৩১ মে ২০২০, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
এ টি এম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্যামেরা ট্রায়ালে একজন সাক্ষীর অনুমতি
১১ ডিসেম্বর ২০১৩, বুধবার,
কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে একজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের অনুমতি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। গতকাল মঙ্গলবার চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবিরের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। একইসাথে  আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়ার বিষয়ে রিভিউ আবেদনের ওপর শুনানির জন্য আগামী ১৫ ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছে ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের করা তিনজন সাক্ষীর ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে সাক্ষ্য গ্রহণের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একজনকে মঞ্জুর করে আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। আদেশের আগে  ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘ক্যামেরা ট্রায়াল কোনো নিরাপত্তা নয়। যদি তাই হতো, তাহলে তো পুরো বিচার ব্যবস্থাই ক্যামেরা ট্রায়ালে হতে হবে।’
আদালত বলেন, ‘তিনজন সাক্ষীর ক্যামেরা ট্রায়ালের দরকার নেই। শুধু একজন সাক্ষী ক্যামেরা ট্রায়াল পাবেন। তাছাড়া মুক্তিযুদ্ধে কি ঘটেছে, সাক্ষী কি বিষয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছেন তা দেশের জনগণের জানার দরকার আছে। এজন্য শুধু মুক্তিযুদ্ধের সময় ভিকটিম (ক্ষতিগ্রস্তরা) ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে তাদের সাক্ষ্য পেশ করবেন।’ এর আগে গত সপ্তাহে আজহারের বিরুদ্ধে তিনজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে গ্রহণ করার আবেদন করেন প্রসিকিউশন। এরপর মঙ্গলবার একজন সাক্ষীর ক্যামেরা ট্রায়ালের আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। অনুমতি পাওয়া সাক্ষীর নাম জানতে চাইলে প্রসিকিউটর সাইফুল ইসলাম জানান, সাক্ষীর নাম এখন বলা হবে না।’ নিরাপত্তাজনিত কারণে এটা বলা হচ্ছে না বলেও জানান তিনি। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর সাইফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে আসামীপক্ষে জুনিয়র আইনজীবী রায়হান উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
মাওলানা ইউসুফের বিরুদ্ধে
১৭ তম সাক্ষীর জবানবন্দী
কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমরী মাওলানা এ কে এম ইউসুফের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১৭তম সাক্ষী তৈয়ব আলী খাঁ ওরফে ছেতু খাঁ জবানবন্দী দিয়েছেন। জবানবন্দী শেষে এ সাক্ষীকে জেরার জন্য আজ বুধবার পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দী পেশ করেন বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার শিয়ালকাঠির তৈয়ব আলী খাঁ ওরফে ছেতু খাঁ (৮৫)।
রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষীদের জবানবন্দী নেন প্রসিকিউটর মীর জাহিদ ইমাম। জবানবন্দী শেষে একটি প্রশ্ন করেন আসামীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট গাজী তামিম। জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম আজ বুধবার পর্যন্ত  মুলতবি করা হয়।
এর আগে ইউসুফের প্রধান আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত না থাকায় প্রসিকিউশনের ১৫তম সাক্ষী সুনীল কুমার ডাকুয়াকে জেরা ক্লোজ করে দেয় ট্রাইব্যুনাল। ইতঃপূর্বে এই মামলায় প্রসিকিউশনের ১২, ১৩, ১৪ ও ১৫তম সাক্ষীর জেরাও একই কারণে ক্লোজ করা হয়।
সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিয়ে
ট্রাইব্যুনালের উদ্বেগ
এদিকে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের নিরাপত্তার জোরদার করতে সরকারকে চাপ সৃষ্টি করার জন্য প্রসিকিউশনকে পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। গতকাল মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-১ সাক্ষীর নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রসিকিউশনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সাক্ষীর নিরাপত্তা না দিতে পারলে সাক্ষী আনতে পারবেন না, তা সরকারকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন। সরকারকে বলেন, সাক্ষীর নিরাপত্তা না দিলে আমরা সাক্ষী আনবো না।
মৃত্যুদ-প্রাপ্ত জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার ৮ম সাক্ষী মোস্তফা হাওলাদারের মৃত্যুর ঘটনায় ট্রাইব্যুনাল উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রসঙ্গত মৃত্যুদ-প্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর  মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী মোস্তফা হাওলাদার (৫৫) দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত হয়ে মারা গেছেন। গত সোমবার রাত আড়াইটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
খোকনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের
১২ ও ১৩তম সাক্ষীর সাক্ষ্য
একই ট্রাইব্যুনালে অপর মামলায় ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌর মেয়র ও বিএনপি নেতা পলাতক জাহিদ হোসেন খোকনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ১২ ও ১৩তম সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। পরবর্তী সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আজ বুধবার দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রথম ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
গতকাল রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী নগরকান্দা থানার গোয়ালদী গ্রামের মোঃ হান্নান মুন্সী (৬৪) ও  রমেশ চন্দ্র রায় (৭১) ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দী পেশ করেন। রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষীদের জবানবন্দী নেন প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল। জবানবন্দী শেষে সাক্ষীকে জেরা করেন রাষ্ট্রনিয়োগকৃত আসামীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট আব্দুস শুক্কুর খান।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=134035