২৪ নভেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা নিজামীর মামলায় সরকার পক্ষের আর্গুমেন্ট শুরু
৪ নভেম্বর ২০১৩, সোমবার,
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর সাবেক মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর পক্ষে ৪নং সাফাই সাক্ষী হিসেবে অতিরিক্ত জবানবন্দি দিয়েছেন তার ছেলে ব্যারিস্টার নজিবুর রহমান ওরফে নাজিব মোমেন। এই জবানবন্দি অসমাপ্ত থাকায় আগামী রোববার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকালের জবানবন্দিতে তিনি আরো ৪টি ডকুমেন্ট প্রদর্শনী করেছেন। এই ডকুমেন্ট প্রদর্শনী শেষে এই মামলায় সরকার পক্ষে আর্গুমেন্ট শুরু করেছেন প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী। আজ সোমবার তিনি পুনরায় আর্গুমেন্ট করবেন।
বিচারপতি এটিএম ফজলে কবিরের নেতৃত্বে অপর দুই সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে গঠিত ট্রাইব্যুনাল-১ গতকাল রোববার বিকালে এজলাসে বসলে মাওলানা নিজামীর পক্ষে আরো ৪টি ডকুমেন্ট প্রদর্শনীর আবেদন করেন এডভোকেট তাজুল ইসলাম। আবেদনের পক্ষে শুনানিতে তিনি বলেন, এই ৪টি ডকুমেন্টের তালিকা আগেই দেয়া ছিল। কিন্তু প্রদর্শনী করার সময় তা অসাবধানতাবশত বাদ পড়ে গেছে। এজন্য আমরা চাই, আসামী পক্ষের ৪নং সাক্ষীকে রিকল করা হোক এবং ডকুমেন্টগুলো দাখিলের অনুমতি দেয়া হোক। ট্রাইব্যুনাল আবেদন মঞ্জুর করলে পুনরায় জবানবন্দি দেন ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন। এই জবানবন্দিতে তিনি যে ৪টি ডকুমেন্ট প্রদর্শনী করেন তা হলো- ১. বায়োগ্রাফি অব ওয়ালী নসর, ডিফেন্স ডকুমেন্ট ভলিউম ১০, পৃষ্ঠা ২৩০-২৩৫, ২. বায়োগ্রাফি অব হুসাইন হাক্কানী, ভলিউম ১০, পৃষ্ঠা ২৩৬-২৪০, ৩. বায়োগ্রাফি অব মুসা খান জালালজাই, ভলিউম ১০, পৃষ্ঠা ২৪৬, ৪. দৈনিক জনকণ্ঠ ২৭.১২.২০০০, ভলিউম ১৩, পৃষ্ঠা ৩১১।
এই ৪টি প্রদর্শনী সংবলিত জবানবন্দি দেয়ার পর নাজিব মোমেনকে জেরা করেন প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী। যেসব ডকুমেন্ট প্রদর্শনী করা হয়েছে তাতে ১৯৭১ সালের ঘটনাবলী সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ নেই মর্মে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে মোমেন বলেন, এসব লেখা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নয়। এসব ডকুমেন্ট আপনি অসৎ উদ্দেশ্যে প্রদর্শনী করেছেন মর্মে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিশেষ উদ্দেশ্যে তো অবশ্যই দাখিল করেছি। তবে অসৎ উদ্দেশে দাখিল করার অভিযোগ সত্য নয়।
 এডভোকেট তাজুল ইসলাম ও আসাদ উদ্দিন আসামী পক্ষে উপস্থিত ছিলেন। প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী, মীর ইকবাল হোসেন, আবুল কালাম প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এ সময় ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় উপবিষ্ট ছিলেন।
ডকুমেন্ট প্রদর্শনী ও জেরা শেষে সরকার পক্ষে আর্গুমেন্ট শুরু করেন প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী। গতকালের আর্গুমেন্টে তিনি মূলত ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কিছু কথা বলেন। বিচারপতি জাহাঙ্গীর এ প্রসঙ্গে বলেন, ইতিহাস নিয়ে আমাদের কারো কোন দ্বিমত নেই। আসামী পক্ষও এ ব্যাপারে ভিন্নমত দেয়নি। মতিউর রহমান নিজামী কি অপরাধ করেছেন সেটাই বিচার্য বিষয়। মোহম্মদ আলী বলেন, দুটি মামলার রায়ে জামায়াতে ইসলামীকে ক্রিমিনাল অর্গানইজেশন বলেছে। ১৯৭১ সালে তারা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে পাক হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা করেছে। সেই দলের বর্তমান আমীর এই মতিউর রহমান নিজামী। বিচারপতি জাহাঙ্গীর বলেন, আমরা জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান আমিরের বিচার করছি না। ১৯৭১  সালে ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতি হিসেবে কোন অপরাধ করে থাকলে সেটার বিচার করতে আমরা এখানে এসেছি। মোহাম্মদ আলী বলেন, জি। তিনি তখন পাকিস্তান ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতি এবং আল বদরের প্রধান ছিলেন। সেই হিসেবে আলবদর বাহিনী যেসব অপরাধ করেছে তার দায়ভার তার ওপরে পড়ে। আল বদর বাহিনীর ওপর তার কমান্ড রেসপনসিবিলিটির দায়ভার বর্তায়।
আজ সকালে আরো আর্গুমেন্ট করবেন মোহাম্মদ আলী ও অন্যান্য প্রসিকিউটরগণ।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=131224