১০ জুলাই ২০২০, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা নিজামীর মামলায় আর্গুমেন্ট অব্যাহত || মাওলানা নিজামীর কথায় কেউ অপরাধ করেছে তার প্রমাণ নেই -তাজুল ইসলাম || ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা ন্যায়বিচার করতে পারছেন না - মিজানুল ইসলাম
১৯ নভেম্বর ২০১৩, মঙ্গলবার,
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর সাবেক মন্ত্রী বিশ্ববরেণ্য ইসলামী ব্যক্তিত্ব মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে আনীত ১৯৭১ সালের কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামীপক্ষের আর্গুমেন্ট অব্যাহত রয়েছে। প্রধান ডিফেন্স কৌঁসুলী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক আজ মঙ্গলবার ল পয়েন্টে আর্গুমেন্ট করবেন। এডভোকেট মিজানুল ইসলাম ও তাজুল ইসলাম গতকাল চার্জভিত্তিক যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেছেন। ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের যুক্তি উপস্থাপন সমাপ্ত হলে সরকারপক্ষ আরও কিছু জবাব দিবেন। হরতাল না থাকলে এ সপ্তাহেই হয়তো মামলার কার্যক্রম শেষে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ হতে পারে। গতকালের অভিযোগ ভিত্তিক যুক্তি উপস্থাপনকালে সব অভিযোগ মিথ্যা, সাক্ষী সাজানো এবং রাজনৈতিক বিদ্বেষপ্রসূত অভিযোগ আনা হয়েছে- এমন মন্তব্য করার পর এডভোকেট মিজানুল ইসলাম বলেন, আইন বলছে ট্রাইব্যুনাল ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। কিন্তু সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে বিচারকরা ন্যায়বিচার করতে পারছেন না। আইনের দৃষ্টিতে সমতার যে মূলনীতি সেটা এখানে অনুপস্থিত। সংবিধান আপনাদেরকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পথ বন্ধ করে দিয়েছে। এ প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির বলেন, সংবিধানের প্রথম সংশোধনী যখন সংসদে আনা হয় তখন উদ্দেশ্যটাই ছিল এমন যে যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ বা সহযোগিতার অভিযোগ আসবে তারা হয়ে যাবে তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক। তারা সংবিধান ও আইনে বর্ণিত সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন না। সংবিধানের এসব বিধানের দ্বৈততা থাকা অবস্থায় আসলে আমাদের কিছুই করার নেই। আপনার মক্কেল তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক হয়ে গেছেন। এই অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধেই আসবে তাদেরই কতিপয় আইনি অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের সব সুবিধা বা ন্যায়বিচার তারা পাবেন না। আর্গুমেন্টে অংশ নিয়ে এডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে উস্কানি দেয়ার যে ৪টি অভিযোগ আনা হয়েছে তার সবই ভিত্তিহীন। এসব চার্জে কোন মৌখিক সাক্ষী নেই। পেপার কার্টিং যা দেয়া হয়েছে তারও সত্যতা নেই। আর তার বক্তৃতা শুনে কেউ ১৯৭১ সালে হত্যা, গণহত্যা বা মানবতাবিরোধী কোন অপরাধ করেছে এমন একটি প্রামণও সরকারপক্ষ দাখিল করতে পারেনি।
বিচারপতি এটিএম ফজলে কবিরের নেতৃত্বে অপর দুই সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ চলছে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে আনীত ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার শেষ পর্যায়ের শুনানি। গতকালের শুনানিকালে ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন, তারিকুল ইসলাম, আসাদ উদ্দিন, হাসানুল বান্না সোহাগ, এডভোকেট মিজানুল ইসলাম ও তাজুল ইসলামকে সহায়তা করেন। সরকার পক্ষে প্রসিকিউটর মীর ইকবাল হোসেন, আবুল কালাম আজাদ, তাপস কান্তি বল উপস্থিত ছিলেন। ১১, ১২, ১৩ ও ১৪ নম্ব্র অভিযোগ ছাড়া বাকি ১১টি অভিযোগ খ-ন করে যুক্তি উপস্থাপন করেন মিজানুল ইসলাম। আর ১১, ১২, ১৩ ও ১৪ নং অভিযোগের ওপর আর্গুমেন্ট করেন তাজুল ইসলাম।
গত রোববারের যুক্তি উপস্থাপনের জের ধরে এডভোকেট মিজানুল ইসলাম গতকালের শুনানিতে বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার কাজ হলো যে নালিশ তিনি রেকর্ড করেছেন তার তদন্ত করা। কিন্তু তিনি সেটা তদন্ত করেননি, ঘটনাস্থলেও যাননি। আবার চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করার পরও তিনি তদন্ত অব্যাহত রাখেন যা বেআইনি। অতিরিক্ত তদন্তের কোন আইনগত ভিত্তি নেই। এটা হলো আসামীকে অনন্তকাল আটকে রাখার অসৎ উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, সাঁথিয়া ক্যাম্প থেকে কোন অপরাধ সংঘটিত হয়েছে মর্মে কোন সাক্ষ্য-প্রমাণ আনতে পারেনি প্রসিকিউশন। জবানবন্দীতে সাক্ষী শামসুল হক ন্নানু বলেন, মে মাসে থেকেই নিজামী সাহেব এই ক্যাম্পে যাতায়াত করতেন। আর জেরায় বলেন, জুলাই মাসের মাঝামাঝি সাঁথিয়া ক্যাম্প উদ্বোধন হয়। অর্থাৎ নিজামী সাহেব উদ্বোধনের দুই মাস আগে থেকেই যাতায়াত করতেন। এটা কি করে সম্ভব?
তিনি বলেন, রূপসী, বাউসাগাড়ী, ডেমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে তদন্ত কর্মকর্তা কোন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী পাননি। কিন্তু এখানে এসে সাক্ষী বলেছে তারা প্রত্যক্ষদর্শী। চার্জে আছে ৪শ’ লোককে হত্যা করা হয়। সাক্ষী বলেছে ১০০/১৫০ জনকে হত্যা করা হয়। কোনটাকে আদালত সত্য মনে করবে যেখানে প্রসিকিউশনই ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে।
মিজানুল ইসলাম বলেন, সাক্ষী শামসুল হক নান্নুর জন্ম ১৯৫৩ সালে। আর তিনি ১৯৫৪ সালে নিজামীকে মাদরাসায় পড়তে দেখেছেন। এক বছর বয়সে কি করে সম্ভব। ১১ এপ্রিল তিনি পাবনায় দেখলেন মতিউর রহমান নিজামীকে  তার বাড়ি পোড়াতে। আর সাক্ষী জহির উদ্দিন জালাল একই দিন তাকে দেখলেন ঢাকায়। কার কথা সত্য? ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলে তিনি আশির দশকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
 
অথচ ঐ চ্যানেলটি চালুই হয় প্রথম ১৯৯৭ সালে। আর আমাদের দেশে এসেছে আরও পরে। মিথ্যারও একটি সীমা থাকা উচিত।
তিনি বলেন, এই মামলায় একজন মাত্র ভিকটিম সাক্ষী শাজাহান আলী। তিনি ৪ বছর চিকিৎসাধীন ছিলেন আবার বলছেন ১৯৭৩ সালে ব্যাংকে চাকরি নিয়েছেন। তার বক্তব্য কোনটা সত্য? তিনি ১৯৭৫ সালে পাবনায় ফিরে যান প্রথম ঢাকায় চিকিৎসা শেষে। তখন বঙ্গবন্ধু জীবিত ছিলেন। তাহলে ১৯৭২ সালে পাবনা থেকে কিভাবে এসএসসি পাস করলেন? এই শাজাহান আলী বলেছেন, ১৯৭০ সালের ২৮ নবেম্বর গৌরিগ্রামে আমার গ্রাম থেকে ৫ মাইল দূরে জনসভায় নিজামী ভাষণ দেয়। ঐ জনসভা শুনতে আমি যাইনি কখন কি বলি তা মনে থাকে না। দুইবার স্ট্রোক করেছি। এই সাক্ষীকে রিলাই করে কোনো ব্যক্তিকে মৃত্যুদ- দেয়া যায় কি?
প্রদর্শিত দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করে মিজানুল ইসলাম বলেন, ১৯৭১ সালে ২৮ নবেম্বর চন্দ্র অস্ত গিয়েছে রাত ২টা ২৬ মিনিটে। আর রাত সাড়ে ৩টায় সাক্ষী খলিলুর রহমান ধুলাউড়ি গ্রামে নিজামীকে দেখেছে জোৎ¯œার আলোতে। মিথ্যারও সীমা আছে। চন্দ্র কি ঐ রাতে অতিরিক্ত ১ ঘণ্টা সার্ভিস দিয়েছিল? সাক্ষী জামাল উদ্দিন বলেছেন, আমি কোনো দিন কুড়িগ্রামের রৌমারীতে যাইনি। অন্য সাক্ষী জানে আলম জানু বলেন, জামাল উদ্দিন আমার সাথে রৌমারী এবং টাঙ্গাইলে ছিল। কার কথা সত? সাক্ষী নাজিম উদ্দিন খাত্তাব নিজেকে মুক্তিযুদ্ধা দাবি করলেও তালিকায় তার নাম নেই। আবুসোমা ফকির তৃতীয় অতিরিক্ত তালিকার সাক্ষী। এভাবে সাক্ষী এলাও করলে তারা রায়ের মধ্যেও নতুন একজন সাক্ষী আনারও সুযোগ পেতে পারে।
তিনি বলেন, জব্দ তালিকা যতটি করেছেন প্রতিটি সম্পর্কেই তদন্ত কর্মকর্তা অসত্য কথা বলেছেন। ৯৫টি পত্রিকা এক সময়ে জব্দ করেছেন। এতগুলো পত্রিকা স্ক্যান করতে কত সময় লাগে? ৫ ঘণ্টা ভরে স্ক্যান করলেন। ১১টায় গেলেন আর সাড়ে ১১টায় জব্দ তালিকা তৈরি করলেন কিভাবে? মাঝখানের ৪ ঘণ্টা সময় গেল কোথায়?
তিনি প্রশ্ন করেন, যেসব গণমাধ্যম জেনেশুনে অসত্য তথ্য পরিবেশন করে তার ওপর ভিত্তি করে আসামীকে সাজা দেয়া যায় কি? দ্বিজাতি তত্ত্বকে প্রসিকিউশন ঘৃণা করছে। আর দ্বিজাতি তত্ত্বের কর্ণধার হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে গণতন্ত্রের মানসপুত্র বলা হয়। এই দ্বিমুখী নীতি পরিহার করা প্রয়োজন।
মিজানুল ইসলাম বলেন, মাওলানা নিজামী কারো দয়ায় মন্ত্রী হননি। জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসাবে মন্ত্রী হয়েছেন।
ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা সংবিধান ও আইনকে রক্ষার শপথ নিয়ে বিচারপতি হয়েছেন। আইনে বলা হয়েছে ট্রাইব্যুনাল ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন। সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ বহাল থাকলে আপনারা ন্যায়বিচার করতে পারবেন না। সংবিধান আপনাদের ন্যায়বিচারের পথ বন্ধ করেছে সর্বশেষ সংশোধনী অনুসারে।
এ পর্যায়ে ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির বলেন, যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ যা সহযোগিতায় অভিযোগ আসবে তারা তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক। সংবিধানের প্রথম সংশোধনী আনার সময়ই এরূপ ধারণার পক্ষে আইন করা হয়। তাদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। সংবিধানের এই সব বিধান বহাল থাকা অবস্থায় আসলে আমাদের কিছু করার নেই। এই অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে আসবে তারা ন্যায়বিচার পাবে না। তাদের অনেক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে।
মিজানুল ইসলাম বলেন, এ জন্যই বলছি আপনারা ন্যায়বিচার করতে পারবেন না। প্রথম সংশোধনীতে অধিকার কেড়ে নেয়া হয়। তারপরও ন্যায়বিচার আশা করব আপনাদের কাছ থেকে। আমার আসামীর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তার সবই মিথ্যা, ভিত্তিহীন। সাক্ষীরা একেকজন একেক ধরনের কথা বলছেন। এ থেকেই বোঝা যায় যে, মিথ্যা কথা সাজিয়ে গুছিয়ে বলতে গিয়ে তারা নিজেরাই এলোমেলো করে ফেলেছে। মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে আনীত একটি অভিযোগও প্রমাণ করার মতো কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ আনতে পারেনি প্রসিকিউশন।
তাজুল ইসলাম বলেন, ১১, ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর চার্জে উস্কানির কথা বলা হয়েছে। এটা প্রমাণ করতে কোনো ওরাল সাক্ষী নেই। ৪টি ডকুমেন্ট দিয়েছে তারা। তার ভিত্তিতে আসামীদের শাস্তি চেয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে গণহত্যার ক্ষেত্রে ছাড়া উস্কানি কোনো মানবতাবিরোধী অপরাধ নয়। নিজামীর উস্কানিতে গণহত্যা হয়েছে এমন কথা যদি প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে পারতো তাহলেই কেবল এই ৪টি চার্জ অপরাধ হিসাবে গণ্য হতো। কিন্তু সেটা বলা হয়নি।
তিনি বলেন, ৫/৮/১৯৭১ তারিখে দৈনিক সংগ্রামের রিপোর্টকে প্রদর্শনী করেছে প্রসিকিউশন। রিপোর্টটি ৩ আগস্ট চট্টগ্রাম থেকে পাঠানো হয়। রেফার করা হয়েছে ২ আগস্টের ঘটনা। চার্জে আছে ৩ তারিখের ঘটনা। শাহরিয়ার কবিরের ‘একাত্তরের ঘাতক ও দালালেরা কে কোথায়’ বইয়ে দৈনিক সংগ্রামের ঐ রিপোর্টটিকেই ভিত্তি হিসাবে নিয়ে মতিউর রহমান নিজামীকে আল বদর কমান্ডার বলেছেন। কিন্তু ঐ রিপোর্টের কোথাও নিজামী সাহেবকে আল বদর কমান্ডার বলা হয়নি। তাহলে তিনি যা লিখেছেন তা সত্য লেখেননি। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিজের মতো করে লিখেছেন।
তিনি বলেন, পত্রিকার কাটিংএ যে ডেট তা হাতে লেখা। ওটা যে ঐ তারিখের তার সত্যতা কিভাবে যাচাই করব। তদন্ত কর্মকর্তা জেরায় বলেছেন, নিজামী সাহেবের পরিচিতি হিসেবে আল বদর কমান্ডার বলা হয়নি। আর নিজামীর ঐ বক্তব্যের পর কোন অপরাধি কেউ কোথাও করেছেন মর্মেও কোন তথ্য তদন্ত কর্মকর্তা সংগ্রহ করতে পারেননি। সর্বোপরি এই নিউজের ব্যাপারে তখন সেন্সর ছিল। অর্থাৎ সঠিকভাবে তার বক্তব্য এসেছে কিনা সে ব্যাপারে সন্দেহ রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদীর লেখা বইয়েও সংবাদপত্রের উপর সেন্সরের কথা বলা হয়েছে। সুতরাং এটাকে বিশ্বাস করার মত কোন ডকুমেন্ট নয়। পাকিস্তান আল্লাহর ঘর। আল্লাহ বহুবার পাকিস্তান রক্ষা করেছে। ভবিষ্যতেও রক্ষা করবেন। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি কোন গ্রুপকে উস্কানি দিলেন?
তাজুল ইসলাম বলেন, কবি শামসুর রাহমান স্বাধীনতাকে পিতার কোমল জায়নামাযের সাথে তুলনা করেছেন। নিজামীর বিরুদ্ধে যে ফর্মে চার্জ আনা হয়েছে তাতে শামসুর রাহমানেরও ফাঁসি হওয়া উচিত ছিল। নিজামী সাহেব যদি ঐ বক্তব্য দিয়েই থাকেন তাহলে প্রশ্ন  আসে তিনি কোন ধর্মীয় গ্রুপের বিরুদ্ধে উস্কানি দিয়েছেন। তিনি তার ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে পাকিস্তানকে তথা নিজের দেশকে ভালবেসে কথা বলেছেন। দেশের মাটিকে দেবীর কাছে মাথা ঠেকিয়ে দিয়েছেন কবি সেটা কি তাহলে অপরাধ হবে। দেশের জন্য আবেগ প্রকাশ করা কোন অপরাধ নয়। তিনি পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেনÑ এটাও অপরাধ নয়।
তিনি বলেন, সূরা হজ্জের ২৬নং আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা করেছেন তুরিন আফরোজ। শানে নুযুল না জেনে একটি খ-িত আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা বিপজ্জনক হতে পারে। নিজামী সাহেব তার বক্তৃতার মাধ্যমে দেশের প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করেছেন, কাউকে হত্যা করতে উস্কানি দেননি বা অপরাধ করতে উদ্বুদ্ধ করেননি। কোন গ্রুপকেই উস্কানি দিয়ে অন্য গ্রুপের বিরুদ্ধে অপরাধি করাতে উদ্বুদ্ধ করেননি।
তিনি বলেন, ২২ আগস্ট ১৯৭১ তারিখে ইসলামিক একাডেমী হলে বক্তৃতার মাধ্যমে উস্কানির অভিযোগ করা হয়েছে নিজামী সাহেবের বিরুদ্ধে। যে পত্রিকার কাটিং স্ক্যান করে ডকুমেন্ট হিসেবে দেখানো হয়েছে তার কোন আগা মাথা নেই। অংশ বিশেষ দেয়া হয়েছে যাতে বোঝা যায় না যে বক্তৃতা, না বিবৃতি। কোথা থেকে তিনি এনে বসিয়েছেন তার কোন নির্দেশনাও নেই। বোঝা যায় যে, মোস্তফা আল মাদানীর হত্যার পর বক্তৃতা। এই মাদানী কে ছিল তাও উল্লেখ নেই। যদি তিনি স্বাধীনতা বিরোধী হতেন এবং স্বাধীনতার পক্ষের লোকেরা যদি তাকে মেরে থাকেন তাহলেও হতো, এরূপ কিছুই বলা হয়নি। সর্বোপরি এই ইসলামিক একাডেমী হল কোথায় অবস্থিত, পৃথিবীর কোন প্রান্তে তার কোন উল্লেখ নেই। মাদানীকে যারা মেরেছে তারা ইসলামের শত্রু। এই হত্যার দায়ভার কেন প্রসিকিউশন নেবে। ইসলামের শত্রু বলতে তারা কি স্বাধীনতার পক্ষের লোকদের মনে করেছেন?
তাজুল ইসলাম বলেন, ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলা উস্কানি এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হতে পারে না। এটাকে অপরাধি হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই। যারা মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন তাদের ত্যাগকে ভারতের সাথে মিশিয়ে ফেলেছে। প্রসিকিউশন কাঁটা তারের বেড়ায় ফেলানির লাশ ঝুলছে, পদ্মা, তিস্তায় পানি নেই, শুকনার সময় পানি আটকে দিয়ে শুকিয়ে মারে আর বর্ষার সময় পানি ছেড়ে দিয়ে বন্যায় ভাসায় সেই ভারতের পক্ষে তাদের অবস্থান। ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলে ১৯৭১ সালে নিজামী সাহেব কোন অপরাধ করেননি, কোন উস্কানি দেননি।
তিনি বলেন, ১৪নং চার্জে আল্লাহ মুমিনদের জান এবং মাল জান্নাতের বিনিময়ে ক্রয় করে নিয়েছেন বলে নিজামী সাহেবের বক্তৃতাকে আদেশ হিসেবে ধরা হয়েছে। ঈমানদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করতে বলেছেন। এর সাথে অপরাধের কি সম্পর্ক। ঈমানদারিত্ব সব সময় ভাল কাজের ক্ষেত্রেই হয়, অপরাধের ক্ষেত্রে হয় না। কুরআনের আয়াতের তাফসীর করা কোন অপরাধ হতে পারে না। ইসলাম ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যারা সশস্ত্র ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তাদের বিরুদ্ধে ঈমানদারিত্বের সাথে মোকাবিলা করতে বলা হয়েছে। নিরস্ত্র বেসামরিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন কিছু করতে বলেননি নিজামী সাহেব। দু’টি আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে বলে নিজামী সাহেবের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এই অভিযোগ সত্য নয়। বরং তারাই ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে। চার্জে যা আছে তা ডকুমেন্টে প্রমাণ করে না। এই সংবাদ পাঠ করে কেউ কোন অপরাধ করেছে মর্মে তদন্ত কর্মকর্তা কোন অভিযোগ পাননি। চার্জে আছে এই বক্তৃতা দেয়া হয়েছে ১০ সেপ্টেম্বর, আর ডকুমেন্টে দেখা যাচ্ছে বক্তৃতা দেয়া হয়েছে ৯ সেপ্টেম্বর। অভিযোগও সঠিকভাবে আসেনি। তাজুল ইসলাম বলেন, ১১, ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর এই চারটি অভিযোগের কোনটিই উস্কানির মধ্যে বা অপরাধের উস্কানি হিসেবে পাড়ে না। নিজেদের টাইপ করা ডকুমেন্ট দিয়ে কোন অভিযোগ প্রমাণ হতে পারে না। এই ৪টিতেই তিনি খালাস পাওয়ার যোগ্য।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=132333