১০ জুলাই ২০২০, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
বুদ্ধিজীবী হত্যা প্রসঙ্গে ট্রাইব্যুনাল সদস্যের অসমাপ্ত প্রশ্ন
৫ নভেম্বর ২০১৩, মঙ্গলবার,
‘নিজামী সাহেব তো ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি ছিলেন ...’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর সাবেক মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে আনিত ১৯৭১ সালের কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সরকার পক্ষের আর্গুমেন্ট বা চূড়ান্ত যুক্তি উপস্থাপন অব্যাহত রয়েছে। গত রোববার যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী। গতকাল সোমবার দুই বেলা তিনি আর্গুমেন্ট করেন। আজ মঙ্গলবারও তিনি যুক্তি উপস্থাপন অব্যাহত রাখবেন।
বিচারপতি এটিএম ফজলে কবিরের নেতৃত্বে অপর দুই সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে গঠিত ট্রাইব্যুনাল-১ এ গতকাল সোমবার সকাল-বিকাল আর্গুমেন্ট করেন মোহাম্মদ আলী। প্রসিকিউটর মীর ইকবাল হোসেন, ড. তুরিন আফরোজ, আবুল কালাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। হরতালের কারণে আসামী পক্ষে কোন সিনিয়র আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। তরুণ আইনজীবী এডভোকেট আসাদ উদ্দিন সরকার পক্ষের যুক্তিসমুহ নোট করেন।
প্রসিকিউশন ফর্মাল চার্জে না আনলেও ট্রাইব্যুনাল স্বপ্রণোদিত হয়ে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের আদেশ প্রদানের সময় বুদ্ধিজীবী হত্যার অভিযোগ এনেছেন ১৬ নং অভিযোগ আকারে। বুদ্ধিজীবী হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটেছিল ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর তারিখে। সরকার পক্ষের আনিত সাক্ষীদের জবানবন্দি, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, দাখিলকৃত দলীল পত্র ইত্যাদিতে উভয় পক্ষই একমত হয়েছেন যে, মাওলানা নিজামী ১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্তু নিখিল পাকিস্তান ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি ছিলেন। গতকালের আর্গুমেন্টে প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী বোঝাতে চেয়েছেন যে, ইসলামী ছাত্রসংঘের কর্মীদের নিয়েই আল বদর বাহিনী গঠিত হয়েছিল। আর ছাত্রসংঘের সভাপতি হিসেবে মতিউর রহমান নিজামীই ছিলেন আলবদর বাহিনীর প্রধান। কিন্তু সেপ্টেম্বরের পরে যদি নিজামী সাহেব ছাত্রসংঘের সভাপতি না থেকে থাকেন তাহলে তো তখন তিনি আল বদর বাহিনীর প্রধানও ছিলেন না। সুতরাং ডিসেম্বর মাসে সংঘটিত বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ভারও তার উপর বর্তায় না। মোহাম্মদ আলীর গতকালের আর্গুমেন্টের এক পর্যায়ে ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এখানে দৈনিক সংগ্রামের শহীদুল ইসলাম সাহেব আছেন না কি। শোনেন মোহাম্মদ আলী সাহেব! আপনারা যেসব ডকুমেন্ট দিয়েছেন, ডিফেন্সও স্বীকার করেছে যে মতিউর রহমান নিজামী সাহেব ছাত্রসংঘের সভাপতি ছিলেন ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্তু। বিচারপতির এই প্রশ্ন সমাপ্ত হওয়ার আগেই ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির তাকে সতর্ক করে দেন। কি সতর্ক করেন তা বোঝা না গেলেও বিচারপতি জাহাঙ্গীর আর প্রশ্নটি করেননি। তিনি বলেন, আচ্ছা থাক আর বললাম না। এই অসমাপ্ত প্রশ্নের মধ্যেই সত্য নিহিত যে, ডিসেম্বরে সংঘটিত বুদ্ধিজীবী হত্যার সাথে মাওলানা নিজামীকে জড়ানো একটি বড় ভুল।
মোহাম্মদ আলী গতকাল তার আর্গুমেন্টে বলেন, ইসলামী ছাত্রসংঘের সদস্য ও মাদরাসা ছাত্রদের নিয়ে গঠন করা হয়েছিল আলবদর বাহিনী। তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হতো। এটা ছিল একটি প্যারা মিলিটারি বাহিনী যারা দখলদার পাকিস্তান বাহিনীর সহযোগী হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। এ প্রসঙ্গে ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান জানতে চান বইয়ের লেখক ও প্রকাশনার সন তারিখ কি। মাওলানা নিজামীর নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী অধ্যাপক আবু সাইয়িদের লেখা বই ১৯৯৯ সালের প্রকাশিত বলে উল্লেখ করলে বিচারপতি জাহাঙ্গীর বলেন, নিজামী সাহেব যখন জনপ্রিয়তা অর্জন করেন ঠিক তখন এই বই লেখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি কি দৈনিক সংগ্রাম, দৈনিক পাকিস্তান বা ১৯৭১ সালে প্রকাশিত অন্যকোন পত্রিকা থেকে রেফারেন্স দিয়েছেন? এ প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেননি মোহাম্মদ আলী। রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদীর লেখা “৭১ এর দশ মাস” বই থেকেও তিনি কতিপয় উদ্ধৃতি দেন যার মধ্যে ১৯৭১ সনের পত্রিকার খবরের রেফারেন্স নেই। ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান এসব রেফারেন্স নিয়ে প্রশ্ন তুললে তারও সদুত্তর দিতে পারেননি প্রসিকিউটর। বিচারপতি জাহাঙ্গীর বলেন, আপনি নিজামী সাহেবকে আলবদর বাহিনীর প্রধান বলছেন, সুপ্রিম কমান্ডার বলছেন যেসব বইয়ের কোটেশন থেকে তা রেফারেন্স ছাড়া আমরা কি করে বিশ্বাস করব। জবাবে মোহাম্মদ আলী বলেন, আপনার একজামিন করে নেবেন। আমরা সব ডকুমেন্ট দিয়েছি।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=131297