১০ জুলাই ২০২০, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা নিজামীর মামলায় সরকার পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন অব্যাহত
৬ নভেম্বর ২০১৩, বুধবার,
জামায়াতে ইসলামীর আমীর সাবেক মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে আনীত ১৯৭১ সালের কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সরকার পক্ষের আর্গুমেন্ট বা চূড়ান্ত যুক্তি উপস্থাপন অব্যাহত রয়েছে। গত রোববার যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী। গতকাল মঙ্গলবার তৃতীয় দিনে দুই বেলা তিনি আর্গুমেন্ট করেন। মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে আনীত ১৬টি অভিযোগের মধ্যে এ পর্যন্ত ১১টি অভিযোগের উপর যুক্তি উপস্থাপন সম্পন্ন করেছেন তিনি। আজ বুধবারও সরকার পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন অব্যাহত থাকবে। গত তিন দিনে ১,২,৩,৪,৬,৭,৮,৯,১০,১৫ ও ১৬ নং চার্জের উপর যুক্তি উপস্থাপন করেন মোহাম্মদ আলী। ১১, ১২, ১৩ ও ১৪ নং চার্জের উপর আজ আর্গুমেন্ট করবেন প্রসিকিউটর ড. তুরিন আফরোজ। ৫নং চার্জের উপর কে কখন আর্গুমেন্ট করবেন বা আদৌ করবেন কি না তা জানানো হয়নি।
বিচারপতি এটিএম ফজলে কবিরের নেতৃত্বে অপর দুই সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে গঠিত ট্রাইব্যুনাল-১ চলছে আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মামলা। চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী, জেয়াদ আল মালুম, সুলতান মাহমুদ সীমন, মীর ইকবাল হোসেন, ড. তুরিন আফরোজ, আবুল কালাম প্রমুখ আর্গুমেন্টের সময় উপস্থিত ছিলেন। হরতালের কারণে আসামী পক্ষে কোন সিনিয়র আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। তরুণ আইনজীবী এডভোকেট আসাদ উদ্দিন ও তারিকুল ইসলাম সরকার পক্ষের যুক্তিসমূহ নোট করেন। পুরো সময় জুড়েই মাওলানা নিজামী ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় উপবিষ্ট ছিলেন।
মোহাম্মদ আলী গতকাল তার আর্গুমেন্টে বলেন, ইসলামী ছাত্রসংঘের সদস্যরাই ছিল মূলত আল বদর বাহিনী। তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হতো। এটা ছিল একটি প্যারামিলিটারী বাহিনী যারা দখলদার পাকিস্তান বাহিনীর সহযোগী হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। এই বাহিনীর উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল তৎকালীন নিখিল পাকিস্তান ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি মতিউর রহমান নিজামীর।
গতকাল বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ১০টি চার্জের উপর আর্গুমেন্ট করার পর মোহাম্মদ আলী ট্রাইব্যুনালকে বলেন, আমি খুব টায়ার্ড। আমার শরীরে আর কুলাচ্ছে না। বিচারকরা তাকে ৪টা পর্যন্তু আর্গুমেন্ট করতে বলেন। তখন তিনি ১৫ ও ১৬ নং চার্জের উপর আর্গুমেন্ট করতে থাকেন। বেলা সাড়ে চারটায়ও তিনি তা অব্যাহত রাখলে সবাই বিরক্ত হন। কিন্তু তিনি সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে আবেগতাড়িতভবে আর্গুমেন্ট করতে থাকেন। সাক্ষীর জবানবন্দি পড়তে গিয়ে তিনি মাঝে মাঝে কেঁদে ফেলেন এবং চোখ মোছেন। এক পর্যায়ে বিচারপতি আনোয়ারুল হক বলেন, আপনি না টায়ার্ড বলছিলেন? এর জবাবে মোহাম্মদ আলী বলেন, কখনো কখনো ইমোশন মানুষকে সুস্থ করে দেয়। কর্মশক্তি বাড়িয়ে দেয়। আমারও তাই হয়েছে।
মোহাম্মদ আলী বলেন, বুদ্ধিজীবী হত্যাকা- ১৪ ডিসেম্বর হয়েছিল বলে আমরা সকলে জানি। তবে এই পরিকল্পিত হত্যাকা- শুরু হয়েছিল ১৫ নবেম্বর থেকে। ঐ দিন ডা. আজহারুল হক ও ডা. হুমায়ুন কবিরকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে আল বদর বাহিনীর সদস্যরা তাদের হাইকমান্ড মতিউর রহমান নিজামীর নির্দেশে। ১৪ ডিসেম্বর ছিল বুদ্ধিজীবী হত্যাকা-ের চূড়ান্ত পর্যায়।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=131359