১০ জুলাই ২০২০, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
আসামীপক্ষের আর্গুমেন্ট ছাড়াই মাওলানা নিজামীর মামলা রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ মর্মে ট্রাইব্যুনালের আদেশ প্রদান
১৪ নভেম্বর ২০১৩, বৃহস্পতিবার,
কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক বাংলাদেশ  জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মামলার রায় যেকোনো দিন ঘোষণা করা হবে মর্মে অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছে ট্রাইব্যুনাল। গতকাল বুধবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে অপর দুই সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে গঠিত ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। হরতালের কারণে ট্রাইব্যুনালে আসতে না পারা মাওলানা নিজামীর পক্ষের সিনিয়র আইনজীবীদের পক্ষে দাখিলকৃত সময় আবেদন বিগত তিন কার্যদিবসে মঞ্জুর করা হলেও গতকাল তা নাকচ করে দিয়ে প্রদত্ত এই আদেশে ট্রাইব্যুনাল বলেন, আসামীপক্ষ চাইলে আগামী পাঁচদিনের মধ্যে তাদের বাকি যুক্তিতর্ক লিখিতভাবে দাখিল করতে পারবে। সরকার পক্ষ এই মামলায় ৪ দিন আর্গুমেন্ট করেছে। সেই দিক বিবেচনায় আসামীপক্ষের অন্তত ৫দিন আর্গুমেন্টের জন্য সময় পাওয়ার কথা। কিন্তু গত ৭ নবেম্বর মাত্র একদিন আর্গুমেন্টের সুযোগ পেয়েছে তারা। আসামীপক্ষের জন্য হরতালের মধ্যে বরাদ্দকৃত সময়ের মধ্যে তারা আসতে না পারায় প্রয়োজনীয় সময় আর দেয়া হলো না। হরতালের দিনগুলোতে উচ্চ আদালত বা নি¤œ আদালত না বসলেও ট্রাইব্যুনাল বসেছে এবং আসামীপক্ষের আইনজীবীদের অসম্মতিতেই বিভিন্ন মামলার কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। তবে আসামীপক্ষকে আর্গুমেন্টের অধিকার থেকে বঞ্চিত আসামী আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীই প্রথম।
ট্রাইব্যুনালের এ আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ (পুনঃবিবেচনা) আবেদন করা হবে বলে আসামীপক্ষের আইনজীবী তারিকুল ইসলাম জানান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে আনীত একটি অভিযোগও প্রমাণ করার মতো সাক্ষ্য-প্রমাণ জোগাড় করতে পারেনি প্রসিকিউশন। এই মামলার অভিগোগ ভুয়া, সাক্ষী সাজানো। প্রয়োজনীয় আর্গুমেন্টের সুযোগ পেলে আমরা সেটা দেখিয়ে দিতাম। এই আদেশ বহাল থাকলে আসামী ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবেন।
ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ (পুনঃবিবেচনা) আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন আসামীপক্ষের অন্যতম আইনজীবী এডভোকেট তাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, হরতালের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি থাকার কারণে আইনজীবীরা আদালতে উপস্থিত হন না। অথচ ট্রাইব্যুনাল এত বড় একটি মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ না করেই রায়ের জন্য দিন ঠিক করলেন। এটা সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে।
আইনজীবী তাজুল ইসলাম বলেন, “আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) আসামীপক্ষ থেকে একটি আবেদন করা হবে আদালতের দেয়া আদেশ বাতিল করে নিজামীর পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সুযোগ দেয়ার জন্য। আশা করি ট্রাইব্যুনাল বিষয়টি ভালোভাবে দেখবেন। একই সঙ্গে আগামীকাল আসামীপক্ষ থেকে এ মামলার সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানানো হবে।”
তাজুল ইসলাম বলেন “হরতালের সময় সুপ্রিম কোর্ট যেখানে বন্ধ থাকে, কোনো মামলা পরিচালিত হয় না; সেখানে ট্রাইব্যুনালের কী এমন হতো যে, নিজামীর মামলার মতো এতো বড় মামলার কার্যক্রম অসমাপ্ত অবস্থায় শেষ করে দেয়া হলো।”
প্রসিকিউশনের পর গত ৭ নবেম্বর প্রথম দিনের মতো যুক্তি উপস্থাপন করেছেন নিজামীর আইনজীবী এডভোকেট মিজানুল ইসলাম। এর আগে গত ৬ নবেম্বর বুধবার সরকার পক্ষে প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ তাদের যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের কথিত অপরাধের ১৬টি অভিযোগ এনে গত বছরের ২৮ মে নিজামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। তার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, লুট, ধর্ষণ, উস্কানি, সহায়তা, পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র এবং বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ মোট ১৬টি ঘটনায় এই কল্পিত অভিযোগ আনা হয়।
এর আগে একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন মতিউর রহমান নিজামীকে গ্রেফতার করা হয়। পরে একই বছরের ২ আগস্ট এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=131998