৯ এপ্রিল ২০২০, বৃহস্পতিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য ২৭ মার্চ : এ টি এম আজহারের বিরুদ্ধে পঞ্চম সাক্ষীর জবানবন্দী
২৬ মার্চ ২০১৪, বুধবার,
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপরে পঞ্চম সাী মো: আব্দুর রহমানের জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়েছে। গত সোমবার ও গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীমের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ সাক্ষী জবানবন্দী দেন। জবানবন্দী শেষে সাীকে জেরা করেন আসামিপরে আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুস সোবহান তরফদার। জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় আগামী রোববার (৩০ মার্চ) পরবর্তী জেরার দিন ধার্য করা হয়েছে।
জবানবন্দী গ্রহণ করার সময় এ টি এম আজহারুল ইসলামকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। তার পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুস সোবহান তরফদার ছাড়াও অ্যাডভোকেট শিশির মনির, অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান কবির, অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন ও অ্যাডভোকেট রায়হান উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর এ কে এম সাইফুল ইসলাম।
জবানবন্দীতে সাক্ষী বলেন, আমার নাম মো: আব্দুর রহমান। আমার বাবাকে কে মেরেছে তাহা আমি নিজে দেখি নাই, বাবাও আমাকে বলেন নাই। সাক্ষী পরে বলেন, ঘটনার সময় বাবা আমাকে বলেন নাই, তবে পরে বলেছেন। লোকমুখে শুনতে পাই, আমার বাবা গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। পরে আমরা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করি, কিন্তু সুচিকিৎসা করতে না পারায় স্বাধীনতার পরে তিনি মারা যান। বাবা আমাকে বলেন, বাঙালিই আমাকে গুলি করেছে, তবে হত্যা করার জন্য নয়, শাস্তি দেয়ার জন্য।
জবানবন্দীতে সাক্ষী বলেন, ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল একটি ট্রেন রংপুর থেকে এসে ১০ নম্বর রেলগেটে এবং অপর ট্রেনটি পার্বতীপুর থেকে ৬ নম্বর রেলগেটে এসে দাঁড়ায়। আমি ওই সময় ১০ নম্বর রেলগেট থেকে আনুমানিক দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিলাম। ওই সময় খাকি পোশাকধারী ও সিভিল পোশাক পরিহিত লোকজন যখন বকশিগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল তখন লোকজন ভয়ে পূর্ব দিকে পালাচ্ছিল। এই সময় ১০ নম্বর রেলগেটে অবস্থানরত ট্রেন থেকে এক-দেড় শ’ লোক নেমে দক্ষিণে বকশিগঞ্জের দিকে রওনা হয়। ঘেরাওয়ের মধ্যে পড়ে গ্রামের সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করতে থাকে। তখন অনেকেই বলাবলি করতে থাকে যে, বদরগঞ্জ থেকে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক লোকজন, এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও পাক সেনারা এসে ঘেরাও করেছে, তোমরা সেদিকে কেন যাচ্ছ।
জবানবন্দী শেষে আসামিপক্ষের জেরার জবাবে সাক্ষী বলেন, আমি আমার আহত বাবাকে উদ্ধার করে বাড়ির কাছাকাছি পাথারে অবস্থিত একটি গাছের নিচে নিয়ে যাই। আমি লেখাপড়া করি নাই। আমি ইংরেজি বারো মাসের নাম জানি না। ইংরেজি কোন মাসের কত তারিখে আমি বিয়ে করেছি তা আমি বলতে পারব না। আমার বাবার ভাইও নাই, বোনও নাই। আমার বিমাতার ঘরে তিন ভাই, এক বোন এবং আমরা আপন তিন ভাই, চার বোন। আমার ভাইবোনদের মধ্যে সবার ছোটবোন ১৯৭০ সালে জন্মগ্রহণ করে। ১৯৭১ সালে আমার বিমাতার ঘরের ভাইবোনেরা ভিন্ন বাড়িতে বসবাস করতেন। আমার সৎমা বাবার প্রথম স্ত্রী। বাবা আমাদের সাথেই থাকতেন। রেললাইনের লাগ দক্ষিণ পাশে আমাদের বাড়ি। আমাদের বাড়ির দক্ষিণ পাশে নয়াপাড়া নামে একটি পাড়া ছিল। আমার বাড়ির পূর্ব পাশে ঝাকুয়া পাড়া, পশ্চিমে বালাপাড়া ছিল। আমার বাড়ির চারি পাশে ১৯৭১ সালে যে বাড়িঘর ছিল বর্তমানে তার চেয়ে বেশি বাড়িঘর আছে। বালাপাড়া গ্রামটি বড় ছিল এবং এটি উত্তর-দক্ষিণে লম্বা ছিল। বালাপাড়ার সর্বদক্ষিণে ছিল বাগমার। তারও দক্ষিণে বুঃবাগবার। বাঙালি আর্মি ও তাদের সহযোগীরা আমাদের এলাকায় এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে আসে এবং তারা আমাদের এলাকায় মাত্র দুই দিন ছিল। বাঙালি আর্মিরা আত্মরক্ষার জন্য আমাদের এলাকায় আশ্রয় গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধুর ভাষণের প্রায় এক মাস পরে বাঙালি সেনারা আমাদের এলাকায় আসে।
মাওলানা সুবহানের মামলা : জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ওপেনিং স্টেটমেন্ট বা সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন আগামী ২৭ মার্চ বৃহস্পতিবার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন। একই দিন মাওলানা আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ রিভিউ বা পুনর্বিবেচনার আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। এর আগে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ২৫ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য উপস্থপনের দিন ধার্য করেছিলেন।
গত ১ জানুয়ারি মাওলানা আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের ৯টি অভিযোগে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল-১। গত ১৯ সেপ্টেম্বর মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর মাওলানা সুবহানকে বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল প্লাজা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে ওই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়।