১০ জুলাই ২০২০, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা নিজামীর মামলা পুণরায় শুনানি হবে ১০ মার্চ থেকে
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, বৃহস্পতিবার,
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির সাবেক মন্ত্রী মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে আনিত ১৯৭১ সালের কথিত মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় পুনরায় আর্গুমেন্ট শুরু হবে আগামী ১০ মার্চ। সদ্য নিয়োগ পাওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ  ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। নয়া চেয়ারম্যানকে দেয়া স্বাগত বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, আমি আইন ও সংবিধান অনুসারে ন্যয় বিচার নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকবো। সুবিচার নিশ্চিত করতে তিনি সকলের কাছে দোয়া চান।
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমকে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়ে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর পরের দিন তিনি ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু করেন। তবে বিগত ২ দিন কোন মামলা তালিকাভুক্ত না থাকায় এজলাসে বসা হয়নি। গতকালই তিনি পূর্ব থেকে নিযুক্ত অপর দুই সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হককে নিয়ে প্রথম ট্রাইব্যুনাল-১ এর এজলাসে বসেন। সরকার পক্ষে প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম ও মোহাম্মদ আলী এবং আসামী পক্ষে এডভোকেট তাজুল ইসলাম তাকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।
মালুম বলেন, চীফ প্রসিকিউটর অসুস্থ। তিনি আসতে পারেননি। তার পক্ষ থেকে এবং প্রসিকিউশন টিমের পক্ষ থেকে আমরা আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। সেই সাথে এই ট্রাইব্যুনালে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনাকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিচ্ছি।
এডভোকেট তাজুল ইসলাম নয়া চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনি আমার খুব প্রিয় মানুষদের একজন। আপনার সাথে আমার আরো কাজ করার সুযোগ হয়েছে। তবে আমি খুব খুশি হতাম যদি আপনাকে এই ট্রাইব্যুনালে স্বাগত জানাতে না হতো। কারণ প্রিয় মানুষদের সব জায়গায় স্বাগত জানানো যায়না। তিনি বলেন, বিচারকরা আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। বিচারকদের কাজ বিনা ছুরিতে জবাই করার মত। এ কাজ অনেক কঠিন কাজ। তার পরেও আমি আপনার সাফল্য কামনা করছি।
জবাবে নয়া চেয়ারম্যান এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক স্বাগত জানানোর প্রয়োজন ছিলনা। তারপরও আপনারা স্বাগত জানালেন এজন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমি আপনাদের ধন্যবাদ জানাই। একজন মুসলমান হিসেবে আমি মনে করি, সব কিছু আল্লাহ কতৃক নির্ধারিত হয়। আমাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছা যাই থাকুক না কেন সব আল্লাহই নির্ধারণ করে দেন। আমি মুসলমান হিসেবে আল্লাহর প্রতি পুর্ণ আস্থাবান। আপনারা দোয়া করবেন, আমি যেন ন্যয়বিচার ও সুবিচার করতে পারি। আল্লাহ যেন আমাকে সেই তৌফিক দেন। এই বিচার নিয়ে সমগ্র জাতির একটা প্রত্যাশা আছে। প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটে সংবিধান অনুসারে। সেই সংবিধান আনুসারেই কাজ করবো।
এরপরই বিচারিক কার্যক্রমে হাত দেয়া হয়। প্রথমেই ইতোপূর্বে রায়ের জন্য অপেক্ষমান থাকা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির সাবেক মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মামলা কি করা হবে তার উপর মতামত জানতে চান ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী বলেন, আইনে পুন:শুনানীর কোন বিধান নেই। তবে ন্যয়বিচারের স্বার্থে নতুন চেযারম্যান আর্গুমেন্ট পুনরায় শুনতে পারেন। তাজুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব যেহেতু এই মামলা সম্পর্কে কিছুই জানেননা সেহেতু তিনি যদি রায় দেন তাতে ন্যয়বিচার নিশ্চিত নাও হতে পারে। তাই কমপক্ষে আর্গুমেন্ট নতুন করে শুনানী করা যেতে পারে। এর নজীরও এই ট্রাইব্যুনালেই আছে। তার পর ডেট সম্পর্কে জানতে চান উভয় পক্ষের কাছে। তাজুল ইসলাম জানান, এই মামলার মূল আইনজীবি মিজানুল ইসলাম আগামী ৯ মার্চ পর্যন্তু অন্য মামলায় ব্যস্ত আছেন। এজন্য তার সময়টা বিবেচনায় নিয়ে ডেট দেয়া যেতে পারে। পরে ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান আগামী ১০ মার্চ প্রসিকিউশনের শুনানীর জন্য তারিখ চুড়ান্ত করেন। তবে সময় বেধে দেননি তিনি।
গত ৩১ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১ এর সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবির অবসরে গেলে ৫৩ দিন ট্রাইব্যুনাল বন্ধ থাকে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারী নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে সরকার নিয়োগ দেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমকে। তারপর গতকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো এর কার্যক্রম। বর্তমানে ট্রাইব্যুনাল-১ এ চারটি মামলা বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। চেয়ারম্যান মামলা পরিচালনায় মূল দায়িত্ব পালন করেন। জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মামলাটি গত ২০ নবেম্বর রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমান রাখা হয়।
এ ছাড়াও আগামী ৩ মার্চ খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এটিএম  আজহারুল ইসলামের মামলা, ৪ মার্চ চ্যানেল ২৪, ৯ মার্চ মোবারক হোসেন ও ১০ মার্চ জাহিদ হোসেন খোকনের মামলা হয়েছে।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=139666