২৩ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার রক্তে রঞ্জিত হলো বাংলার সবুজ জমিন : মতিউর রহমান আকন্দ
১৯ ডিসেম্বর ২০১৩, বৃহস্পতিবার,
(গতকালের পর) জনাব আব্দুল কাদের মোল্লা ভাই ব্যক্তিগতভাবে একজন সাহসী এবং দৃঢ়চেতা ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। আল্লাহর প্রতি ছিল তার অগাধ বিশ্বাস, আস্থা এবং নির্ভরশীলতা। দ্বীনের জন্য জীবন দিতে সবসময় তিনি প্রস্তুত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা তথাকথিত মানবতাবিরোধী অভিযোগের মিথ্যা মামলায় বিচার নামক প্রহসনে ডিফেন্স টিমের একজন সদস্য হিসেবে পুরো সময়টি একেবারে কাছে থেকে জানার, বুঝার সুযোগ হয়েছে।
সাড়ে ৩ বছরের কারাবাসে তিনি একটি দিনের তরেও পরিবার, পরিজন, আত্মীয়-স্বজন অথবা তার সন্তানদের নিয়ে সামান্য সময়ের জন্যও বিচলিত হননি। অথচ এ পরিবারটির উপর যে সীমাহীন জুলুম এবং নির্যাতন হয়েছে তা নজিরবিহীন। তার সন্তান, মেয়ের জামাই, নিজের স্ত্রী, সবাইকেই এ জালেম সরকার গ্রেফতার করে মিথ্যা মামলা দিয়ে দিনের পর দিন কারাগারে আটক রেখেছিল। তখন কারাভ্যন্তরে বন্দি থেকে তিনি সবকিছু শুনেও অত্যন্ত দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন। যখন তাকে ট্রাইব্যুনালে আনা হতো আইনজীবী হিসেবে তার সাথে সাক্ষাৎ করে সবকিছুই তাকে জানানোর এবং তার কথা শুনার সুযোগ হতো। তার পরিবারের কথা উঠলেই তিনি বলতেন, “ওসব নিয়ে আমি মোটেই চিন্তিত নই। আমাকে আমার ব্যক্তিগত অপরাধের জন্য সরকার আটক করেনি। আমাকে আটক করে মিথ্যা মামলা দিয়ে এই বিচারের নামে প্রহসনের আয়োজন করা হয়েছে, যেহেতু আমি ইসলামী আন্দোলনের কর্মী।
আমি মহান আল্লাহ তায়ালাকে আমার অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করেছি। তার দ্বীন কায়েমের অপরাধে আমাকে কারাগারে আটক করা হয়েছে। সুতরাং আমার পরিবারের ভবিষ্যৎ কি সেটা নির্ধারণ করবেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। আমি ভাবছি ইসলামী আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে। এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত, কিভাবে তার মোকাবিলা করে এ আন্দোলনকে সাফল্যের দিকে নিয়ে যাওয়া যাবে সেটাই আমার ভাবনার বিষয়। যতদিন মুক্ত ছিলাম, অসংখ্য কাজের মাঝেও পরিবারের কথা আমার ভাবনায় ছিল। যখন অন্তরীণ তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমার পরিবারের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছেন। তাই এ বিষয়ে আমি ভাবি না।”
তার এ বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেন তিনি শাহাদাতের পূর্ব মুহূর্তে। কারাগারে পরিবারের সদস্যগণ সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, “আমি তোমাদের অভিভাবক ছিলাম। আমার শাহাদাতের পর তোমাদের অভিভাবক হবেন মহান রাব্বুল আলামীন। তিনিই উত্তম অভিভাবক। তার চেয়ে নির্ভরশীল অভিভাবক আর কে আছে। সুতরাং তোমাদের দুর্ভাবনার কোন কারণ নেই।”
তিনি তার স্ত্রীর উদ্দেশে বললেন, “তোমাদের অভিভাবক আল্লাহ। তুমি পরিবারকে দেখাশোনা করবে মাত্র। আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তোমার এ দায়িত্ব পালন শেষ হওয়ার পরই যেন আল্লাহ তায়ালা তোমাকে আমার কাছে নিয়ে আসেন।” (চলবে)
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=134528