৯ এপ্রিল ২০২০, বৃহস্পতিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
সরকার পক্ষের চতুর্থ সাক্ষীর বিরুদ্ধে অভিযোগ: ছোট মেয়ের চাকরির শর্তে সাক্ষী হয়েছেন আজহারের বিরুদ্ধে
১৯ মার্চ ২০১৪, বুধবার,
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকার পক্ষের চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে মোঃ মেছের উদ্দিনের জেরা শেষ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল-বিকাল দু’বেলা জেরা করেন আজহারের আইনজীবি এডভোকেট আব্দুস সুবহান তরফদার। আগামী ২৩ মার্চ পরবর্তী সাক্ষীর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। জেরায় সাক্ষী বলেন, ১২/০৫/২০১১ ইং তারিখে বদরগঞ্জ থানার মামলা নং-১৭, ধারা ১৪৩/৪৪৭/ ৩২৩/ ৩৫৪/ ৩২৪/ ১১৪ দ-বিধি আমার বিরুদ্ধে রুজু করা হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই। জেরায় অভিযোগ করা হয় যে, আজহারের বিরুদ্ধে সাক্ষী হওয়ার শর্তে তার ছোট মেয়ের প্রাইমারী স্কুলে চাকরি হয়েছে। তিনি অবশ্য তা অস্বীকার করে বলেন, ইহা সত্য নয় যে, আমি যখন তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট জবানবন্দী প্রদান করি তখন আমার ছোট মেয়ের প্রাইমারী স্কুলে চাকুরী হয়।
ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে অপর দুই সদস্যের মধ্যে বিচারপতি আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গতকাল মঙ্গলবার সাক্ষী মেছের উদ্দিনের জেরা সম্পন্ন হয়। গাজীপুর জেলা কারাগারে আটক এটিএম আজহারুল ইসলামকে এ উপলক্ষে গতকাল সকালে আনা হয়  ট্রাইব্যুনালে। সাক্ষ্য গ্রহণকালে তিনি এজলাস কক্ষের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। আসামীপক্ষে আরো উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট রায়হান উদ্দিন ও মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন। অন্যদিকে সরকার পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর একেএম সাইফুল ইসলাম, আলতাফ উদ্দিন, তাপস কান্তি বল, রেজিয়া সুলতানা চমন প্রমুখ।
৪নং সাক্ষীর জেরার বিবরণ নি¤œরূপ :
প্রশ্ন : আপনি কার কাছে খবর পেয়ে এখানে সাক্ষী দিতে এসেছেন ?
উত্তর : আমি আদালত থেকে নোটিশ পেয়ে অদ্য ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে এসেছি।
প্রশ্ন : আপনার বাবা-চাচারা কয় ভাই ?
উত্তর : আমার বাব-চাচারা চার ভাই।
প্রশ্ন : আপনার বাবা দুই বিবাহ করেন।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : আপনারা কত ভাই-বোন?
উত্তর : আমি আমার মায়ের একমাত্র সন্তান এবং আমার বিমাতার চার ছেলে ও এক মেয়ে।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে আপনাার বাব-চাচারা পৃথকভাবে বসবাস করতো ?
উত্তর : জি, তবে ছোট চাচা আমার বাবার সাথে থাকতো।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে আপনাদের বাড়ির চারিদিকে কারা কারা বাস করতো?
উত্তর : উত্তরে শহীদ মিনহাজুল ইসলাম চিত্রমসি, শহীদ আলাউদ্দিন, রমজান, নূরুল, মনসুর ডাক্তার, সামস উদ্দিন মাস্টার এবং আরো অনেকের বাড়ি। ১৯৭১ সালে আমাদের বাড়ির দক্ষিণে কোন বাড়ি ঘর ছিল না, তবে সকিন উদ্দিনের একটি বাড়ী ঐ সময় হয়েছিল কিনা তাহা আমার স্মরণ নাই। ১৯৭১ সালে আমাদের বাড়ির পূর্বপাশে লুৎফর রহমান, আব্দুস সামাদ, তমিজউদ্দিনসহ আরো অনেকের বাড়ি ছিল। ১৯৭১ সালে আমাদের বাড়ির পশ্চিমে সম্ভবত নূরুলের বাড়ি ছিল। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ঐ সমস্ত বাড়ি-ঘরের অনেকেই এলাকা ছেড়ে অন্যান্য জায়গায় আশ্রয় নেয়, অনেকেই থেকে যায়।
প্রশ্ন : ঝাড়–য়ার বিল আপনাদের বাড়ির দক্ষিণে আনুমানিক দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
উত্তর : জি, আমাদের বাড়ি ও ঝাড়–য়ার বিলের মাঝখানে একটি পাড়া আছে। এবং ঐ পাড়ায় অনেক বাড়ি ঘর ছিল।
প্রশ্ন : পার্বতীপুর থানা ৬ নং বেল গেইট হতে কোন দিকে কত দুরে ?
উত্তর : পশ্চিমে আনুমানিক ৬০ কিলোমিটার দূরে।
প্রশ্ন : পার্বতীপুর থানা আপনার বাড়ী থেকে কোন দিকে কত দূরে?
উত্তর : পশ্চিম দিকে আনুমানিক ১০ কি. মি. দূরে।
প্রশ্ন : আপনি যে হাই স্কুলে পড়তেন তা কি পার্বতীপুর প্রপারে?
উত্তর : আমি নুরুল হুদা হাই স্কুলে পড়েছি। সেটা পার্বতীপুর সদরে অবস্থিত নয়।
প্রশ্ন : নুরুল হুদা স্কুলটি পার্বতীপুর সদর থেকে কোন দিকে কত দূরে?
উত্তর : পার্বতীপুর সদরের শেষ সীমানায় পূর্ব দিকে করতোয়া নদীর কাছে।
প্রশ্ন : বদরগঞ্জ থানা কোন দিকে লম্বালম্বি?
উত্তর : গোলাকার, তবে পূর্ব-পশ্চিমে সামান্য লম্বা হতে পারে।
প্রশ্ন : আশরাফগঞ্জ প্রাইমারী স্কুল এবং নুরুল হুদা স্কুলে আপনার সাথে আসামী আজহার পড়াশুনা করেছেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে আপনাদের বাড়ি বদরগঞ্জ থানা থেকে কোন দিকে ছিল?
উত্তর : পশ্চিম দিকে থানার শেষ সীমানায়।
প্রশ্ন : ঝাড়–য়ার বিল থেকে পূর্ব-দক্ষিণে আসামী আজহারের বাড়ী লোহানীপাড়া আনুমানিক ২৮ থেকে ৩০ কি: মি: দূরে।
উত্তর : অত দূরে নয়, ৮/১০ কি. মি. হবে।
প্রশ্ন : দূরত্ব সম্পর্কে আপনি সত্য বলেননি।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে আপনি কি করতেন?
উত্তর : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম।
প্রশ্ন : মনসুর ডাক্তারের বাড়ী আপনার বাড়ী থেকে কত দূরে?
উত্তর : আনুমানিক ১শ গজ।
প্রশ্ন : মনসুর ডাক্তার, কোথায় ডাক্তারী করতেন?
উত্তর : পার্বতীপুর।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে মনসুর ডাক্তার আওয়ামী লীগের বড় নেতা ছিলেন।
উত্তর : তিনি আওয়ামী লীগ করতেন। ফজলুর রহমান বড় নেতা ছিলেন, মনসুর ডাক্তার তার সাথে থাকতেন।
প্রশ্ন : আপনাদের এলাকার লোকেরা পার্বতীপুরের সাথেই বেশী যোগাযোগ রাখতেন এবং বাজারঘাট করতেন।
উত্তর : না, বদরগঞ্জেই করতাম।
প্রশ্ন : ১৯৭০ সালের এমএনএ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নুরুল হকের বাড়ী কোথায়?
উত্তর : গ্রামের বাড়ীর কথা জানতাম না। তিনি রংপুর শহরে বাস করতেন।
প্রশ্ন : জামায়াতের প্রার্থী মোখলেসুর রহমানের বাড়ী কোথায় ছিল ?
উত্তর : বদরগঞ্জ থানার শয়া ইউনিয়নে।
প্রশ্ন : প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী মীর আফজালের বাড়ী কোথায় ছিল?
উত্তর : বদরগঞ্জ সদরে।
প্রশ্ন : ১৯৭০ সালে নির্বাচনে এটিএম আজহারুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর নেতা হিসেবে জামায়াতের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন মর্মে আপনার বক্তব্য সঠিক নয়।
উত্তর : জামায়াতের ছাত্র নেতা হিসেবে প্রচারণায় অংশ নেন।
প্রশ্ন : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে আপনি কোন হলে থাকতেন?
উত্তর : জিন্নাহ হলের এটাস্ট ছাত্র হিসেবে ভর্তি হই। তবে পাশে বিনোদপুরে জাহিদ ছাত্রাবাসে থাকতাম।
প্রশ্ন : ক্যাপ্টেন আনোয়ার কত সৈন্য নিয়ে বদরগঞ্জে এসেছিলেন ২৬ মার্চ তারিখে?
উত্তর : এক/দেড়শ হতে পারে।
প্রশ্ন : বাঙ্গালী সৈন্যরা কোথায় আহত হয়েছিল?
উত্তর : সৈয়দপুর ক্যান্টনম্যান্টে পাক সেনাদের আক্রমনে কয়েকজন বাঙ্গালী সৈন্য আহত হয়।
প্রশ্ন : পার্বতীপুর থেকে খোলাহাটি রেল স্টোরটি কোন দিকে কত দূরে?
উত্তর : ১০ কি: মি: পূর্ব দিকে।
প্রশ্ন : ঐ রেল স্টোর ও টেকশোর হাট ইউনিয়নের দূরত্ব কত?
উত্তর : আনুমানিক এক/দেড় কি: মি:
প্রশ্ন : রেল স্টোর থেকে ঝাড়–য়ার বিল কোন দিকে কত দূর?
উত্তর : আনুমানিক আড়াই কি: মি: পূর্ব দিকে।
প্রশ্ন : সুবেদার শহীদুল ইসলামের গ্রুপে কত সৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধা ছিল?
উত্তর : আনুমানিক ১শ জন।
প্রশ্ন : ঘাটাবিল প্রাইমারী স্কুল ঝাড়–য়ার বিল থেকে কোন দিকে কত দূরে?
উত্তর : পূর্বদিকে ১ কি: মি: বা তার কম হবে।
প্রশ্ন : ঘাটার বিল প্রাইমারী স্কুল থেকে ধাপপাড়া কোনদিকে কতদূর?
উত্তর : উত্তর-পশ্চিম দিকে ৫ কি: মি: বা তার বেশি।
প্রশ্ন : রেল স্টোর থেকে ক্যাপ্টেন আনোয়ারের ধাপপাড়ার অবস্থানস্থল কোন দিকে কত দূরে?
উত্তর : ৫ কি: মি: উত্তর-পূর্বদিকে।
প্রশ্ন : রেল স্টোর আর যমুনাশ্বরী নদীর তীরস্থ ক্যাপ্টেন আনোয়ার ও সুবেদার শহীদুল ইসলামের বেরিকেড স্থল মেলার মাঠের দূরত্ব কত?
উত্তর : পূর্বদিকে আনুমানিক ৬ কি. মি.।
প্রশ্ন : ৮ এপ্রিল তারিখে পাকিস্তান সেনারা যমুনাশ্বরী নদীর কোনপাড়ে অবস্থান নেয়?
উত্তর : পূর্ব দিকে।
প্রশ্ন : বাঙ্গালী সেনা ও মুক্তিযোদ্ধারা তাহলে পশ্চিম পাড়ে অবস্থান নেয়।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : পাক বাহিনী কোন মাসের কত তারিখে আক্রমণ করলে উভয় পক্ষে তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়?
উত্তর : ৮ এপ্রিল।
প্রশ্ন : যমুনাশ্বরী নদীর পশ্চিম  পাড়ে কত তারিখে অবস্থান নিয়েছিল?
উত্তর : মার্চ মাসের শেষ দিকে।
প্রশ্ন : যমুনাশ্বরী  নদীর তীর থেকে ফুলবাড়ি কোন দিকে কত দূরে?
উত্তর : দক্ষিণ-পশ্চিমে আনুমানিক ২০/২৫ কি. মি.।
প্রশ্ন : ফুলবাড়ি থেকে বদরগঞ্জ থানা কোনদিকে কত দূরে?
উত্তর : পূর্ব-উত্তরে আনুমানিক ২৫ কি. মি.।
প্রশ্ন : ফুলবাড়ী কোন থানায়?
উত্তর : এটা আলাদা একটি থানা যা দিনাজপুর জেলায় অবস্থিত।
প্রশ্ন : ১৫ এপ্রিল পাক সেনারা আপনাদের এলাকায় আক্রমণ করে মর্মে আপনি মিথ্যা বলেছেন।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : ১৫ এপ্রিল পাক সেনারা কোন দিক থেকে কিভাবে আপনাদের এলাকায় আসে?
উত্তর : বলতে পারব না। কারণ আমি বাড়ীতে ছিলাম না। ঐ দিন পাক সেনাদের আক্রমনে ৪ জন শহীদ হয় এবং আমাদের বাড়ী পুড়িয়ে দেয়।
প্রশ্ন : আপনি ঐ সময় কোথায় ছিলেন ?
উত্তর : আমার জেঠাতো ভাই রমযানের শ্বশুরবাড়ী কাজিপাড়া গ্রামে অবস্থান করছিলাম।
প্রশ্ন : ঐ কাজিপাড়া আপনাদের বাড়ী  থেকে কোন দিকে কত দূরে?
উত্তর : ৮/৯ কি: মি:  উত্তর দিকে।
প্রশ্ন : আপনি কি ঐ গ্রাম থেকেই আপনাদের বাড়ী পোড়ানোর ধোয়া দেখছিলেন?
উত্তর : জি, আমি ঐ সময় বাড়ীর দিকে আসছিলাম।
প্রশ্ন : ১৫ এপ্রিল আপনার বাবা-চাচারা আপনাদের বাড়ীতেই ছিল।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : আপনাদের বাড়ীসহ এলাকায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা আপনাদের গ্রামের অনেকেই দেখেছে।
উত্তর : জি, আমি পরে এসে শুনেছি।
প্রশ্ন : আপনি বাড়ীতে এসে কি শুনেছিলেন যে পাক সেনারা কিভাবে আপনাদের এলাকার এসেছিল?
উত্তর : বেশিরভাগ ট্রেনে।
প্রশ্ন : ১৫ এপ্রিল পাক সেনারা আর কোথায় কোথায় পোড়ায়।
উত্তর : আমাদের পাড়া ছাড়াও বৃত্তিপাড়া, তালপুকুর টেকশোর হাটের আশপাশে অনেক বাড়ীঘর পুড়িয়ে দেয় এবং ৪ জনকে হত্যা করে।
প্রশ্ন : আপনাদের বাড়ীর পাশ দিয়ে যাওয়া রেল লাইন ডাবল না সিঙ্গেল?
উত্তর : সিঙ্গেল।
প্রশ্ন : এই রেল লাইনের কোন দিকে রংপুর, আর কোন দিকে পার্বতীপুর?
উত্তর : পশ্চিমে পার্বতীপুর, পূর্বে রংপুর।
প্রশ্ন : আপনাদের বাড়ী থেকে রংপুরের না পার্বতীপুরের দূরত্ব বেশী?
উত্তর : রংপুরের দুরত্ব বেশী।
প্রশ্ন : পার্বতীপুর থেকে আপনাদের বাড়ীতে আসতে আর কোন স্টেশন নেই।
উত্তর : আছে, খোলাহাটি স্টেশন।
প্রশ্ন : আপনাদের বাড়ী থেকে রংপুর যেতে খোলাহাটি ছাড়া আর ক’টি স্টেশন ছিল?
উত্তর : বদরগঞ্জ ও শ্যামপুর স্টেশন ছিল।
প্রশ্ন : ঝাড়–য়ার বিলের আশপাশে কোন বাড়ীঘর ছিল?
উত্তর : ১৯৭১ সালেও ছিল না, এখনো নাই। একটি মাদরাসা হয়েছে সম্প্রতি।
প্রশ্ন : ঝাড়–য়ার বিলে ১৯৭১ সালে এখনকার মত এত ধান চাষ হতো না।
উত্তর : জি, এখনো খুব বেশী হয় না?
প্রশ্ন : ঝাড়–য়ার বিলের সোজা দক্ষিণ দিকে অনেক দূরে কোন গ্রাম আছে?
উত্তর : বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের তাতিপাড়াসহ কয়েকটি গ্রাম আছে।
প্রশ্ন : ঝাড়–য়ার বিলের উত্তর দিকের গ্রামের নাম কি?
উত্তর : রামকৃষ্ণপুর গ্রাম।
প্রশ্ন : রামকৃষ্ণপুর থেকে বিষ্ণুপুরের তাতিপাড়া ও অন্যান্য গ্রামের দুরত্ব কত?
উত্তর : আনুমানিক দুই কিলোমিটার ফাঁকা জায়গা আছে।
প্রশ্ন : ঝাড়–য়ার বিলের পশ্চিমে কোন গ্রাম?
উত্তর : খোর্দ্দবাগ, পাশে বুজরুগ বাগ।
প্রশ্ন : ঝাড়–য়ার বিলের পূর্বপাশের গ্রামের নাম কি?
উত্তর : ঝাড়–য়ার পাড়া ও মাঠুয়ার পাড়া।
প্রশ্ন : খোর্দ্দবাগ থেকে মাঠুয়ার পাড়া গ্রামের দুরত্ব কত?
উত্তর : আনুমানিক ১ কি: মি:
প্রশ্ন : ঝাড়–য়ার বিলে কিছু ঘটলে চারিদিকের এসব গ্রাম ও বাড়ীঘর থেকে সব দেখা যায়।
উত্তর : সাধারণত ঐ বিল দেখতে পায় মানুষজন।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে ঝাড়–য়ার বিলে কি ধরনের ঝোপ-ঝাড় ছিল?
উত্তর : কিছু উঁচু গাছ এবং কিছু নীচু গাছ ছিল।
প্রশ্ন : ১৫ এপ্রিল পাক বাহিনী আপনাদের এলাকায় হামলা করলে মানুষ ঝাড়–য়ার বিলে আশ্রয় নিয়েছিল।
উত্তর : জি, ঝাড়–য়ার বিলসহ আশপাশে আশ্রয় নিয়েছিল।
 
গতকাল সকালের সেশনে জেরার পর মধ্যাহ্ন বিরতি দেয়া হয়। বেলা ২ টার পরে পুনরায় সাক্ষী মেছের উদ্দিনকে জেরা করা হয়। ট্রাইবুনালে তা যেভাবে রেকর্ড করা হয় তার বিবরণ নি¤œরূপ :
ইহা সত্য নহে যে, ১৫ই এপ্রিল, ১৯৭১ তারিখে পাক বাহিনী আমাদের এলাকায় আক্রমণ করার পর ঐ দিন থেকেই আমাদের এলাকায় অবস্থান করতেছিল। ইহা সত্য নহে যে, ১৬ই এপ্রিল, ১৯৭১ তারিখে এটিএম আজহারুল ইসলাম রংপুর হইতে ট্রেনযোগে পাক সেনাদের সাথে ৬ নং রেলগোমটিতে আসে নাই।
সাক্ষী বলেন, ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি গণফোরামের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেই। ঐ নির্বাচনে আমি ছাড়াও জাতীয় পার্টির এইচ এম এরশাদ, আওয়ামী লীগের আনিছুল হক চৌধুরী, বিএনপির প্রার্থী পরিতোষ চক্রবর্তী এবং জামায়াতে ইসলামীর এটিএম আজহারুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। ঐ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এইচ এম এরশাদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। ইহা সত্য নহে যে, ঐ নির্বাচনের সময় প্রচারণার জন্যে এটিএম আজহারুল ইসলামের বাড়িতে গিয়েছিলাম। তবে আমি বিভিন্ন হাটে বাজারে নির্বাচনী প্রচারণা চালাই। ইহা সত্য নহে যে, ঐ নির্বাচনে প্রচারণার জন্য এটিএম আজহারুল ইসলাম প্রথম আমাদের গ্রামে আসে। ইহা সত্য নহে যে, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের পূর্বে এটিএম আজহারুল ইসলাম আমার এলাকায় আসেন নাই। এটিএম আজহারুল ইসলাম কোন সালে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হইতে কি পরীক্ষায় পাশ করিয়াছে তাহা আমার জানা নাই, তবে ১৯৭০ সালে তাকে কারমাইকেল কলেজে এইচ,এস,সি’র ছাত্র হিসেবে দেখেছি।
তিনি বলেন, ৬ নং রেল গোমটি থেকে টেকশোর হাটের দূরত্ব সামান্য, এর মধ্যে ১৯৭১ সালে কোন বাড়ি ঘর ছিল না, এখনও নাই। টেকশোর হাট থেকে ধাপপাড়ার দূরত্ব দুই/আড়াই কিলোমিটার হবে। ইহা সত্য নহে যে, টেকশোর হাট থেকে ধাপপাড়া পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে ১৯৭১ সালে খুব কম বাড়ি ঘর ছিল। ধাপপাড়া আমাদের বাড়ির উত্তরে দূরত্ব আনুমানিক ২ কিলোমিটার। জহুলী ভরসার দুই বা তিন জন ছেলে বর্তমানে জীবিত আছে। তাদের নাম সম্ভবত আব্দুল হালিম ও আবু তাহের।
তিনি আরো বলেন, একথা অসত্য এবং শিখানো, ইহা সত্য নহে। ইহা সত্য নহে যে, ১৫ই এপ্রিল যে সকল পাক সেনা আমাদের গ্রামে হত্যাকা- ও অগ্নিসংযোগ সংঘটিত করেছিল তাহারাই সেখানে অবস্থান করে ১৬ই এপ্রিল তারিখে পুনরায় হত্যাকা- ও অগ্নিসংযোগ ঘটায়। আমাদের এলাকায় অবস্থানরত ক্যাপ্টেন আনোয়ার ও সুবেদার শহীদুল ইসলামদের সৈন্যদের সাথে পাক বাহিনীর যুদ্ধ ১৫, ১৬ ও ১৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়- ইহা সত্য নহে। ইহা সত্য নহে যে, ঐ যুদ্ধের পরে ক্যাপ্টেন আনোয়ার ও সুবেদার শহীদুল ইসলামসহ তাদের বাহিনী ফুলবাড়ির দিকে চলিয়া যায়।
সাক্ষী এ পর্যায়ে জোড়ালোভাবে বলেন যে, ক্যাপ্টেন আনোয়ার ও সুবেদার শহীদুল ইসলামের বাহিনীর সাথে পাক বাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধ হয় এক দিনেই, ৮ এপ্রিল ১৯৭১ তারিখে। অবাঙ্গালী বাচ্চু খাঁন, সাবেক এমপিএ কামরুজ্জামান ও বদরুল পার্বতীপুরে বসবাস করতেন। নইম কাজী বাঙ্গালী রাজাকার ছিল, তার বাড়ি পার্বতীপুরের রামপুরা ইউনিয়নের কাজী পাড়ায়। উক্ত ব্যক্তিদের কোন বাড়ি ঘর বদরগঞ্জে ছিল না। আমি পার্বতীপুর কলেজে ইন্টারমেডিয়েট পড়ার সময় থেকেই বাচ্চু খাঁন ও বদরুলকে চিনতাম। ঐ সময় তারা পার্বতীপুরে ব্যবসা বাণিজ্য করতো। পার্বতীপুর থেকে বকশীগঞ্জের ঘাট আড়াআড়িভাবে ১২/১৩ কিলোমিটার হবে। রংপুর শহর হইতে এটিএম আজহারুল ইসলামের বাড়ি দক্ষিণ-পশ্চিমে আড়াআড়িভাবে ২৮/৩০ কিলোমিটার দূরে হবে।
পাক সেনা ও এটিএম আজহারুল ইসলামসহ তার সহযোগীরা ঘেরাও করে সেগুলো হচ্ছে রামনাথপুর ইউনিয়নের যে ছয়টি মৌজা যথা- রামকৃঞ্চপুর, কিসামত ঘাটাবিল, ঘাটাবিল, দোয়ানি হাজীপুর, খালীশা হাজীপুর ও যুদ্ধ বাগবাড় এবং বিঞ্চুপুর ইউনিয়নের দুটি মৌজা (গ্রাম) হাজীপুর ও বুজরুব বাড়বাড়। আমার ইউনিয়নে যে ছয়টি গ্রাম চারদিক থেকে পাক সেনারা ঘেরাও করে ঐ গ্রামগুলির পশ্চিমে করতোয়া নদী তার ওপারে পার্বতীপুর থানা পলাশবাড়ী ইউনিয়ন, দক্ষিণে বিঞ্চুপুর ইউনিয়নের বুর্দ্দ বাগবাড়ী এবং এর দক্ষিণে করতোয়া নদী, পূর্ব দিকে ১৩ নং বদরগঞ্জ ইউনিয়নের সীমানা এবং উত্তরে মোকশেদপুর গ্রাম। পাক সেনারা ও আসামী এটিএম আজহারুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা ঐ গ্রামগুলি আক্রমণ করলে গ্রামের অধিকাংশ লোকজন আত্মরক্ষার জন্য ঝাড়–য়ার বিলে আশ্রয় নেয়। কেউ কেউ বাড়ির আশে পাশের ঝোঁপঝাড়ে আশ্রয় গ্রহণ করে। ঘেরাওকৃত ছয়টি গ্রামের মধ্যখানেই ঝাড়–য়ার বিল। ট্রেন হতে এটিএম আজহারুল ইসলাম এবং পাক সেনাদের গ্রামের দিকে আসতে দেখে আমি ও আমার পিতাসহ অন্যান্যরা ঝাড়–য়ার বিলে আশ্রয় নেই। ইহা সত্য নহে যে, ঝাড়–য়ার বিলের হত্যাকান্ড কেবলমাত্র পাকিস্তানী সেনারা ও অবাঙ্গালী সংঘটিত করে বা সেখানে এটিএম আজহারুল ইসলাম ছিল না বা এই মামলায় তাকে মিথ্যাভাবে জড়ানো হয়েছে। এটিএম আজহারুল ইসলাম ১৯৭৩ হইতে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন কিনা তাহা আমার জানা নাই। ইহা সত্য নহে ১৯৭১ সালে ১৬ই ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এটিএম আজহারুল ইসলাম পলাতক ছিলেননা। ১২/০৫/২০১১ ইং তারিখে বদরগঞ্জ থানার মামলা নং- ১৭, ধারা ১৪৩/৪৪৭/ ৩২৩/ ৩৫৪/ ৩২৪/ ১১৪ দ-বিধি আমার বিরুদ্ধে রুজু করা হয়েছে কিনা তাহা আমার জানা নাই।
এ পর্যায়ে সাক্ষী বলেন, মামলায় সাক্ষী হওয়ার কারণে জামায়াত শিবিরের লোকজন আমাকে এবং আমার পরিবার বর্গকে ভয়-ভীতি এমনকি হত্যার হুমকি দিয়ে আসতেছে। এ সংক্রান্তে আমি বদরগঞ্জ থানায় জিডি করেছি। আমার প্রথম ছেলে মৃত, তাহার নাম ছিল খোরশেদ, দ্বিতীয় ছেলের নাম খালেদ হাসান ওরফে রাজা, তৃতীয় ছেলের নাম খয়ের উদ্দিন ওরফে রানা এবং চতুর্থ ছেলের নাম খলিল উদ্দিন ওরফে রাসেল। আমার দুই মেয়ে, বড় মেয়ের নাম মাসুমা খাতুন ও ছোট মেয়ের নাম মেরিনা। আমি ২০১২ সালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট জবানবন্দী প্রদান করেছি, তবে তারিখ স্মরণ নাই। ইহা সত্য নহে যে, আমি যখন তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট জবানবন্দী প্রদান করি তখন আমার ছোট মেয়ের প্রাইমারী স্কুলে চাকরি হয়। আমি তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট যাহা বলিয়াছি তাহা তিনি সম্পূর্ণ লিপিবদ্ধ করিয়াছেন কিনা তাহা আমার জানা নাই।
ইহা সত্য নহে যে, ঝাড়–য়ার বিলের ঘটনার সহিত এটিএম আজহারুল ইসলাম সম্পৃক্ত ছিল না। ইহা সত্য নহে যে, মনসুরা বেগমকে রংপুর টাউন হলে নিয়ে নির্যাতন করা বা রংপুর কারমাইকেল কলেজে শিক্ষকদেরকে হত্যা করার কথা বা আমার বন্ধু মোক্তার এলাহীকে হত্যা করার কথা শুনেছি। আমার কথিত বর্ণনা মতে কথিত কোন ঘটনার সহিত এটিএম আজহারুল ইসলামের সম্পৃক্ততা নাই ইহা সত্য নহে। ইহা সত্য নহে যে, আমি সত্য গোপন করে অসত্য সাক্ষ্য দিয়েছি।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=141340