১৮ অক্টোবর ২০১৯, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা ইউসুফের বিরুদ্ধে আরো দুই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ
২১ জানুয়ারি ২০১৪, মঙ্গলবার,
জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আবুল কালাম মুহাম্মদ (একেএম) ইউসুফের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আরো দুই সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ রাষ্ট্রপক্ষের ২১তম সাক্ষী দিলীপ দাস এবং ২২তম সাক্ষী যুগল কৃষ্ণ দাসের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এরপর আজ মঙ্গলবার পরবর্তী (২৩ তম) সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। একেএম ইউসুফের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম রাষ্ট্রপক্ষের দুই সাক্ষীকেই জেরা করেন।
২১ তম সাক্ষীর জেরার
উল্লেখযোগ্য অংশ
গতকাল ২১তম সাক্ষী দিলীপ দাস ডিফেন্স আইনজীবীর জেরার জবাবে বলেন, ইউসুফ সাহেবকে আমি কোন দিন দেখিনি বা চিনিনা। আমাদের এলাকায় ১৩ মে’র পূর্বে রাজাকার বাহিনী গঠন হয়নি। তবে রজব আলী ফকিরের নেতৃত্বে নদীর ওইপারে রাজাকার ছিল। ১৩ মের ঘটনার সময় রজব আলী ফকিরের সঙ্গে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সদস্যদের দেখিনি। এটা সত্য নয় যে, ১৩ মে তারিখে আমাদের রঞ্জিতপুরের ঘটনার সময় ২০ থেকে ২৫ জন রাজাকার নিহত হয়েছিল।
সাক্ষী আরো বলেন, পাকিস্তান আর্মি, রাজাকার, শান্তি বাহিনী কোথাও কোন আক্রমণ করার ক্ষেত্রে গোপনে সিদ্ধান্ত নিত। এটা সত্য নয় যে, খান এ সবুরের নেতৃত্বে আরেকটি পিস কমিটি ছিল। ইউসুফ সাহেব বাংলাদেশের একজন পরিচিত ব্যক্তি। এটা সত্য নয় যে, আমি মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম না। নিজে বলেন, আমি ’৭১ সালে আমি মুজিব বাহিনীর সদস্য ছিলাম। এটা সত্য নয় যে, মুজিব বাহিনী মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে গঠিত হয়। প্রকৃতপক্ষে এটি মে মাসে গঠিত হয়। আমি মুজিব বাহিনীর প্রধান কে ছিল তা বলতে পারব না। তবে ৯নং সেক্টরে মুজিব বাহিনীর প্রধান ছিলেন কামারুজ্জামান। এটা সত্য নয় যে, আমি ইউসুফ সাহেবকে জড়িয়ে শেখানো মতে অসত্য সাক্ষ্য দিয়েছি।
২২তম সাক্ষীর
জবানবন্দীতে
রাষ্ট্রপক্ষের ২২তম সাক্ষী যুগল কৃষ্ণ দাস জবানবন্দীতে বলেন, ১৯৭১ সালের ১৩ মে আমরা শুনতে পারলাম রাজাকার বাহিনী আমাদের গ্রাম রঞ্জিতপুরে আক্রমণ করবে। নদীর ওপর থেকে আক্রমণের আভাস পেয়ে আমরা নদীর উত্তর পাশে সমবেত হই। বিকেল ৩টা পর্যন্ত আমাদের পাহারা থাকে। ৩টার পর অধিকাংশ লোকজন দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য নিজ নিজ বাড়িতে যায়। তখন আমরা ৫০ থেকে ৬০ জন পাহারা রত অবস্থায় ছিলাম। এসময় নদীর ওইপার থেকে ৬০ থেকে ৭০ জন লোক আমাদের এদিকে আসতে থাকে। এপারে এসে তারা গুলী করতে থাকে। আমরা পিছু হটতে থাকি এবং ঝোপ জঙ্গলে আত্মগোপন করি। তারা গ্রামে প্রবেশ করে গুলী করে আমরা লুকিয়ে দেখি গ্রাম থেকে চিৎকারের শব্দ আসছে। আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা পরে তারা বেরিয়ে যাওয়ার পর আমরা গ্রামে প্রবেশ করি। গ্রামের স্কুলমাঠে ৮ থেকে ১০ জনের লাশ পড়ে থাকতে দেখি। উপস্থিত লোকজনের মুখে শুনতে পেলাম ৫০ থেকে ৬০ জন লোককে মেরে ফেলা হয়েছে। এর একপর্যায়ে আমি আমার ছোট কাকা সোনাতন দাশের লাশ পড়ে থাকতে দেখি। আমার পরিচিত রবিন্দ দাশ, কানাই দাশ, কালিপদ দাশ, গনেশ দাশসহ অনেকের লাশ দেখতে পাই। এই হত্যাকা-ের শিকার ২৪ ব্যক্তির নাম রঞ্জিতপুর স্কুলমাঠের পাশে স্মৃতিফলকে রয়েছে।
জবানবন্দী গ্রহণের পর জেরায় সাক্ষী বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ১০-১২ দিন পর আমার চাচা খুলনা থেকে এসে জানায় ইউসুফ সাহেবের নেতৃত্বে রাজাকার বাহিনী গঠিত হয়। এটা সত্য নয় যে, ইউসুফ সাহেবের বিরুদ্ধে শেখানো মতে সাক্ষ্য দিলাম। এটা সত্য নয় যে, আমার বর্ণিত মতে ঘটনা ঘটেনি।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=136845