৯ এপ্রিল ২০২০, বৃহস্পতিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
আজহারের মামলায় সাক্ষীর বিরুদ্ধে চুরি ডাকাতি ও অস্ত্র মামলায় জেল খাটার অভিযোগ :সাক্ষী মোকলেছকে ধরিয়ে দিয়ে ঘোষিত পুরস্কার পেয়েছিলেন এক পুলিশ কমকর্তা
১০ মার্চ ২০১৪, সোমবার,

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকার পক্ষের তৃতীয় সাক্ষী মোকলেছুর রহমান সরকার ওরফে মোকলেছ আলীর জেরা গতকাল রোববার শেষ হয়েছে। গত বুধবার তিনি জবানবন্দী দিয়েছিলেন। তাকে জেরা করেন আজহারের আইনজীবী এডভোকেট আব্দুস সুবহান তরফদার। আগামী ১৬ মার্চ পরবর্তী সাক্ষীর দিন ধার্য করেন  ট্রাইব্যুনাল। জেরায় আসামী পক্ষের আইনজীবী অভিযোগ করেন যে, ৩নং সাক্ষী মোকলেছ বিদ্যুতের তার চুরি, গরু চুরি, ডাকাতি ও অস্ত্র মামলার আসামী হিসেবে আড়াই বছর জেল খেটেছেন। বিদ্যুতের তার চুরির অভিযোগে তিনি একজন পুরস্কার ঘোষিত আসামী হওয়ায় তাকে ধরিয়ে দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই আমির হামজা পুরস্কার পেয়েছেন। এসব অভিযোগের বিপরীতে আসামী পক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আছে কিনা কোর্ট জানতে চাইলে আইনজীবীরা বলেছেন যে, তাদের কাছে ডকুমেন্ট আছে এবং যথাসময়ে তা আদালতে উপস্থাপন করা হবে। সাক্ষী মোকলেছ অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ট্রাইব্যুনালে বিষয়টি রেকর্ড হয়েছে যেভাবে তা হলো “আমাদের গ্রামের মসজিদের ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে একটি ফৌজদারী মামলায় ৩১ জন আসামীর মধ্যে আমিও আসামী ছিলাম।  ইহা সত্য নহে যে, আমি বিদ্যুতের তার ও গরু চুরি, অস্ত্র মামলা ও ডাকাতি মামলার আসামী ছিলাম।”
ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে অপর দুই সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গতকাল রোববার জেরা করা হয় ৩নং সাক্ষী মোকলেছুর রহমান ওরফে মোকলেছ আলীকে। গাজীপুর জেলা কারাগারে আটক এটিএম আজহারুল ইসলামকে এ উপলক্ষে গতকাল সকালেই আনা হয়  ট্রাইব্যুনালে। সাক্ষ্য গ্রহণকালে তিনি এজলাস কক্ষের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। আসামীপক্ষে আরো উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনির, রায়হান উদ্দিন ও মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন। অন্যদিকে সরকার পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর একেএম সাইফুল ইসলাম, তাপস কান্তি বল, রেজিয়া সুলতানা চমন প্রমুখ।
৩নং সাক্ষীর গতকালের জেরার বিবরণ নি¤œরূপ :
প্রশ্ন : রংপুরে কোথায় তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দী দিয়েছিলেন?
উত্তর : সার্কিট হাউসে।
প্রশ্ন : আপনাদের বাড়ি থেকে রংপুর কোন্্ দিকে কত দূরে?
উত্তর : বলতে পারব না।
প্রশ্ন : বদরগঞ্জে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে কোথায় বসে জবানবন্দী দেন?
উত্তর : ডাকবাংলোতে।
প্রশ্ন : বদরগঞ্জ ডাকবাংলো আপনাদের বাড়ি থেকে কোন্্ দিকে কত দূরে?
উত্তর : পূর্ব দিকে, তবে কত দূরে বলতে পারব না।
প্রশ্ন : জবানবন্দী দেয়ার জন্য কত তারিখে বদরগঞ্জ এবং কত তারিখে রংপুর গিয়েছিলেন?
উত্তর : মনে নেই।
প্রশ্ন : ঐ দুই জায়গার জবানবন্দী কি তদন্ত কর্মকর্তা লিপিবদ্ধ করেছিল?
উত্তর : হ্যাঁ, লিখেছিল।
প্রশ্ন : আপনি বদরগঞ্জ ডাকবাংলো ও রংপুর সার্কিট হাউসে পৃথক পৃথকভাবে জবানবন্দী দিয়েছেন মর্মে যা বলেছেন তা অসত্য।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনার গ্রামের আবদুল গফুর পিতা মৃত কেরামত আলী ও আবদুল জলিল পিতা কেরাত হোসেন বিষুকে চেনেন?
উত্তর : গফুরকে চিনি, জলিলকেও চিনি।
প্রশ্ন : নজরুল ইসলাম ও রহিম উদ্দিনকে চেনেন?
উত্তর : নজরুলকে চিনি, রহিমকে চিনি না।
প্রশ্ন : ধাপপাড়ার আজিজুল ও মোল্লাপাড়ার অহিদুলকে চেনেন?
উত্তর : অহিদুলকে চিনি, আজিজুলকে চিনি না।
প্রশ্ন : যাদেরকে চেনেন তারা ভাল লোক?
উত্তর : জ্বি, ভাল লোক।
প্রশ্ন : ১৯৭০ সালের নির্বাচনে এমএনএ প্রার্থী কে কে ছিলেন আপনার এলাকায়?
উত্তর : এলাহী বক্স মাস্টার আওয়ামী লীগ থেকে দাঁড়িয়ে পাস করে। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আফজাল মিয়া পরাজিত হয়।
প্রশ্ন : আপনাদের বাড়ি থেকে রংপুর এবং বদরগঞ্জ অনেক দূরে। কিন্তু পার্বতীপুর নিকটে।
উত্তর : বদরগঞ্জ কাছে, তার একটু দূরে পার্বতীপুর, তার চেয়েও দূরে রংপুর।
প্রশ্ন : মনসুর ডাক্তার একজন ভাল ডাক্তার ছিলেন। তাকে চেনেন?
উত্তর : তিনি পার্বতীপুরে বসতেন। তাকে চিনতাম। তাকে দিয়ে চিকিৎসা করিয়েছি।
প্রশ্ন : মনসুর ডাক্তারের গ্রামের বাড়ি কোথায়?
উত্তর : জানি না।
প্রশ্ন : আপনাদের গ্রামে কারো অসুখ হলে পার্বতীপুরে ঐ মনসুর ডাক্তারের কাছে যেতেন।
উত্তর : ছোট অসুখ হলে গ্রামের ডাক্তার, আর বড় অসুখ হলে পার্বতীপুরে মনসুর ডাক্তারকে দেখানো হতো।
প্রশ্ন : ঘটনার দিন আপনি আপনার মায়ের সাথে রাধানগরের ম-ল পাড়ায় গিয়েছিলেন।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালের ঐ ঘটনার সময় আপনি অনেক ছোট ছিলেন।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনাদের গ্রামের লোকেরা বড় বাজার যেমন ঈদের বাজার ইত্যাদি করার জন্য পার্বতীপুর যেতো ১৯৭০-৭১ সালে।
উত্তর : বাজারের দিন যেখানে ধান-পাট বিক্রি করতো সেখানেই অন্যান্য জিনিস কেনাকাটা করতো।
প্রশ্ন : পার্বতীপুরের মনসুর ডাক্তার আওয়ামী লীগ করতেন।
উত্তর : আমি তাকে ডাক্তার হিসেবে চিনতাম। আওয়ামী লীগ করতো কিনা জানি না।
প্রশ্ন : আপনি ফৌজদারী মোকদ্দমায় আড়াই বছর হাজতে ছিলেন।
উত্তর : গ্রামের মসজিদের ওয়াক্্ফ সম্পত্তি নিয়ে ফৌজদারী মামলায় ৩১ জন আসামীর মধ্যে আমি ছিলাম। তবে কোন জেল খাটি নাই।
প্রশ্ন : আপনি গরু চুরি, ডাকাতি ও অস্ত্র মামলার আসামী ছিলেন।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনাকে ধরার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : বিদ্যুতের তার চুরির মামলাও আপনার বিরুদ্ধে হয়েছিল।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : তার চুরির মামলায় আপনাকে ধরার কারণে এএসআই আমির হামজা ঘোষিত মতে পুরস্কারের টাকা পেয়েছিল।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন :১৯৭১ সালের ১৬ই এপ্রিল পাকিস্তান আর্মিদের সাথে এটিএম আজহারুল ইসলাম টেকশের হাটে ৬নং রেল গেইটের নিকট যায় নাই বা সেই দিন বা কোন দিনই তিনি পাকিস্তানী আর্মিদের সাথে ছিলেন না।
উত্তর : ইহা সত্য নহে।
প্রশ্ন : আপনাদের গ্রামের ঘটনার দিন বা কোন দিনই পাকিস্তান আর্মির সাথে এটিএম আজহারুল ইসলাম কোথাও যাননি?
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : ঘটনার সময় আপনি ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে থেকে ঘটনা দেখার কথা মিথ্যা ও বানোয়াট।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনার বাবা এটিএম আজহারের পা ধরলে তিনি ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন মর্মে অসত্য বক্তব্য দিয়েছেন।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : এটিএম আজহারুল ইসলাম ১৯৭০-৭১ সাল বা তার আগে-পরে কোন দিনই আপনাদের গ্রাম বা ঐ এলাকায় যাননি।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনি ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে থেকে কুদ্দুসকে হত্যা করার যে বর্ণনা দিয়েছেন তাও অসত্য, বানোয়াট এবং শেখানো মতে বলেছেন।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : প্রসিকিউশনের শেখানো মতে এটিএম আজহারুল ইসলামকে আপনি শনাক্ত করেছেন।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : কাঠগড়ায় একমাত্র আসামী হিসেবেই এটিএম আজহারকে আপনি শনাক্ত করেছেন।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সাল বা তার আগে কখনো আপনি তাকে চিনতেন না।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন- আমি ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে থেকে ঘটনা দেখি নাই বা আমার বাবা এটিএম আজহারুল ইসলামের পা ধরলে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় নাই। “আমি জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামকে চিনতাম কারণ তিনি ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে আমাদের এলাকায় এসেছিলেন। বা “আমি ঝোপের ভিতর থেকে আরো দেখতে পাই যে, আমাদের গ্রামের মুনশী কুদ্দুসকে তারা একইভাবে হত্যা করে। পাকিস্তানী আর্মি ও তাদের সহযোগিরা চলে যাওয়ার পরে আমাদের গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় ১৫ জনের লাশ পড়ে থাকতে দেখি । আমি জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামকে চিনতাম কারণ তিনি ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে আমাদের এলাকায় এসেছিল। বা পরে গ্রামের লোকজন জমায়েত হলে তাদের কাছে শুনি গুলী করার কারণে কালটি মাইয়ের পেটের বাচ্চা বের হয়ে এসেছে। আত্মরক্ষার জন্য ইউসুফ বট গাছে লুকিয়ে ছিল, আর্মিরা তার বাড়ি থেকে চলে গেলে সে বাড়িতে গিয়ে দেখে তার রেডিও এবং জাল নাই, সে সেগুলো খোঁজ করতে বের হয়ে গেলে আর্মিরা তাকে গুলী করে হত্যা করে। আমি এই ঘটনা আমিনুল ও আবু ইয়াহিয়ার কাছ থেকে শুনেছি। বা আমি আরো শুনতে পাই যে, যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আমাদের গ্রামের দক্ষিণ দিকে ঝাড়–য়ার বিল নামক জায়গায় দুই দিক থেকে দুইটি ট্রেন এসে থামে এবং দিনে ও রাতে মিলে প্রায় হাজার বারশ’ লোককে হত্যা করে। একথাগুলো অসত্য বানোয়াট ও কাল্পনিক।
উত্তর : ইহা সত্য নহে।
প্রশ্ন : ১৯৭০ সালে কিংবা উহার আগে কিংবা ১৯৭১ সালে এটিএম আজহারুল ইসলাম আপনাদের এলাকায় যায় নাই।
উত্তর : ইহা সত্য নহে।
প্রশ্ন : উক্ত ট্রেন থেকে এটিএম আজহারুল ইসলাম নামে উত্তর দিকে অগ্রসর হতে থাকে- এ কথাগুলো ইতঃপূর্বে আপনি কাহারো নিকট বলেন নাই।
উত্তর : ইহা সত্য নহে।
প্রশ্ন :‘আমি এই ঘটনা আবু ইয়াহিয়ার নিকট থেকে শুনেছি’ একথা ইতঃপূর্বে কাহারো নিকট আপনি বলেন নাই।
উত্তর : ইহা সত্য নহে।
প্রশ্ন : প্রসিকিউশনের শিখানো মতে এটিএম আজহারুল ইসলামকে আপনি শনাক্ত করেছেন।
উত্তর : ইহা সত্য নহে।
প্রশ্ন : কাঠগড়ায় একমাত্র আসামী থাকায় আপনি এটিএম আজহারুল ইসলামকে শনাক্ত করেছেন।
উত্তর : ইহা সত্য নহে।
প্রশ্ন : এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে যে সাক্ষ্য দিয়েছেন তা অসত্য, বানোয়াট ও শেখানো মতে বলেছেন।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনি সত্য গোপন করে অসত্য সাক্ষ্য দিয়েছেন।
উত্তর : সত্য নয়।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=140544