১৯ অক্টোবর ২০১৯, শনিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধে ২০ ও ২১তম সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণ ॥ জেরা আজ
২০ জানুয়ারি ২০১৪, সোমবার,
জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আবুল কালাম মুহাম্মদ (একেএম) ইউসুফের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ২০তম সাক্ষী (জব্দ তালিকার) বাংলা একাডেমীর সহকারী গ্রন্থাগারিক এজাব উদ্দিন মিয়ার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের ২১তম সাক্ষী দিলীপ দাসের জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জবানবন্দী গ্রহণের পর সাক্ষীদের জেরা করেন একেএম ইউসুফের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। এছাড়া জবানবন্দী গ্রহণ করার পর ২১তম সাক্ষীর জেরা আজ সোমবার পর্যন্ত মূলতবি করা হয়েছে।
গতকাল ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হলে এজাব উদ্দিন মিয়ার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। তিনি বলেন, বাংলা একাডেমীর গ্রন্থাগার থেকে দৈনিক পূর্বদেশ, দৈনিক আজাদ, দৈনিক পাকিস্তান, দৈনিক সংগ্রাম, পাকিস্তান অবজারভার ও দৈনিক ইত্তেফাকের ১৯৭১ সালের বিভিন্ন তারিখের ১৬টি সংখ্যা জব্দ করা হয়। বাংলা একাডেমীর ভারপ্রাপ্ত প্রধান গ্রন্থাগারিক মো: মোবারক হোসেন কপিগুলো সত্যায়িত করেন।  গত ১৭ ডিসেম্বর বাংলা একাডেমীর গ্রন্থাগার থেকে দৈনিক পূর্বদেশ, দৈনিক সংগ্রাম, দৈনিক আজাদ ও দৈনিক ইত্তেফাকের সাতটি কপি জব্দ করা হয়। জবানবন্দী গ্রহণ শেষে আইনজীবী মিজানুল ইসলাম সাক্ষীকে জেরা করেন। জেরার জবাবে সাক্ষী বলেন, আমার জবানবন্দীতে প্রদর্শনী হিসেবে চিহ্নিত সংবাদ সমূহের বস্তুনিষ্ঠতা সম্পর্কে আমার কোন ধারণা নেই।
এরপর ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের ২১তম সাক্ষী দিলীপ দাস জবানবন্দীতে বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের পর গ্রামবাসিরা মিলে সংগ্রাম পরিষদ গঠন করি। গ্রাম পাহারা দেয়া ও রক্ষা করা আমাদের কাজ ছিল। এক পর্যায়ে আমি জানতে পারি খুলনার ইউসুফ সাহেবের নেতৃত্বে রাজাকার বাহিনী আমাদের গ্রামে হামলা করবে। তিনি একপর্যায়ে বাগেরহাটের রজব আলী ফকির, সিরাজ মাস্টার, হাফিজ উদ্দিনসহ আরো অনেককে নিয়ে রাজাকার বাহিনী গঠন করেন। তখন বাগেরহাটের অনেক এলাকায় লুটপাট শুরু হয় এবং কিছু লোককে গুলি করে হত্যা করা হয়।
ইতোমধ্যে জানতে পারি ইউসুফ সাহেবের বাহিনী আমাদের গ্রামে হামলা করবে। আমাদের গ্রামে আক্রমণের পরিকল্পনা করে। আক্রমণ প্রতিহত করতে আমরা লাঠিসোটা নিয়ে প্রস্তুত ছিলাম। আমাদের প্রস্তুতি দেখে তারা পিছু হটে। ওইদিন দুপুর ২টার পর আমাদের লোকজনদের মধ্যে কেউ কেউ দুপুরের খাবারের জন্য বাড়িতে যায়। এসময় ইউসুফ সাহেবের লোকজন নদী পার হয়ে গুলি বর্ষণ করতে করতে গ্রামে ঢুকে পড়ে। আমরা তাদের প্রতিরোধ করতে পারবনা বুঝতে পেরে এলাকার বিভিন্ন ঝোপজঙ্গলে লুকিয়ে থাকি। আমাদের অনুপস্থিতির সুযোগে তারা বাড়িঘর জালিয়ে দিতে থাকে। ছুটাছুটি অবস্থায় বহু লোককে গুলি করে হত্যা করা হয়। আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা পর তারা চলে যায়। এরপর আমরা বের হয়ে দেখলাম ৬০ থেকে ৬৫ জন লোক মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। যাদের অধিকাংশ হিন্দু সম্প্রদালেয়র লোক ছিল। মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে আমার খালাত ভাই গবিন্দ দাস ও ভগ্নিপতি সনাতন দাসসহ আমাদের গ্রামের ২৪ জন ছিল।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=136752