৯ এপ্রিল ২০২০, বৃহস্পতিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
আজহারের বিরুদ্ধে ২নং সাক্ষীর জেরা সমাপ্ত ৩নং সাক্ষীর জেরা অব্যাহত
৭ মার্চ ২০১৪, শুক্রবার,

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকার পক্ষের দ্বিতীয় সাক্ষী মোহাম্মদ মোস্তফা মিয়ার জেরা গতকাল বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। তৃতীয় সাক্ষী মোকলেছুর রহমান সরকার ওরফে মোকলেছ আলীর অবশিষ্ট জেরা গতকাল শুরু হয়েছে। আজহারের আইনজীবী এডভোকেট আব্দুস সুবহান তরফদার গতকাল সকালে ২নং সাক্ষী এবং বিকেলে ৩নং সাক্ষীকে জেরা করেন। জেরার সময় ২নং সাক্ষী স্বীকার করেন যে, তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দী দেয়ার আগে তিনি নিজে এবং তার বড় ছেলে রিকশা চালাতেন। এখন তিনি রিকশা চালান না। আর বড় ছেলের চাকরি হয়েছে রংপুর সেনানিবাসে একটি বেসামরিক পদে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে। নিজের স্ত্রীর গর্ভধারণের কথা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে বলেছেন এক রকম আর ট্রাইব্যুনালে বলেছেন ভিন্ন রকম। তদন্ত কর্মকর্তার কাছে বলেছেন, ১৯৭১ সালের বৈশাখ মাসে তিনি যখন ভারতে যান তখন তার স্ত্রী ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলো। আর ট্রাইব্যুনালে বলেছেন, দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল।
ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে অপর দুই সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জেরা সম্পন্ন হয় ২নং সাক্ষী মোহাম্মদ মোস্তফা মিয়ার। পরে বিকেলের সেশনে জেরা করা হয় ৩নং সাক্ষী মোকলেছুর রহমান সরকার ওরফে মোকলেছ আলীকে। বিকেলের সেশনে চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের নেতৃত্বে অপর সদস্য আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে ট্রাইব্যুনাল-১ মামলা পরিচালনা করেন। গাজীপুর জেলা কারাগারে আটক এটিএম আজহারুল ইসলামকে এ উপলক্ষে গতকাল সকালেই আনা হয়  ট্রাইব্যুনালে। সাক্ষ্য গ্রহণকালে তিনি  এজলাস কক্ষের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। আসামীপক্ষে আরো উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনির, রায়হান উদ্দিন ও মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন। অন্যদিকে সরকার পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর একেএম সাইফুল ইসলাম, ড. তুরিন আফরোজ ও তাপস কান্তি বল।
২নং সাক্ষী মোস্তফা মিয়ার অবশিষ্ট জেরা নি¤œরূপ :
প্রশ্ন : আপনি মুক্তিযুদ্ধের আগে যে ব্যবসা করতেন তার কোন কাগজপত্র কি এই ট্রাইব্যুনালে দাখিল করতে পারবেন?
উত্তর : ৪০ বছর আগের কাগজপত্র দাখিল করতে পারব না।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে আপনার বাড়ির আশপাশে যে ফাঁকা জায়গা ছিল এখন সেখানে ঘরবাড়ি হয়ে ভরে গেছে।
উত্তর : মানুষ বেশি হয়ে গেছে বাড়িঘর তো হবেই।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে আপনাদের বাড়িতে ক’টি ঘর ছিল?
উত্তর : ৩টি, তার মধ্যে একটি মূল ঘর, একটি রান্নাঘর ও একটি গোয়াল ঘর ছিল।
প্রশ্ন : আপনার অবিবাহিত দুই বোন কোন ঘরে থাকতো?
উত্তর : একটি বড় খেড়ী ঘরই ছিল। তাতেই সবাই থাকতো। টিনের ঘর ছিল না।
প্রশ্ন : বর্তমানে আপনার ভাই আর আপনার মিলে বাড়িটিতে মোট কতটি ঘর আছে?
উত্তর : ভাইয়ের ৪টি এবং আমার ৩টি ঘর আছে।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে আপনি যে ঘরে বসবাস করতেন সে ঘর ভেঙ্গে নিয়ে দক্ষিণে ঘর করেছেন।
উত্তর : জ্বি¡।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে আপনার বাড়ির দক্ষিণ দিকে যে বাড়ি ছিল তার পূর্ব দিকে কোন বাড়ি ছিল না।
উত্তর : ছিল না, এখনো নেই।
প্রশ্ন : দক্ষিণের ঐ বাড়ির (ঢাকাইয়াদের) পূর্ব দিকে এখন বাড়িঘর আছে?
উত্তর : জ্বি¡, আছে।
প্রশ্ন : আপনাদের পুরা বাড়িতে এখন আর কোন খড়ের ঘর নেই।
উত্তর : আমার ভাইয়ের একটি রান্নাঘর আছে খড়ের।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে আপনার বাড়ির পূর্বপাশে যে অবস্থা ছিল এখনো সেই অবস্থাই আছে।
উত্তর : ইহা সত্য নয়। তখন রহমানের বাড়ি ছিল। এখন বাড়ি নেই, শুধু ভিটা আছে।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে আপনার বাড়ির পূর্বপাশে রহমানের বাড়ি নামে কোন বাড়ি ছিল না।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনাদের বাড়ির পূর্বপাশে এখনো ধানী জমি আছে, ১৯৭১ সালেও ধানী জমি ছিল।
উত্তর : সত্য নয়। ১৯৭১ সালে রহমানের বাড়ি ছিল। তার বাড়ির উত্তর দিকে ধানী জমি ছিল।
প্রশ্ন : আপনার বাড়ির পশ্চিম দিকের রাস্তার অবস্থা ১৯৭১ সালে এরূপ ছিল না।
উত্তর : সত্য।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে আপনি যখন ভারতে যান তখন আপনার স্ত্রী ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। আমাদের কাছে ডকুমেন্ট আছে।
উত্তর : সত্য নয়। দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। আমি কোথাও কাউকে ইতঃপূর্বে বলি নাই যে আমি ভারতে যাওয়ার সময় আমার স্ত্রী ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল।
প্রশ্ন : রমনা সিগারেট কোম্পানির মোস্তাক আপনার স্ত্রীকে চিনতো এটা আজহারুল ইসলাম জানতো না।
উত্তর : ইহা সত্য নয়। তবে মোস্তাক ও আজহার একই সাথে আমাদের বাড়িতে এসেছিল।
প্রশ্ন : এটিএম আজহারুল ইসলাম আজ পর্যন্ত আপনাদের গ্রামে কোন দিনই কোন সময়ই যাননি।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : পাকিস্তান আর্মির সাথে এটিএম আজহারুল ইসলাম ঘটনার সময় আপনাদের বাড়িতে যায়নি।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : এটিএম আজহার অদ্যাবধিও আপনাদের বাড়ি চেনেন না।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আর্মিদের সাথে থেকে এটিএম আজহার আপনার স্ত্রীকে বেইজ্জতি করেছে মর্মে যে কথা বলেছেন তা মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনার স্ত্রী এটিএম আজহারুল ইসলামের পা ধরে তাকে রক্ষা করতে বলেছিল : এই কথাগুলো অসত্য, বানোয়াট।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : টাউন হলের সামনে থাকা দু’টি গাড়িতে করে পাকিস্তান আর্মিরা বিভিন্ন গ্রাম থেকে সুন্দরী মহিলাদের আনতো তখন আজহারকে তাদের সাথে দেখা যেত। এই কথাগুলো মিথ্যা, কাল্পনিক ও শেখানো মতে বলেছেন।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে রংপুর এলাকায় রাজাকার, আলবদর নামে কোন সংগঠন ছিল না।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দী দেয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত আপনি রিকশা চালাতেন।
উত্তর : সত্য।
প্রশ্ন : জবানবন্দী দেয়ার পর থেকে আপনি আর রিকশা চালান না।
উত্তর : এখন আমার শরীর সুস্থ নয়।
প্রশ্ন : তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দী দেয়ার পর আপনার বড় ছেলের চাকরি হয়েছে।
উত্তর : জ্বি¡, রংপুর ক্যান্টনমেন্টে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে লেবারের কাজ করে।
প্রশ্ন : আপনি ও আপনার স্ত্রী তদন্ত কর্মকর্তার নিকট জবানবন্দী দেয়ার পূর্বে আপনার বড় ছেলেও রিকশা চালাতো।
উত্তর : জ্বি¡, রিকশা ও অটো চালাতো।
প্রশ্ন : আপনি এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে অত্র ট্রাইব্যুনালে যেসব অভিযাগ করেছেন তা সম্পূর্ণ অসত্য, বানোয়াট এবং শেখানো মতে বলেছেন।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনি সত্য গোপন করে অসত্য সাক্ষ্য দিয়েছেন।
উত্তর : সত্য নয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালের সেশনেই শেষ হয় ২নং সাক্ষী মোস্তফা মিয়ার জেরা। পরে ৩নং সাক্ষী মোকলেছুর রহমান সরকার ওরফে মোকলেছ আলীকে বিকেলের সেশনে জেরা করেন এডভোকেট আব্দুস সুবহান তরফদার। তার জেরা অসমাপ্ত থাকায় রোববার পর্যন্ত জেরা মুলতবি করা হয়।
৩নং সাক্ষী মোকলেছ আলীর জেরা-
প্রশ্ন : আপনাদের গ্রামে ক’টি পাড়া আছে?
উত্তর : ৪টি পাড়া আছে। যথা উত্তর পাড়া, দক্ষিণপাড়া, পূর্ব পাড়া ও পশ্চিম পাড়া।
প্রশ্ন : আপনাদের বাড়ি কোন পাড়ায়?
উত্তর : মৃধা পাড়ায়।
প্রশ্ন : মৃধা পাড়ায় শুধু আপনাদের বংশের লোকেরাই বসবাস করে।
উত্তর : জ্বি¡।
প্রশ্ন : আপনাদের বংশে কে কে ছিল?
উত্তর : আমার বাবা ও চাচা দুই ভাই ছিল।
প্রশ্ন : আপনারা কত ভাই বোন?
উত্তর : আমরা তিন ভাই দুই বোন।
প্রশ্ন : সবার বড় কে?
উত্তর : মোজাম্মেল সরকার।
প্রশ্ন : তারপর কে কে?
উত্তর : তারপর আমি, আমার পরে আমার এক ছোট ভাই ও দুই বোন রয়েছে।
প্রশ্ন : আপনার বড় ভাই মোজাম্মেল সরকার জীবিত আছেন?
উত্তর : জ্বি¡।
প্রশ্ন : উনি দাড়িওয়ালা এবং বয়স্ক লোক।
উত্তর : জ্বি¡, তার দাড়ি আছে।
প্রশ্ন : আপনার বড় ভাইয়ের কত ছেলে-মেয়ে?
উত্তর : তিন ছেলে দুই মেয়ে।
প্রশ্ন : উনার ৩ ছেলে কি করে?
উত্তর : ৩ জনই কৃষি কাজ করে।
প্রশ্ন : তাদের দুইজন বিয়ে করেছে।
উত্তর : জ্বি¡।
প্রশ্ন : টেকশোর হাটে ৬নং রেল ঘুন্টি চেনেন?
উত্তর : জ্বি¡।
প্রশ্ন : রেল লাইনটা কোনদিক থেকে কোন দিকে গেছে?
উত্তর : পূর্ব-পশ্চিমে।
প্রশ্ন : রেলঘুন্টির উত্তর-দক্ষিণে একটি পাকা রাস্তা আছে।
উত্তর : এখন আছে, পূর্বে পাকা ছিল না।
প্রশ্ন : রাস্তার দু’ধারে ধান চাষ হয়।
উত্তর : জ্বি।
প্রশ্ন : রাস্তার দু’ধারে ধানী জমি ও বাড়িঘর আগেও ছিল এখনো আছে।
উত্তর : জ্বি। আগে ধানী জমি ছিল। এখন মাঝে মাঝে বাড়িঘর হয়েছে।
প্রশ্ন : ৬নং রেলঘুন্টি থেকে ধাপপাড়া কত দূরে?
উত্তর : ৪ কি: মি: এর উপরে হবে।
প্রশ্ন : ধাপপাড়া থেকে আপনাদের বাড়ি পশ্চিম দিকে।
উত্তর : এক কি: মি: উত্তর-পশ্চিম দিকে।
প্রশ্ন : ধাপপাড়া থেকে আপনাদের বাড়ি যেতে মাঝখানে আরো বাড়িঘর আছে।
উত্তর : জ্বি, আছে।
প্রশ্ন : ঐসব বাড়িঘরের মালিকদের নাম বলতে পারবেন?
উত্তর : জ্বি, তাদের মধ্যে আছে দেলোয়ার ম-ল, নুরু ম-ল, মজিবর, নুর আলম, তৌহিদুল ডাক্তার, শহিদুল ম-ল, আশিক আলী ম-লসহ আরো অনেকের বাড়ি আছে।
প্রশ্ন : আপনি স্কুলে লেখাপড়া করেছেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : আপনার বড় ভাই ও ছোট ভাই লেখা পড়া করেছে?
উত্তর: জ্বি।
প্রশ্ন: আপনার বোনেরা লেখাপড়া করেছে?
উত্তর : না, সুযোগ পায়নি।
প্রশ্ন : আপনার চাচার ছেলে-মেয়েরাও লেখাপড়া করেছে।
উত্তর : আমার চাচার এক ছেলে ছিল মারা গেছে। ৩ বোন বেঁচে আছে।
প্রশ্ন : আপনাদের গ্রামের জমিগুলোতে ধান চাষ হতো।
উত্তর : জ্বি।
প্রশ্ন : আপনাদের বাড়ি থেকে পাঠানের হাট যেতে অনেক গ্রাম ও বাড়িঘর আগেও ছিল এখনো আছে।
উত্তর : জ্বি।
প্রশ্ন : পার্বতীপুর চেনেন?
উত্তর : জ্বি, চিনি।
প্রশ্ন : আপনাদের বাড়ি থেকে পার্বতীপুর কত কি: মি: দূরে?
উত্তর : তা বলতে পারব না।
প্রশ্ন : আপনাদের এলাকার আওয়ামী লীগের নেতা ১৯৭১ সালে কে ছিল?
উত্তর : কোন নেতা আমাদের এলাকায় ছিল না।
প্রশ্ন : আপনার বড় ভাই কোন স্কুলে লেখাপড়া করেছেন?
উত্তর : পার্বতীপুর থানাধীন নুরুল হুদা স্কুলে পড়তো।
প্রশ্ন : পার্বতীপুর থানা দেখেছেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : বদরগঞ্জ থানা চেনেন?
উত্তর : জ্বি, চিনি।
প্রশ্ন : বদরগঞ্জ থানা থেকে আপনাদের বাড়ি কোনদিকে কত দূরে?
উত্তর : থানা থেকে আমাদের বাড়ি সোজা পশ্চিম দিকে। কত কি: মি: তা বলতে পারব না।
প্রশ্ন : আপনাদের বাড়ি থেকে বদরগঞ্জ থানায় যেতে কতটা রাস্তা আছে?
উত্তর : চার দিকের রাস্তা দিয়েই যাওয়া যায়।
প্রশ্ন : বদরগঞ্জ থানার শেষ সীমানায় আপনাদের গ্রাম।
উত্তর : আমাদের গ্রামের পরে বদরগঞ্জ থানাধীন আরো ৩টি গ্রাম আছে।
প্রশ্ন : ধাপপাড়া থেকে রাস্তা গিয়ে বদরগঞ্জ থানার কোথায় গিয়ে শেষ হয়েছে?
উত্তর : আমি বলতে পারব না।
প্রশ্ন : পূর্ব দিকে কত কি: মি: গিয়ে বদরগঞ্জ থানা শেষ হয়েছে?
উত্তর : সেটাও বলতে পারব না।
প্রশ্ন : আপনাদের গ্রাম কোন ইউনিয়নের অধীন।
উত্তর : ৮নং উত্তর রামনাথপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে আপনাদের ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কে ছিলেন?
উত্তর : জহির উদ্দিন।
প্রশ্ন : আপনাদের ওয়ার্ডের মেম্বার কে ছিলেন?
উত্তর : মেম্বার ছিল না।
প্রশ্ন : বর্তমানে আপনাদের ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কে, মেম্বার কে?
উত্তর : চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর, মেম্বার নূরুল আলম।
প্রশ্ন : আপনার নাম যে মোকলেছুর রহমান এ সংক্রান্ত জাতীয় পরিচয়পত্র আপনার আছে?
উত্তর : জ্বি, আছে।
প্রশ্ন : ওটা কি এখন আপনার সাথে আছে?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্ম তারিখ কে বলে দিয়েছিল?
উত্তর : আমি বলে দিয়েছি, তারা লিখেছে।
প্রশ্ন : আপনার বড় ভাই বর্তমানে কি করে?
উত্তর : কৃষিকাজ ও আমিনগিরি করে।
প্রশ্ন : মিলের ডাঙ্গা কি কোন গ্রামের নাম?
উত্তর : এটা একটি চৌরাস্তা, সেখানে একটা ধান ভাঙ্গানো মিল ছিল। ওখানে একটি বধ্যভূমি আছে।
প্রশ্ন : এই মিলের ডাঙ্গা থেকে আপনাদের গ্রাম কোন দিকে কত দূরে?
উত্তর : এক কিলোমিটার পশ্চিম দিকে।
প্রশ্ন : এই বধ্যভূমিটি কত সালে স্থাপিত হয়েছে?
উত্তর : তা বলতে পারবো না।
প্রশ্ন : আপনার মা মারা যাওয়ার তারিখ মনে আছে?
উত্তর : তারিখ মনে নেই। তবে এখনো দুই বছর, পূর্ণ হয়নি।
প্রশ্ন : আপনার বিয়ের তারিখ মনে আছে?
উত্তর : তারিখ মনে নেই। তবে ১৯৭৫ সালে বিয়ে করেছি।
প্রশ্ন : আপনার ছেলে-মেয়ের জন্ম তারিখ বলতে পারবেন?
উত্তর : তারিখ বলতে পারব না। তবে সব লেখা আছে।
প্রশ্ন : ট্রেন থেকে ঘটনার দিন কত পাকিস্তান আর্মি ঘুণ্টিঘরে নেমেছিল?
উত্তর : ১শ’র বেশি।
প্রশ্ন : আপনি কোন রাজনীতি করেন না?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : আপনার পরিবারের কেউ রাজনীতি করে না?
উত্তর : এক ছেলে মিরপুর কলেজে এমএ পড়ে, আরেক ছেলে মৌলভীবাজারে চাকরি করে। তারা কে কি করে তা আমি জানি না।
প্রশ্ন : ঝাড়ুয়ার বিল আপনাদের বাড়ি থেকে কোন দিকে কত কি: মি:?
উত্তর : ৭ কি: মি: দক্ষিণ-পূর্ব দিকে।
প্রশ্ন : রেল লাইনের কোন পাশে ৬নং রেলঘুণ্টি ঘর?
উত্তর : দক্ষিণ পাশে।
প্রশ্ন : বড় বটগাছটি কোন দিকে?
উত্তর : উত্তর পাশে।
প্রশ্ন : ধাপপাড়া বধ্যভূমি লাগোয়া অহিদুল হক সাহেবের বাড়ি চেনেন?
উত্তর : জ্বি, চিনি।
প্রশ্ন : অহিদুল হকের পরিবার পরিজন ঐ বাড়িতেই বসবাস করে?
উত্তর : জ্বি, উনি নিজেই ঐ বাড়িতে এক পরিবার নিয়ে থাকে। তার অন্য পরিবার অন্যত্র থাকে।
প্রশ্ন : আবু তাহের ও মকবুলকে চেনেন?
উত্তর : জ্বি, এই মামলার সাক্ষী, তাকে আমি চিনি। মকবুলও এই মামলার সাক্ষী। তাকেও চিনি।
প্রশ্ন : ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আপনাদের ইউনিয়ন থেকে কোন প্রার্থী ছিলেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : মকছেদপুর গ্রামটি আপনি চেনেন?
উত্তর : জ্বি, চিনি। মকছেদপুর ধাপপাড়া বধ্যভূমিকে মকছেদপুর গ্রাম বলা হয়।
প্রশ্ন : রামকৃষ্ণপুর বৃত্তপাড়া আপনাদের বাড়ি থেকে কোন দিকে কত দূরে?
উত্তর : ঐ গ্রামাটি আমি চিনি না।
প্রশ্ন : রামনাথপুর হাজীপাড়া গ্রামটি চেনেন?
উত্তর : জ্বি, চিনি। ৫টি গ্রাম নিয়ে এই মৌজা। ৫টি গ্রাম হলো মাদরাসা পাড়া, হাজীপাড়া, মোল্লাপাড়া, মৃধা পাড়া, পশ্চিম পাড়া ও ম-ল পাড়া নিয়ে উত্তর রামনাথপুর মৌজা।
প্রশ্ন : এই কোর্টে জবানবন্দী দেয়ার আগে এই মামলার বিষয়ে কারো কাছে জবানবন্দী দিয়েছেন?
উত্তর : জ্বি, এর আগে ৩ বার বক্তব্য দিয়েছি। রংপুর সার্কিট হাউজ, বধ্যভূমিতে, গ্রামের বাড়িতে বসে বক্তব্য দিয়েছি।
প্রশ্ন : আপনার বক্তব্য তখন রেকর্ড করা হয়েছিল?
উত্তর : বদরগঞ্জ ও রংপুরে স্টেটমেন্ট লিখেছিল। বধ্যভূমিতে সাক্ষাৎকার নেয় বিভিন্ন চ্যানেল থেকে। সেগুলো লেখা হয়নি।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=140315