৩১ মে ২০২০, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
জবানবন্দী শেষে জেরায় বললেন মাওলানা নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার মোমেন : আল বদর বাহিনী অক্সিলারি ফোর্স ছিল মর্মে কোন প্রমাণ সরকার পক্ষের ডকুমেন্টেও নেই
৩১ অক্টোবর ২০১৩, বৃহস্পতিবার,
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর সাবেক মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর পক্ষে ৪নং সাফাই সাক্ষী হিসেবে তার ছেলে ব্যারিস্টার নজিবুর রহমান ওরফে নাজিব মোমেনের জবানবন্দী শেষে জেরা শুরু হয়েছে। জেরা অসমাপ্ত থাকায় আজ বৃহস্পতিবার অবশিষ্ট জেরার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকালের জেরায় তিনি বলেন, আমার অনুসন্ধান এবং সরকার পক্ষের দাখিলকৃত ডকুমেন্টে দেখেছি যে, আল বদর নামে একটি সংগঠনের অস্তিত্ব ১৯৭১ সালে ছিল। তবে তারা অক্সিলারি ফোর্স ছিল এমন কোন প্রমাণ কোথায়ও পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, আমার পিতা মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী আল বদর বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা এবং তার নেতৃত্বে এই বাহিনী পরিচালিত হয়েছে মর্মে অভিযোগ সত্য নয়। ১৯৮৬ সালের পরে আমার পিতা যখন রাজনীতিতে জনপ্রিয়তা লাভ করেন তখন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোন প্রমাণ ছাড়াই এ ধরনের প্রপাগা-া চালানো হয়েছে।
বিচারপতি এটিএম ফজলে কবিরের নেতৃত্বে অপর দুই সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে গঠিত ট্রাইব্যুনাল-১ এ গতকাল বুধবার জবানবন্দী দেন ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন। এডভোকেট মিজানুল ইসলাম তার জবানবন্দী রেকর্ড কারেন। এডভোকেট তাজুল ইসলাম, তারিকুল ইসলাম, আসাদ উদ্দিন, হাসানুল বান্না সোহাগ আসামী পক্ষে উপস্থিত ছিলেন। প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী, সুলতান মাহমুদ সীমন, মীর ইকবাল হোসেন প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এ সময় ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় উপবিষ্ট ছিলেন।
গতকালের জবানবন্দীকালে নাজিব মোমেন মোট ৭৬টি ডকুমেন্ট আদালতে দাখিল করেন যা প্রদর্শনী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পরে নাজিব মোমনকে জেরা করেন প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী ও আবুল কালাম। সকালের সেশনে এক ঘণ্টা এবং বিকালের সেশনে দেড় ঘণ্টা জেরার পর তালগোল পাকিয়ে ফেলেন তারা । পরে ট্রাইব্যুনাল আজ সকালে প্রথম এক ঘণ্টায় জেরা সমাপ্ত করার নির্দেশ দিয়ে মুলতবি করেন।
ওদিকে গতকালের জবানবন্দী প্রদানের পূর্বে ট্রাইব্যুনাল মাওলানা নিজামীর পক্ষে দাখিলকৃত ৩টি আবেদন খারিজ করে দেন। এর ২টি আবেদন কোন প্রকার শুনানি ছাড়াই চেম্বারে খারিজ করে আদেশ দেয়া হয়। বাকী আবেদনটি শুনানি শেষে খারিজ করে আদেশ দেয়া হয়। শুনানি ছাড়া যে দুটি আবেদন চেম্বারে খারিজ করা হয়েছে তা হলো সরকার পক্ষের ১১নং সাক্ষী এডভোকেট শামসুল হক নান্নুকে তার টিভি সাক্ষাৎকার বিষয়ে পুনরায় জেরা করার আবেদন এবং অপরটি হলো এক্সপার্ট অপিনিয়ন হিসেবে একজন বিদেশী সাক্ষীর অনুমোদন দেয়া। অপর আবেদনটি ছিল মাওলানা নিজামীর পক্ষে আরো কিছু অতিরিক্ত ডকুমেন্ট দাখিলের আবেদন। এই আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন তাজুল ইসলাম। এর বিরোধীতা করেন প্রসিকিউটর মীর ইকবাল হোসেন।
জবানবন্দীর বিবরণ নি¤œরূপ :ÒThe 500 most influential Muslims In the world”  শীর্ষক বইয়ের ফটোকপি যাহা আসামী পক্ষ কর্তৃক দাখিলকৃত ডকুমেন্ট ভলিউম ১ এর ২০২ পৃষ্ঠায় দাখিল আছে যাহা প্রদর্শনী-AA হিসেবে চিহ্নিত হইল। উক্ত ভলিউমের ২০৩ থেকে ২১১ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত “সংগ্রামী জননেতা মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী: সাঁথিয়া, বেড়ার জনগণ”- শীর্ষক বইয়ের ফটোকপি যাহা প্রদর্শনী- AB চিহ্নিত হইল। উক্ত ভলিউমের ২৩২ থেকে ২৩৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র সমূহ যাহা প্রদর্শনী-AC হিসেবে চিহ্নিত হইল। ডকমেন্ট ভলিউম-২ এর ০৯ থেকে ১০ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত এ, এস, এম শামসুল আরেফিন সম্পাদিত “বাংলাদেশ ডকুমেন্টস” চতুর্থ খ যাহা প্রদর্শনী-AD হিসেবে চিহ্নিত হইল। ভলিউম- ৩ এর ১৫৭ থেকে ২০৮ পৃষ্ঠায় মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী সাহেব কর্তৃক লিখিত “ইসলাম ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ” বইয়েল ফটোকপি প্রদর্শনী- AE চিহ্নিত হইল। ভলিউম- ৩(A) এর ০১ থেকে ২১ পৃষ্ঠায় মতিউর রহমান নিজামী সাহেব কর্তৃক লিখিত “গণতন্ত্র গণবিপ্লব ও ইসলামী আন্দোলন\' বইয়ের ফটোকপি যাহা প্রদর্শনী-AF হিসেবে চিহ্নিত হইল। উক্ত ভলিউমের ৩১৭ থেকে ৩৪৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত ইসলামী ছাত্র সংঘের গঠনতন্ত্র এর ফটোকপি যাহা প্রদর্শনী-AG হিসেবে চিহ্নিত হইল। ডকুমেন্ট ভলিউম ৪(B) এর ১৬ থেকে ২০ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত ÒMLO Nos. 76, 77, 118 and 119” তারিখ ০১ এপ্রিল ১৯৭১ এর ফটোকপি যাহা প্রদর্শনী-AH হিসেবে চিহ্নিত হইল। Lawrence Lifschultz   কর্তৃক লিখিত ÒBangladesh: the unfinished Revolution এর সংশ্লিষ্ট অংশের ফটোকপি যাহা ডকুমেন্ট ভলিউম-৭ এর ৭৩-১০৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত প্রদর্শনী-AI হিসেবে চিহ্নিত হইল। একই ভলিউমের পাতা ২০১(A)তে উল্লেখিত পাকিস্তান সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ তারিখে আদেশ সম্বলিত মেমোর ফটোকপি যাহা প্রদর্শনী-AJ চিহ্নিত হইল। একই ডকুমেন্ট ভলিউমে পাতা ২০৫ থেকে ২০৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত আফতার সিং বাসিন কর্তৃক লিখিত ÒIndia-Bangladesh relation-1971-2002” বইয়ের সংশ্লিষ্ট অংশের ফটোকপি যাহা প্রদর্শনী-AK হিসেবে চিহ্নিত হইল। একই ভলিউমের ২০৮ থেকে ২১৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত মেজর জেনারেল (অবঃ) ফজলে মুকুল খান কর্তৃক লিখিত ÒPakistan’s Crisis in Leadership” এর সংশ্লিষ্ট অংশের ফটোকপি যাহা প্রদর্শনী-ALহিসেবে চিহ্নিত হইল। একই ডকুমেন্ট ভলিউমের পৃষ্ঠা- ২২০ থেকে ২২২ এ উল্লেখিত GSO II কর্তৃক ইস্যুকৃত ০৮-০৯-১৯৭১ তারিখের এবং ০৯-০৯-১৯৭১ তারিখের মেমোর ফটোকপি যাহা প্রদর্শনী-AM হিসেবে চিহ্নিত হইল। উক্ত ভলিউমের ৩২৮ থেকে ৩৪৭ পৃষ্ঠায় মেজর জেনারেল (অবঃ) শওকত রিজা কর্তৃক লিখিত “Pakistan Army 1966-1971” বইয়ের সংশ্লিষ্ট অংশের ফটোকপি যাহা প্রদর্শনী-AN হিসেবে চিহ্নিত হইল। ভলিউম-৯ এর ২৬১ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত শারীরিক শিক্ষা কলেজ, ঢাকা কর্মচারীদের তালিকা প্রদর্শনী-AO হিসেবে চিহ্নিত হইল। একই ডকুমেন্ট ভলিউমের ২৮৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত দৈনিক জালালাবাদ পত্রিকার ১৩-০২-২০১১ইং তারিখের সংশ্লিষ্ট অংশের ফটোকপি প্রদর্শনী-AP হিসেবে চিহ্নিত হইল। একই ভলিউমের ২৯০ থেকে ২৯৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত মৌলভীবাজার বইয়ের ফটোকপি যাহা প্রদর্শনী-AQ হিসেবে চিহ্নিত হইল। একই ডকুমেন্ট ভলিউমের ২৯৪ থেকে ২৯৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত “শতাব্দী” নামক স্মারক গ্রন্থের সংশ্লিষ্ট অংশের ফটোকপি যাহা প্রদর্শনী-AR হিসেবে চিহ্নিত হইল। ভলিউম-১০ এর ১৩২ থেকে ১৭৭ পৃষ্ঠায় “তিনি যখন সভাপতি ছিলেন” শিরোনামে অনুদিত “Job Huh Nazim e Ala” নামক উর্দু বইয়ের সত্যায়িত বঙ্গানুবাদ যাহা প্রদর্শনী-AS হিসেবে চিহ্নিত হইল। একই ডকুমেন্ট ভলিউমের ৪৪৮ থেকে ৫১৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত “একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের তালিকা” নামক বইয়ের ফটোকপি যাহা প্রদর্শনী-AT হিসেবে চিহ্নিত হইল। ডকুমেন্ট ভলিউম-১১ পৃষ্ঠা- ১৮৯-১৯০ এ উল্লেখিত দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার ০৭-০৫-১১ইং তারিখে সংশ্লিষ্ট অংশের ফটোকপি যাহা প্রদর্শনী-AU হিসেবে চিহ্নিত হইল। ভলিউম-১২ এর ৩৩০ থেকে ৩৪৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত ঢাকার সিএমএম আদালতে সিআর মামলা নং-৭৮৬/২০০৮ এর নথিপত্রের ফটোকপি যাহা প্রদর্শনী-AV হিসেবে চিহ্নিত হইল। একই ডকুমেন্ট ভলিউমের ৩৪৭ থেকে ৩৪৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত জনকণ্ঠের ২৪-০৮-১৯৯৪ তারিখের সংশ্লিষ্ট অংশের ফটোকপি যাহা প্রদর্শনী-AW হিসেবে চিহ্নিত হইল। একই ভলিউমের ৩৫১ হইতে ৩৫৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত ইসলামী জমিয়তে তালাবা সম্পর্কিত তথ্য যাহা প্রদর্শনী-AX হিসেবে চিহ্নিত হইল। ডকুমেন্ট ভলিউম-১২ এর ৩৬০ থেকে ৩৮২ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত “Rhyl High School” এর প্রোসপেক্টাস যাহা প্রদর্শনী-AY হিসেবে চিহ্নিত হইল। একই ভলিউম এর ৪০০ থেকে ৪১২ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত” মোহাম্মদ মতিউর রহমানঃ জীবন ও কর্ম” নামক বইয়ের সংশ্লিষ্ট অংশের ফটোকপি যাহা প্রদর্শনী-AZ হিসেবে চিহ্নিত হইল। একই ডকুমেন্ট ভলিউম এর ৪২৪ থেকে ৪২৪A পৃষ্ঠায় উল্লেখিত শাহীন ফৌজ এর বর্ণনা যাহা প্রদর্শনী-BA  হিসেবে চিহ্নিত হইল। একই ডকুমেন্ট ভলিউমের ৪২৫ থেকে ৪৪৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের ১৯৮৪ সালে বিএ পরীক্ষা টেবুলেশ্যান শিটের ফটোকপি যাহা প্রদর্শনী-BB হিসেবে চিহ্নিত হইল। ভলিউম-১৩ এর ৩৭০ থেকে ৩৭৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ১৫-১১-২০১২ইং তারিখে ইস্যুকৃত চিঠির ফটোকপি যাহা প্রদর্শনী -BC হিসেবে চিহ্নিত হইল। একই ডকুমেন্ট ভলিউমের ৩৭৫ ও ৩৭৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার ১৭-০১-১৯৮১ইং তারিখের সংশ্লিষ্ট অংশের ফটোকপি যাহা প্রদর্শনী-BD  হিসেবে চিহ্নিত হইল। একই ভলিউমের ৩৯৯ ও ৪০০ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত দৈনিক মানব জমিনের ১০-০২-২০১৩ইং তারিখের পত্রিকার সংশ্লিষ্ট অংশের ফটোকপি যাহা প্রদর্শনী-BE হিসেবে চিহ্নিত হইল। একই ডকুমেন্ট ভলিউমের ৪০১ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত সিরাজুল ইসলাম মতলিব সাহেব লিখিত কথিত চিঠির ফটোকপি যাহা প্রদর্শনী -BF হিসেবে চিহ্নিত হইল। একই ভলিউমের ৪০২ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত “বাংলা পত্রিকা” এর ৩০-০৯-২০১৩ইং তারিখের সংশ্লিষ্ট অংশের ফটোকপি যাহা প্রদর্শনী-BG হিসেবে চিহ্নিত হইল। একই ডকুমেন্ট ভলিউমের ৪০৩ থেকে ৪১৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত “জীবনে যা দেখলাম” বইয়ের ৪র্থ খন্ডের সংশ্লিষ্ট অংশের ফটোকপি যাহা প্রদর্শনী-BH হিসেবে চিহ্নিত হইল। ভলিউম-১৪ এর ০১ থেকে ৮৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত “মুক্তিযুদ্ধ’৭১, দালাল আইনে সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী”- এর ফটোকপি যাহা প্রদর্শনী-BI হিসেবে চিহ্নিত হইল। একই ভলিউমের ১০৫ থেকে ১০৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত ৩০-১২-১৯৭১ইং তারিখের দৈনিক বাংলা পত্রিকার সংশ্লিষ্ট অংশের ফটোকপি যাহা প্রদর্শনী-BJ হিসেবে চিহ্নিত হইল। একই ভলিউমের ১০৭ থেকে ১০৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার সংশ্লিষ্ট অংশের ফটোকপি যাহা প্রদর্শনী-Bk হিসেবে চিহ্নিত হইল। একই ভলিউমের ১১১ থেকে ১১২ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত ০৭-০১-১৯৭২ইং তারিখের দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার সংশ্লিষ্ট অংশের ফটোকপি যাহা প্রদর্শনী-BL হিসেবে চিহ্নিত হইল। একই ভলিউমের ১১৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত ৩১-১২-১৯৭১ইং তারিখের দৈনিক আজাদ পত্রিকার সংশ্লিষ্ট অংশের ফটোকপি যাহা প্রদর্শনী-BM হিসেবে চিহ্নিত হইল। একই ভলিউমের ১১৬ থেকে ১১৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত ২১-১২-১৯৭১ ও ২৯-০৩-১৯৭২ইং তারিখের দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সংশ্লিষ্ট অংশের ফটোকপি যাহা প্রদর্শনী-BN সিরিজ হিসেবে চিহ্নিত হইল। একই ভলিউমের ১১৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত ৩১-০১-১৯৭২ইং তারিখের দৈনিক সংবাদ পত্রিকার সংশ্লিষ্ট অংশের ফটোকপি যাহা প্রদর্শনী-BO হিসেবে চিহ্নিত হইল। একই ভলিউমের ২১৫ থেকে ২১৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলে ইতিবৃত্তান্ত যাহা প্রদর্শনী-BP হিসেবে চিহ্নিত হইল। একই ভলিউমের ২৪৬ থেকে ২৪৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত মক্কা প্রদেশ সংক্রান্ত তথ্য প্রদর্শনী-BQ হিসেবে চিহ্নিত হইল। একই ভলিউমের ২৪৮ থেকে ২৫২ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত ১৯৭০ সালে প্রকাশিত “The criterion” নামক ম্যাগাজিনের সংশ্লিষ্ট অংশের ফটোকপি যাহা প্রদর্শনী-BR হিসেবে চিহ্নিত হইল। একই ভলিউমের ৩২১ এবং ৩২২ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত সালেহা হাইস্কুলের ১৯৭২ সালের এসএসসি পরীক্ষার টেবুলেশ্যান শিটের ফটোকপি যাহা প্রদর্শনী-BS হিসাবে চিহ্নিত হইল। আসামী পক্ষ কর্তৃক দাখিলকৃত ভিডিও ভলিউম-১ এ রণাঙ্গনের দিনগুলিসহ মোট ১৪টি ভিডিও ক্লীপস যাহা প্রদর্শনী-BT হিসাবে চিহ্নিত হইল। আসামী পক্ষ কর্তৃক দাখিলকৃত ভিডিও ভলিউম-২ এ মাননীয় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জনাব কামরুল ইসলাম  ডাঃ এম এ হাসানের টিভি টকশোসহ উল্লেখিত ভিডিওতে ক্রমিক নং-০১ হইতে ০৪-এ উল্লেখিত ভিডিও ক্লীপস যাহা প্রদর্শনী-BU হিসাবে চিহ্নিত হইল। আসামী পক্ষ কর্তৃক দাখিলকৃত ভিডিও ভলিউম-৩ এ খালেদ সাইফুল্লা কর্তৃক উপস্থাপিত টিভি টকশো যাহা প্রদর্শনী-BV হিসাবে চিহ্নিত হইল। এই আমার জবানবন্দী।
জেরার বিবরণ-
প্রশ্ন : ১৯৬১ সালে আমার পিতা মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী সাহেব ফাজিল পাস করার পর ঢাকায় এসে আলিয়া মাদরাসায় কামিল শ্রেণীতে ভর্তি হন।
উত্তর : জি ।
প্রশ্ন : আপনার পিতা এলএলবি পড়তে চেয়েছিলেন।
উত্তর : ১৯৬৮/১৯৬৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএলবি পড়ছিলেন। তবে তিনি এলএলবি কমপ্লিট করতে পারেননি।
প্রশ্ন : ১৯৬৫/১৯৬৬ সাল থেকে জনাব আব্দুর রাজ্জাক সাহেব তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : জনাব রাশেদ খান মেনন তখন ছাত্র ইউনিয়নের নেতা ছিলেন।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : ১৯৬৮/১৯৬৯ সালে জনাব তোফায়েল আহমেদ ছাত্রলীগের কি ছিলেন?
উত্তর : তিনি ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন তবে কোন পদে ছিলেন তা আমার জানা নাই।
প্রশ্ন : ১৯৬৮/৬৯ সালে ডাকসুর ভিপি কে ছিলেন ?
উত্তর :  এই মুহূর্তে স্মরণ নাই।
প্রশ্ন :  ১৯৬৮/১৯৬৯ সালে  তৎকালীন ডাকসুর ভিপি তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে যখন ১১ দফা আন্দোলন শুরু হয় তখন আপনার পিতা এই আন্দোলনের বিপক্ষে ছিলেন।
উত্তর :  ইহা সত্য নহে।
প্রশ্ন : ১৯৬৬ সালের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কর্তৃক বাঙ্গালীদের মুক্তির সনদ হিসাবে ঘোষিত ৬ দফা ছাত্রদের ১১ দফার অন্তর্ভুক্ত ছিল কি না।
উত্তর :  আমি এই মুহূর্তে বলতে পারছি না।
প্রশ্ন :  সেই সময় ছাত্র লীগ, ছাত্র ইউনিয়ন এবং কতিপয় প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন নিয়ে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়েছিল কিনা?
উত্তর : আমার জানা নাই।
প্রশ্ন : সেই ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে যে আন্দোলন চলছিল তার বিরোধিতা করেছিল জামায়াতে ইসলামী এবং তার ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘ।
উত্তর :  ইহা সত্য নহে।
প্রশ্ন : সে সময় পাকিস্তান সরকার সমর্থিত মুসলীম লীগ আইয়ুবপন্থি এনএসএফ নামে একটি ছাত্র সংগঠন ছিল।
উত্তর : জি, এটা আমি আমার অনুসন্ধানে জানতে পেরেছি।
প্রশ্ন : জামায়াতে ইসলামী একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : তৎকালীন পাকিস্তানে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও সাম্প্রদায়িকতা কার্যক্রমের কারণে জামায়াতে ইসলামীকে ব্যান্ড করা হয়।
উত্তর : ১৯৫৯ ও ১৯৬৪ সালে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল তবে তা সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক কোন কার্যক্রমের জন্য নয়। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে নিষিদ্ধ করেছিল। স্বৈরশাসক আইয়ুব খান। ঢাকা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের আদেশে জামায়াতে ইসলামী তার বৈধতা ফিরে পায়।
প্রশ্ন : স্বাধীন বাংলাদেশেও জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল ১৯৭১ সালে দখলদার পাক-বাহিনীর সাথে মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ত থাকার কারণে।
উত্তর : সত্য নয়। নিষিদ্ধ করা হয়েছিল সংবিধানে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের প্রভিশন না থাকায় নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
প্রশ্ন : ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমান সাহেব জামায়াতে ইসলামীকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেয়।
উত্তর : সত্য নয়। তবে ধর্মীয় রাজনীতির ওপর সংবিধানে নিষেধাজ্ঞা ওঠে যাওয়ার পর জামায়াতে ইসলামী পুনরায় রাজনীতি করার সুযোগ পায়।
প্রশ্ন : জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদী।
উত্তর : তিনি পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
প্রশ্ন : সম্প্রতি আবুল আলা মওদূদীর ছেলে ফারুক মওদূদী বাংলাদেশে একটি সেমিনারে যোগদান করতে আসেন।
উত্তর : এটা আমি পত্র-পত্রিকায় দেখেছি।
প্রশ্ন : উক্ত ফারুক মওদূদী জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির যা স্বাধীনতার পূর্বে ইসলামী ছাত্রসংঘ নামে পরিচিত ছিল। তাকে ধর্মভিত্তিক, কমিউনাল এবং সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে মন্তব্য করেছেন কি না?
উত্তর : আমি জানি না। তবে তিনি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নন। জামায়াতবিরোধী হিসেবে পরিচিত।
প্রশ্ন : বাংলা পত্রিকা নামে পত্রিকাটি কোথা থেকে বের হয়?
উত্তর : নিউইয়র্ক থেকে।
প্রশ্ন : দাখিলকৃত বাংলা পত্রিকায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী সম্পর্কে যে রিপোর্ট দেখানো হয়েছে তা মূল পত্রিকা নয়। এটা বিশেষ উদ্দেশে সৃষ্টি হয়েছে।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনি কখন মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে অনুসন্ধান করেছেন?
উত্তর : ২০১০ সালের শেষ দিক থেকে শুরু করি।
প্রশ্ন : শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা যাতে আপনার পিতার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য না দেয় সে জন্য প্রভাবিত করতে ঐসব সাক্ষীদের কাছে আপনি বার বার গিয়েছেন।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আল বদর নামে একটি বাহিনীর অস্তিত্ব আপনি অনুসন্ধানে পেয়েছেনÑ যারা পাকিস্তান বাহিনীর সহযোগী বাহিনী ছিল।
উত্তর : আল বদর বাহিনীর অস্তিত্ব আমার অনুসন্ধানে পেয়েছি। তবে এটা অক্সিলারি ফোর্স ছিল মর্মে কোন দালিলিক প্রমাণ সরকার পক্ষের ডকুমেন্টেও পাওয়া যায়নি। আমার অনুসন্ধানেও পাইনি।
প্রশ্ন : আপনার সাক্ষ্যে প্রদর্শিত রাজাকার, আল বদর ও আল শামস সদস্যদের জেলাভিত্তিক তালিকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে পেয়েছিলেন?
উত্তর : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চেয়েছিলাম, পাইনি। কিন্তু অন্য মামলায় প্রসিকিউশনের দাখিলকৃত ডকুমেন্ট পেয়েছি।
প্রশ্ন : আপনার অনুসন্ধানে আপনি জানতে পেরেছেন যে আল বদর বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা আপনার পিতা মতিউর রহমান নিজামী। তার সিদ্ধান্ত মতে এই বাহিনী গঠিত হয় এবং তিনিই এই বাহিনীর প্রধান ছিলেন।
উত্তর : সত্য নয়। তবে, ১৯৮৬ সালের পরে আমার পিতা যখন রাজনীতিতে জনপ্রিয়তা লাভ করেন তখন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেবল প্রমাণ ছাড়া অথবা ভুল রেফারেন্সে আমার পিতার বিরুদ্ধে এরূপ প্রপাগান্ডা নামানো হয়েছে।
প্রশ্ন : গোয়েন্দা রিপোর্ট সম্পর্কে আপনি কিভাবে অবহিত হন?
উত্তর : বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র বই, পুলিশ অ্যাবেস্টাক্ট এবং পুলিশের পাক্ষিক রিপোর্ট থেকে পেয়েছি।
প্রশ্ন : এই মামলা শুরু হওয়ার পরে আপনি গোয়েন্দা রিপোর্টের নামে যেসব বই দাখিল করেছেন তা আপনার লিখিত।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনার জন্ম কি ঢাকা শহরে?
উত্তর : জি, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
প্রশ্ন : আপনি যে বনানীর ঠিকানা দিয়েছেন সেটা কি আপনার স্থায়ী ঠিকানা?
উত্তর : জি, বর্তমান স্থায়ী ঠিকানা।
প্রশ্ন : আপনার জন্ম তারিখ কত?
উত্তর : ১৯৮১ সালের ১ মার্চ।
প্রশ্ন : আপনি ঢাকায় কত সাল পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন?
উত্তর : ২০০১ সাল পর্যন্ত ঢাকাতে। ২০০১ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবের রিয়াদে আল ইমাম ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেছি। পরে ওখান থেকে ইংল্যান্ডে চলে যাই। সেখানে ইসলামিক স্টাডিজ-এ মাস্টার্স, এলএলবি এবং বার এট ল’ সমাপ্ত করে ২০১০ সালে দেশে ফিরে আসি।
প্রশ্ন : ২০১০ সালে দেশে এসেই দেখেন যে আপনার পিতা গ্রেফতার হয়েছেন।
উত্তর : না। আমি বছরের শুরুতে দেশে আসি। উনাকে জুন মাসে গ্রেফতার করা হয় অন্য একটি মামলায়।
প্রশ্ন : আপনি দেশে থাকাকালে পাবনায় নিয়মিত যেতেন।
উত্তর : জি, বিদেশ থেকে ছুটিতে এলেও যেতাম।
প্রশ্ন : তখন তো এলাকায় গিয়ে আপনার পিতার স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা নিয়ে কারো সাথে কথা বলেননি।
উত্তর : বহুবার বলেছি। বহু মানুষের সাথে
প্রশ্ন : আপনার এলাকার কোন কোন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধার সাথে কথা বলেছেন?
উত্তর : আমাদের এলাকার বড় মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল ইসলাম বিশু, শামসুল আলমসহ অনেক বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=130907