১৬ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
বাবা-মার কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত সদরপুরে কাদের মোল্লার দাফনে হাজারো মানুষ
১৪ ডিসেম্বর ২০১৩, শনিবার,
ফরিদপুর সদর উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের আমিরাবাদ ফজলুল হক পাইলট ইনস্টিটিউশন মাঠে আবদুল কাদের মোল্লার গায়েবানা জানাজায় অংশ নেন হাজার হাজার মানুষ; ইনসেটে কাদের মোল্লার লাশ : নয়া দিগন্ত
শুভাকাক্সী, স্বজন আর এলাকার হাজার হাজার মানুষের ভালোবাসা ও চোখের পানিতে বাবা-মার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা। তার দাফন নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প থেকে নেয়া হয় নজিরবিহীন নিরাপত্তা। কনকনে শীত উপো করে বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে দাফনে অংশ নিতে ছুটে আসা হাজার হাজার স্থানীয় জনতাকে বাধা দিয়েছে পুলিশ। এ সময় তাদের একবারের জন্য শেষ দেখাও দেখতে দেয়া হয়নি। দাফনে অংশ নিতে আসার পথে গ্রেফতার করা হয়েছে শুভাকাক্সী, সমর্থক ও দলীয় নেতাকর্মীদের। এ সময় গ্রেফতার করা হয়েছে অর্ধশতেরও বেশি। বাধা দেয়া হয়েছে সংবাদ সংগ্রহে সদরপুরে যাওয়া সংবাদকর্মীদেরও। মধ্য রাতে কনকনে শীতের মধ্যে তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে।
ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে দু’টি অ্যাম্বুলেন্স ও ট্রাকসহ ১৫টি গাড়িযোগে পুলিশ, বিজিবি ও এপিবিএন সদস্যদের নিয়ে লাশবাহী বহরটি রাত ৩টার পরে এসে পৌঁছে সদরপুরের ভাষানচর ইউনিয়নের আমিরাবাদ গ্রামে। এর আগেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি বিশেষ দল এসে কবর খুড়ে সম্পন্ন করে রাখে। আমিরাবাদ গ্রামে কাদের মোল্লার লাশটি গ্রহণ করেন তার ছোট ভাই ভাষানচর ইউপির চেয়ারম্যান মাইনউদ্দিন মোল্লা। রাত ৩টা ৫৭ মিনিটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রহরায় বাড়ির প্রাঙ্গণে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার নামাজে ইমামতি করেন হাফেজ মো: আবু তালেব। জানাজার নামাজে ফরিদপুর জেলা জামায়াতের আমির সামসুল ইসলাম আল বরাটি, সেক্রেটারি অধ্য মাওলানা বদরুদ্দিন, জামায়াত নেতা মো: খালেছ, মাদারিপুর জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো: আব্দুস সোবহান, রাজবাড়ী জেলা জামায়াতের আমির অধ্য নুরুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও কয়েক শ’ গ্রামবাসী অংশ নেন। ৪টা ১০ মিনিটে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে কাদের মোল্লার লাশ তার বাবা-মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়।
এ দিকে কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হওয়ার খবর পেয়ে রাত ১১টা হতেই তাঁর দাফনে অংশ নিতে বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে শুভাকাক্সী, স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীরা ছুটতে থাকেন সদরপুরের আমিরাবাদ গ্রামের উদ্দেশে। তবে শহরের রাজবাড়ী মোড়, ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজের সামনে, সদরপুরের হাটকৃষ্ণপুর সংযোগ সড়ক, পুকুরিয়া সংযোগ সড়কসহ আমিরাবাদ গ্রামে প্রবেশের সব ক’টি পথে পুলিশ টহল বসিয়ে দাফন কাজে অংশ নিতে বাধা দেয়া হয়।
দূরদূরান্ত থেকে এবং গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ছুটে আসা মানুষদের পথে হয়রানি ও আটক করে পুলিশ। যারা সেখানে বিভিন্ন উপায়ে পৌঁছতে পেরেছিলেন তাদের সবাই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাড়ির আঙিনায় লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। প্রথম পর্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন দাফন কাজে অংশ নিতে দেয়া হয়নি অসংখ্য মানুষকে। স্বজনদের বারবার অনুরোধ ও আহাজারি সত্ত্বে¡ও তাদের শেষবারের মতো কাদের মোল্লার লাশ দেখতে দেয়া হয়নি। রাত সাড়ে ৪টার আগেই দাফন সম্পন্ন করে লাশের বহরে আসা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আমিরাবাদ গ্রাম ত্যাগ করে। তবে সদরপুর ও ফরিদপুর থেকে আসা পুলিশ ও আর্মড আমিরাবাদ গ্রামের প্রবেশমুখসহ বিভিন্ন পয়েন্টে রাখা হয়েছে।
কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের খবরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ বাধা উপো করেই হাজার হাজার মানুষ গতকালও জড়ো হওয়ার চেষ্টা করে সদরপুরের আমিরাবাদ গ্রামে তার পৈতৃক বাড়িতে। এরপর জনতার দাবির মুখে দুপুরে জুমা বাদ বাড়ির পাশে আমিরাবাদ ফজলুল হক পাইলট ইনস্টিটিউশন মাঠে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় দফায় গায়েবানা জানাজা। পুলিশের বাধা উপো করে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ অংশ নেন গায়েবানা জানাজায়। এ সময় গায়েবানা জানাজা-পূর্ব সংপ্তি বক্তব্যে এলাকাবাসী ও নেতারা একদিকে শোক অন্য দিকে তীব্র ােভ ও ঘৃণা প্রকাশ করেন প্রশাসনের আচরণে। দ্বিতীয় দফা গায়েবানা জানাজায় ইমামতি করেন আমিরাবাদ চৌরাস্তা মসজিদের ইমাম মাওলানা আমিরুল ইসলাম। জানাজা-পূর্ব সংপ্তি বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সাবেক আমির দেলোয়ার হুসাইন, আবদুল কাদের মোল্লার ছোটভাই ভাষানচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাইনুদ্দিন মোল্লা, আমিরুল ইসলাম ও ফরিদুল হুদা।
মাইনুদ্দিন মোল্লা কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে তার সংপ্তি বক্তব্য দানকালে বলেন, এলাকার সর্বমহলে আবদুল কাদের মোল্লা একজন সজ্জন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি কখনোই কারো সাথে কোনো অন্যায় আচরণ করেছেন এমনটি কেউ বলতে পারেননি। শুধু জামায়াতের সাথে জড়িত হওয়ায় তাকে ফাঁসিতে ঝুঁলিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা আল্লাহর দরবারে তার হত্যার বিচার দিলাম।
গ্রামের অধিবাসী আমিরুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আবদুল কাদের মোল্লা তার নিজ গ্রামেই ছিলেন। এলাকার প্রবীণ সবাই এ কথা জানেন। আজ তাকে মিথ্যা মামলায় অন্যায়ভাবে হত্যা করা হলো। আমরা আল্লাহর দরবারে তার জান্নাত নসিবের জন্য দোয়া করছি।
http://www.dailynayadiganta.com/details.php?nayadiganta=MzAxOQ==&s=MQ==