৯ এপ্রিল ২০২০, বৃহস্পতিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
আজহারের বিরুদ্ধে ৩নং সাক্ষীর জবানবন্দী প্রদান
৬ মার্চ ২০১৪, বৃহস্পতিবার,

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকার পক্ষের তৃতীয় সাক্ষী মোকলেছুর রহমান সরকার ওরফে মোকলেছ আলী গতকাল বুধবার জবানবন্দী দিয়েছেন। দ্বিতীয় সাক্ষী মোহাম্মদ মোস্তফা মিয়ার অবশিষ্ট জেরা গতকাল হওয়ার কথা থাকলেও আজহারের আইনজীবী এডভোকেট আব্দুস সুবহান তরফদারের শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি জেরা করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ পর্যায়ে ২নং সাক্ষীর জেরা স্থগিত রেখে ৩নং সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণ করে আদালত মুলতবি করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার ২নং সাক্ষীর জেরার দিন পুনঃনির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে অপর দুই সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গতকাল জবানবন্দী দেন ৩নং সাক্ষী মোকলেছ।
গাজীপুর জেলা কারাগারে আটক এটিএম আজহারুল ইসলামকে এ উপলক্ষে গতকাল সকালেই আনা হয় ট্রাইব্যুনালে। সাক্ষ্য গ্রহণকালে তিনি এজলাস কক্ষের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। আসামীপক্ষে আরো উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনির, রায়হান উদ্দিন ও মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন। অন্যদিকে সরকার পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর একেএম সাইফুল ইসলাম ও তাপস কান্তি বল।
৩নং সাক্ষীর জবানবন্দীর বিবরণ নি¤œরূপ :
আমার নাম মোকলেছুর রহমান ওরফে মোঃ মোকলেছ আলী। আমার বর্তমান বয়স আনুমানিক ৫৬ বছর। আমার ঠিকানা : গ্রাম-উত্তর রামনাথপুর, থানা-বদরগঞ্জ, জেলা-রংপুর।
আমি বর্তমানে কৃষি কাজ করি, আগেও আমি কৃষি কাজ করতাম। ১৯৭১ সালের ১৬ এপ্রিল তারিখে রংপুর থেকে একটি ট্রেন টেকশোর হাট সংলগ্ন ৬নং রেল গেইটে পৌঁছে। উক্ত ট্রেনে পাকিস্তান আর্মি, এটিএম আজহারুল ইসলাম এবং আরো জামায়াতে ইসলামীর লোকজন সে জায়গায় আসে। পাকিস্তান আর্মি, এটিএম আজহারুল ইসলাম এবং জামায়াতে ইসলামীর লোকজন তখন উক্ত ট্রেন থেকে নেমে উত্তর দিকে অগ্রসর হতে থাকে। তারা পথের দু’ধারের বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় এবং গুলী ছুঁড়তে থাকে। ফলে মানুষজন ভয়ে এদিক-সেদিক পালাতে থাকে। তারপর তারা মিলেরডাঙ্গা হয়ে আমাদের বাড়ি ও গ্রামে এসে পৌঁছায়। পাকিস্তান আর্মি ও তাদের সহযোগিরা আমাদের গ্রামের দিকে আসা লক্ষ্য করে আমার মা, দুই ভাই, ও দুই বোন ৪ কিলোমিটার উত্তর দিকে পাঠানের হাট নামক এলাকায় চলে যায়। আমি ও আমার বাবা বাড়ি পাহারা দেয়ার জন্য বাড়িতে থেকে যাই। পাকিস্তানী আর্মি ও তাদের সহযোগিরা আমাদের গ্রাম ঘেরাও করে ফেললে আমি একটি ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে পড়ি এবং আমার বাবা পালাতে গিয়ে তাদের হাতে ধরা পড়ে। তখন আমি ঝোপের ভিতর থেকে দেখতে পাই যে, আমার বাবা এটিএম আজহারুল ইসলামের পা ধরলে তিনি ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং তখন পাকিস্তানী আর্মিরা আমার বাবাকে গুলী করে হত্যা করে। আমি জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামকে চিনতাম। কারণ তিনি ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে আমাদের এলাকায় এসেছিলেন। আমি ঝোপের ভিতর থেকে আরো দেখতে পাই যে, আমাদের গ্রামের মুনশী কুদ্দুসকে তারা একইভাবে হত্যা করে। পাকিস্তানী আর্মি ও তাদের সহযোগিরা চলে যাওয়ার পরে আমাদের গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় ১৫ জনের লাশ পড়ে থাকতে দেখি। তাদের মধ্যে আমার বাবা মমতাজ আলী সরকার, কুদ্দুস মুনশী, জহির উদ্দিন, চিনি মাই, আম মাই, জঙ্গলী ভরসা, বিযু, তমির উদ্দিন, আবু, টিনা, কালটি মাই, সাধিনা, ইউসুফ আলী ছিল। পরে গ্রামের লোকজন জমায়েত হলে তাদের কাছে শুনি, গুলী করার কারণে কালটি মাইয়ের পেটের বাচ্চা বেরিয়ে এসেছে। আত্মরক্ষার জন্য ইউসুফ বটগাছে লুকিয়ে ছিল, আর্মিরা তার বাড়ি থেকে চলে গেলে সে বাড়িতে গিয়ে দেখে তার রেডিও এবং জাল নাই। সেগুলো খোঁজ করতে বের হয়ে গেলে আর্মিরা তাকে গুলী করে হত্যা করে। আমি এই ঘটনা আমিনুল ও ইয়াহিয়ার কাছ থেকে শুনেছি। আমি আরো শুনতে পাই যে, যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আমাদের গ্রামের দক্ষিণ দিকে ঝাড়–য়ার বিল নামক জায়গায় দুই দিক থেকে দুইটি ট্রেন এসে থামে এবং দিনে ও রাতে মিলে হাজার/বারোশ’ লোককে হত্যা করে।
আসামী এটিএম আজহারুল ইসলাম অদ্য ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় উপস্থিত আছেন (শনাক্তকৃত)। আমি আমার বাবার হত্যার বিচার চাই।
জেরা-
প্রশ্ন : আপনার কয় ছেলে-মেয়ে এবং তাদের নাম কি?
উত্তর : আমার দুই ছেলে, এক মেয়ে। বড় ছেলের নাম মোশারফ হোসেন সরকার ও ছোট ছেলের নাম মোবারক হোসেন সরকার। মেয়ের নাম জান্নাতুল। (চলবে)।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=140248