২০ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
এবার বাণিজ্য নিয়ে দিল্লি-ওয়াশিংটন সম্পর্কে চরম টানাপড়েন : ভারতের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, বুধবার,
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে চরম টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে। মূলত ভারতের বাংলাদেশ নীতি ঘিরেই সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকে। এর চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে নিউইয়র্কে নিযুক্ত ভারতীয় কূটনীতিক দেবযানী গোবড়াগাড়ের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে।
তবে বিবিসি জানাচ্ছে, বাণিজ্য নিয়ে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক এখন তিক্ত আকার ধারণ করেছে। ভারতের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
সোমবার বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে প্রকাশিত ‘ ইউএস-ইন্ডিয়া রিলেশন্স সাফার ইন ট্রেড স্প্যাট ওভার চিপ ড্রাগস (সস্তার ওষুধের বাণিজ্য নিয়ে ইঙ্গ মার্কিন সম্পর্কে টানাপড়েন)’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বারাক ওবামা এক সময় ভারত-মার্কিন সম্পর্ককে একবিংশ শতাব্দীর সীমানা নির্দেশক বলে মন্তব্য করলেও এই সম্পর্ক এখন কঠিন পথে এগুচ্ছে।’
ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ব্রজেশ উপাধ্যয়ের পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়, এর আগে কূটনৈতিক সম্পর্কে তিক্ততা তৈরি হয়েছিল ভারতীয় কূটনীতিককে নিয়ে এবং এবারকার অবনতিশীল সম্পর্কে মূলে রয়েছে ভারতের সস্তা ওষুধ ও পাইরেটেড সফটওয়্যার।
ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ অফিস-যেটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্যান্য দেশের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে থাকে, জানিয়েছে যে আমেরিকান প্যাটেন্টের সবচেয়ে বড় লঙ্ঘনকারী দেশ হিসেবে তারা ভারতকে নজরদারি তালিকায় রাখছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, প্যাটেম্লট বা মেধাস্বত্ব অধিকার লঙ্ঘন করে ভারত ওষুধ তৈরি করছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং নতুন উদ্ভাবনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে মার্কিনিরা।
তবে ভারত এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইন্ডিয়ান ফার্মাসিউটিক্যালস অ্যালায়েন্সের সাধারণ সম্পাদক ডিজি শাহ বলেন, নর্থ আমেরিকা, পশ্চিম ইউরোপ ও জাপানের জনসংখ্যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১৮ শতাংশ। কিন্তু তারা ৮৮ ভাগ ওষুধ রফতানি করে থাকে। অথচ বাকি বিশ্বের লোকসংখ্যা ৭২ শতাংশ কিন্তু তারা মাত্র ১২ শতাংশ ওষুধ রফতানি করে। কাজেই আর্থিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি হওয়ার যুক্তি সঠিক নয়।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্যান্য ক্ষেত্রে বাণিজ্যেও ভারত বড় ধরনের অপরাধী বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা। এ কারণে ভারতের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনাও রয়েছে।
বিবিসি জানায়, পাইরেসির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ৬টি ভারতীয় কোম্পানিকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এসব মার্কেটে পাইরেটের সফটওয়্যার, মুভি ইত্যাদি বিক্রি হতো।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সোলার কোম্পানির জন্য ভারতের বাজার খুলে না দেয়ায়ও মার্কিন ব্যবসায়ীরা নাখোশ।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2014/02/26/236926#.Uw1934U87IU