১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বুধবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষীর জেরা শেষ ॥ দ্বিতীয় সাক্ষীর জেরা ২৩ জানুয়ারি : মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষীর জেরা শেষ
১৭ জানুয়ারি ২০১৪, শুক্রবার,
দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান (এমসি) ও জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম সাক্ষী সৈয়দ মো: এমরানকে আসামি পক্ষের জেরা শেষ হয়েছে। গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২-এ সাক্ষীকে জেরা করেন মীর কাসেম আলীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম।
এ ছাড়া মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের দ্বিতীয় সাক্ষী মো: সানাউল্লাহ চৌধুরীর জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়েছে গতকাল। জবানবন্দী গ্রহণ শেষে আগামী ২৩ জানুয়ারি তাকে জেরার দিন ধার্য করা হয়েছে।
গতকাল সাক্ষ্যগ্রহণের সময় মীর কাসেম আলীকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। তার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন মিজানুল ইসলাম, ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম এবং অ্যাডভোকেট আবু বকর সিদ্দিক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম ও সুলতান মাহমুদ সিমন।
জেরা
প্রশ্ন : মীর কাসেম সাহেব ১৯৭১ সালের ৭ নভেম্বর পূর্ব পাকিস্তান ইসলামী ছাত্রসঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন।
উত্তর : সত্য।
প্রশ্ন : ৭ নভেম্বরের পর থেকে তিনি ঢাকাতেই থাকতেন।
উত্তর : সত্য নয়। তিনি ৭ নভেম্বরের পর সব সময় চট্টগ্রামেই থাকতেন।
প্রশ্ন : আপনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম সদর দফতর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সম্পাদিত বাংলাদেশর মুক্তিযুদ্ধ নামক বইয়ে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন?
উত্তর : বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম সদর দফতর কর্তৃপক্ষকে সাক্ষাৎকার দিয়েছি। তবে তা কোনো বইয়ে প্রকাশিত হয়েছে কি না আমার জানা নেই।
প্রশ্ন : সন্দ্বীপের কাশেম রাজাকার ছাত্রজীবনে আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। সে কারণে আপনাকে আটক করে জেলখানায় প্রেরণ করেছিল।
উত্তর : সত্য নয়। আমি সন্দ্বীপের কাশেম রাজাকার নামে কাউকে চিনতাম না।
প্রশ্ন : আপনি বহদ্দরহাট থেকে বালিরহাট এলাকায় খাজা রোডের আশপাশে যে অপারেশন হয় সেই অপারেশনের সময় গ্রেফতার হন।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : চট্টগ্রামের ডালিম হোটেলে কোনো আলবদর ক্যাম্প ছিল না বা মীর কাসেম আলীর নেতৃত্বে সেই ক্যাম্প পরিচালিত হতো না।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : রাজাকার মতিউর রহমান ওরফে মইত্যা গুণ্ডার দখলে ছিল ডালিম হোটেল ভবনটি। হোটেলের মালিক স্বাধীনতার পর মইত্যা গুণ্ডা ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে হোটেল দখল করে রাখা ও অন্যান্য অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
উত্তর : আমার জানা নেই।
প্রশ্ন : আপনি কখন থেকে ডালিম হোটেল চিনতেন।
উত্তর : ১৯৬৯ সাল থেকে।
প্রশ্ন : ডালিম হোটেলের মালিক কে ছিল?
উত্তর : আমি জানি না।
প্রশ্ন : হোটেলটি কি আবাসিক হোটেল ছিল?
উত্তর : হ্যাঁ।
প্রশ্ন : আপনি মতিউর রহমান ওরফে মইত্যা রাজাকারকে চেনেন?
উত্তর : ভরতে যাওয়ার আগে তার নাম শুনিনি। ভারত থেকে আসার পর তার নাম শুনেছি।
প্রশ্ন : চট্টগ্রাম শহরে রাজাকারের প্রধান ক্যাম্পটি কোথায় ছিল?
উত্তর : আমার জানা নেই।
প্রশ্ন : আপনার নেতৃত্ব বিবিরহাট রাজাকার কমান্ডারের বাড়ি আক্রমণ করে তাকে হত্যা করা হয়।
উত্তর : আমি আক্রমণ পরিচালনার সময় অংশ নেইনি। তবে আমার পরিকল্পনায় আক্রমণ হয়।
প্রশ্ন : পাকিস্তানি সেনাসদস্যরাই আপনাকে আটক করেছিল।
উত্তর : আমাকে আটকের সময় আমার ঘরে কোনো পাকিস্তান আর্মি প্রবেশ করেনি।
প্রশ্ন : আটকের সময় কি আপনার চোখ বাঁধা হয়েছিল?
উত্তর : আটকের সঙ্গে সঙ্গে চোখ বাঁধা হয়নি। আমাদের গাড়িতে ওঠানোর সময় চোখ বাঁধা হয়। আটকের পর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চোখ বেঁধে রাখত। তবে জিজ্ঞাসাবাদ ও টর্চার করার সময় আমার চোখের বাঁধন খুলে দেয়া হয়।
প্রশ্ন : আপনি শেখানো মতে সাক্ষী দিলেন।
উত্তর : সত্য নয়।
দ্বিতীয় সাক্ষীর জবানবন্দী (সংক্ষিপ্ত) : রাষ্ট্রপক্ষের দ্বিতীয় সাক্ষী মো: সানাউল্লাহ চৌধুরী জবানবন্দীতে বলেন, ১৯৭১ সালে আমি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে অফিস সহকারী ছিলাম। তখন আমি উত্তর নালাপাড়া ডাবলমুরিং থানার মুসলিম হাইস্কুলের শিক বশিরুল হুদার বাসায় ভাড়া থাকতাম। আমার একটি টুইন ওয়ান রেডিও ছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রায় সন্ধ্যায় আমি ও আমার বন্ধুবান্ধব বাসায় জড়ো হয়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ও বিবিসির সংবাদ শুনতাম।
১৯৭১ সালের ২৭ নভেম্বর মাগরিবের নামাজের পর ভগ্নিপতি মৃত হাবিবুর রহমান, প্রতিবেশী জাফর আহমেদ (মৃত), ইলিয়াসসহ আমার বাসায় গল্প করছিলাম। এমন সময় দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হয়। বন্ধুদের কেউ এসে থাকবে ভেবে কেউ একজন দরজা খুলে দিতেই সাত-আটজন অস্ত্রধারী ঘরে ঢুকে। তারা আমাদের অস্ত্রের মুখে ঘর থেকে বের করে উঠানে বসিয়ে রাখে। এরপর অস্ত্রধারীরা হাবিবুর রহমান, ইলিয়াস আলী ও আমাকে চোখ বেঁধে ১০০ গজের মতো পথ হাঁটিয়ে নিয়ে একটি জিপ অথবা পিক-আপে তোলে। সেখান থেকে আমাদের ডালিম হোটেলের সামনে নিয়ে যায়। অস্ত্রধারীদের কথাবার্তায় বুঝতে পেরেছিলাম জায়গাটি ডালিম হোটল। জিপ থকে নামিয়ে আমাদের ডালিম হোটেলের দোতলায় একটি রুমে নিয়ে আটকে রাখা হয়। ডালিম হোটেলে আটক থাকা অবস্থায় আমাকে প্রায়ই বিভিন্ন রুমে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের সময় মীর কাসেম আলীও আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। ডালিম হোটেলে আটক অবস্থায় অ্যাডভোকেট শামসুল, শাহ আলম, জাহাঙ্গীর এমরানের সাথে দেখা হয়। ১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর সকালে আমাকে রুম থেকে আলবদর অফিস কক্ষে নিয়ে বলা হয় মুক্তিযোদ্ধাদের খবরাখবর দিলে আমাকে ছেড়ে দেয়া হবে। এই শর্তে আমার কাছ থেকে একটি মুচলেকা নিয়ে আমাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এরপর আমি গ্রামের বাড়ি চলে যাই।
জবানবন্দী প্রদানের সময় সাক্ষী আরো জানান তাকে যখন ডালিম হোটেলে বন্দী থাকা রাখা হয় তখন অন্য একজনকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে সেখানে।
http://www.dailynayadiganta.com/details.php?nayadiganta=MTAyODQ=&sec=16