃত ২১তম সাক্ষী দিলিপ দাসের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।
প্রসিকিউটর জাহিদ ইমাম হোসেন বলেন, এই দুই সাক্ষী দুলাল কৃঞ্চ দাশ (৬৫) এবং বরুণ দাস (৬৮) একমত হয়েছেন। তাই তারা তাদের জবানবন্দী পেশ করেননি। পরে আসামীপক্ষের আইনজীবীও এই দুই সাক্ষীকে কোনও জেরা করেননি। গতকাল সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণ না করে একমত হওয়ার পরে মামলার কার্যক্রম আজ বুধবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। আজ পরবর্তী সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণ করা হবে।
গত ১৯ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের ২১তম সাক্ষী দিলিপ দাশ বলেছেন, রাজাকাররা দুই-তিন ঘণ্টা তা-ব চালিয়ে ফিরে যাওয়ার সময় ‘ইউসুফ ভাই জিন্দাবাদ’ বলে স্লোগান দিতে দিতে চলে যায়। ঐ দিন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি শাহীনুর ইসলামের সমন্বয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিনি তার জবানবন্দি পেশকালে এসব কথা বলেন।
বাগেরহাটের রণজিতপুর গ্রামের বাসিন্দা দিলিপ দাশ বলেন, ’১৩ মে রাজাকাররা আমাদের এলাকায় আক্রমন চালায়। এ সময় আমিসহ অন্যরা ভয়ে আত্মগোপন করি। ২ থেকে ৩ ঘণ্টা তা-ব চালিয়ে ফিরে যাওয়ার সময় রাজাকাররা ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’, ‘ইউসুফ ভাই জিন্দাবাদ’ বলে স্লোগান দেয়।
রাজাকাররা চলে যাওয়ার পর আত্মগোপন থেকে বের হয়ে অসংখ্য লাশ পড়ে থাকতে দেখি। এ সময় লোকজনের কাছে জানতে পারিন, ৫০-৬০ জনকে মেরে ফেলা হয়েছে। যাদের অধিকাংশই ছিল সনাতন ধর্মাম্বলম্বী। পরে ২০-২৪ জনের নামে স্মৃতি ফলক তৈরি করা হয়।
তিনি বলেন, এর আগে একেএম ইউসুফের নেতৃত্বে রজব আলী ফকির, সিরাজ মাস্টার, আকিজ উদ্দিন, ইসাহাকসহ আরও অনেককে নিয়ে রাজাকার বাহিনী গঠন করেন। তিনি বলেন, অন্যান্য পরিচিতদের মধ্যে গোবিন্দ দাশ,  সনাতন দাসের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ইউসুফের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন প্রসিকিউশনের আরো ২৩ জন সাক্ষী।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=136874