২৮ মে ২০২০, বৃহস্পতিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
ট্রাইবুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করেছেন মুজাহিদ
১১ আগস্ট ২০১৩, রবিবার,
গত ১৭ জুলাই ২০১৩ ইং তারিখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-২ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল আলী আহসান মো: মুজাহিদকে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘঠিত মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদন্ড প্রদান করেছেন।
জনাব আলী আহসান মো: মুজাহিদের বিরুদ্ধে মোট ৫টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে মর্মে ট্রাইব্যুনাল-২ যে, রায় প্রদান করেছেন, সে রায় ন্যায়ভ্রষ্ট উল্লেখ করে আমরা আজ মাননীয় সুপ্রীমকোর্টে আপীল দায়ের করেছি। আপীলে মোট ১১৫টি গ্রাউন্ড নেয়া হয়েছে।
চার্জ-১ (সাংবাদিক সিরাজউদ্দিন হোসেনকে অপহরন ও হত্যার অভিযোগ’)
প্রথম অভিযোগে জনাব মুজাহিদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সিরাজউদ্দিন হোসেন অপহরন ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। অথচ এই অভিযোগের স্বাক্ষী সিরাজুদ্দিন হোসেনের ছেলে জেরায় নিজেই স্বীকার করেছেন, তার পিতাকে অপহরনের পরপর তিনি ১৯৭২ সালে রমনা থানায় দালাল আইনে একটি মামলা করেছিলেন। ঐ মামলায় তিনি সাক্ষ্যও দিয়েছিলেন। এই মামলায় আসামী জনৈক খলিল স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী দিয়েছিল এবং বিচারে তাদের যাবত জীবন কারাদন্ড হয়। তারপরও মাননীয় ট্রাইব্যুনাল জনাব মুজাহিদকে এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেছেন । আইনের দৃষ্টিতে এটা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
চার্জ-৩ (রঞ্জিত কুমার নাথকে অপহরন ও নির্যাতনের অভিযোগ’)
৩য় অভিযোগে জনাব মুজাহিদের বিরুদ্ধে ফরিদপুরের জনৈক মুক্তিযোদ্ধা রঞ্জিত কুমার নাথকে আটক ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়। অথচ এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা স্পষ্ট করেই তার জেরায় স্বীকার করেছেন যে, রঞ্জিত নাথকে নিগৃহিত করার ঘটনা তার জব্দকৃত কোন বইয়ে উল্লেখ ছিল না। ফরিদপুর জেলা প্রশাসন থেকে তিনি মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা এবং বধ্যভূমির তালিকাসহ নিহত ব্যক্তিদের যে তালিকাটি সংগ্রহ করেছিলেন সেই তালিকায়ও রঞ্জিত নাথের নাম নেই। আর স্বাক্ষীর জবানবন্দিতেও জনাব মুজাহিদের দায় প্রমানীত না হলেও ট্রাইবুনাল তাকে এই অপরাধে ৫ বছরের কারাদন্ড প্রদান করেছেন যা আমাদেও মতে সঠিক হয়নি।
চার্জ-৫ (পুরাতন এমপি হোস্টেলে বন্দী নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ’)
৫ম অভিযোগে নাখালপাড়া এমপি হোস্টেলে বেশ কয়েকজন বন্দীকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগে জনাব মুজাহিদকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করা হয়। এই অভিযোগের প্রসিকিউশন স্বাক্ষী তার জেরায় বলেছেন, ১৯৭১ সালের ২৯ আগষ্ট সকালে পত্রিকায় কিছু ব্যক্তিদের আটকের খবর পেয়ে ঐ দিনই বিকেলে তিনি তার চাচার সাথে রমনা থানায় গিয়েছিলেন এবং সেখানে গিয়ে বদি, রুমি, জুয়েল, আজাদ, আলতাফ মাহমুদসহ আরো ২০/২৫ জনকে দেখেছিলেন। অথচ প্রসিকিউশন কর্তৃক সরবরাহকৃত জাহানারা ইমামের নিজের লেখা বই ’একাত্তরের দিনগুলি’ থেকে জানা যায় উপরোক্তদের কেউই ৩০ আগষ্ট মধ্যরাতের আগে গ্রেফতার হয়নি। এইভাবে মিথ্যা তথ্য প্রদানকারী একজন ব্যক্তির স্বাক্ষ্যের ভিত্তিতে জনাব মুজাহিদকে দোষী সাব্যস্ত করা অন্যায্য এবং ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।  
চার্জ-৬ (মোহাম্মাদপুর ফিজিকালে বুদ্ধিজীবি হত্যার অভিযোগ’)
৬ষ্ঠ অভিযোগে জনাব মুজাহিদের বিরুদ্ধে ঢাকার মোহাম্মাদপুর ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউটে বুদ্ধিজীবী হত্যার অভিযোগ আনা হয়। এই পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষ জনাব মুজাহিদের বিরু্েদ্ধ সুস্পষ্ট কোন অভিযোগআনতে ব্যর্থ হয়েছে। জনাব মুজাহিদ কতজন বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করেছেন তাদের কোন সংখ্যা নেই। সেই সব বুদ্ধিজীবীদের   নামও নেই। কোনদিন এবং কোথায় তাদেরকে হত্যা করেছে তারও কোন বিবরণ নেই। বুদ্ধিজীবীদের পরিবারের কোন লোক সাক্ষী দিতে আসেননি। অথচ বুদ্ধিজীবি হত্যার দায়ে জনাব মুজাহিদকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, জনাব সিরাজুদ্দিন হোসেনের হত্যাকান্ডকে রাষ্ট্রপক্ষ একটি আলাদা হত্যাকান্ড হিসেবে অভিযোগ এনেছে। ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউটে বুদ্ধিজীবী হত্যার সাথে সিরাজুদ্দিন সাহেবের হত্যাকে জড়িত করা হয়নি।


চার্জ-৭ (ফরিদপুরের বাকচরে হত্যাকান্ড চালানোর অভিযোগ’)
৭ম অভিযোগে ফরিদপুরের বাকচরে হত্যাযজ্ঞ চালানোর অভিযোগ আনা হয়। এই মামলার একজন স্বাক্ষী শোনা স্বাক্ষী। আর আরেকজন বর্তমানে ভারতে থাকলেও ট্রাইবুনালে এসে বাংলাদেশে থাকার দাবী করেন। সাক্ষী শক্তি সাহা তার পিতার হত্যার বিচার চেয়ে ট্রাইবুনালে স্বাক্ষী দিলেও জেরার এক পর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন যে, বাংলাদেশে তার সুদির্ঘকাল অবস্থান কালে তিনি তার বাবার হত্যার ব্যাপারে কোন থানায় বা আদালতে কোন অভিযোগ দায়ের  করেনি। তার বড় ভাই ফরিদপুরেই আছেন । সেই ভাই তার বাবার মৃত্যু সংক্রান্তে কোন মামলা করেছেন কি না তার জানা নেই বা এ মর্মে তিনি কিছু শোনেনওনি, কারন তার আগ্রহ ছিল না। অথচ এই ধরনের অগ্রহনযোগ্য স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্যের উপর ভিত্তি করে জনাব মুজাহিদকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। শুধু তাকে দোষী সাব্যস্ত করাই হয়নি মৃত্যুদন্ডও দেয়া হয়েছে এতে আমরা বিস্মিত। এটা ন্যায় বিচারের পরিপন্থি।
সবচেয়ে বড় কথা হলো, এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তার জেরায় পরিস্কারভাবে স্বীকার করেছেন যে, স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত জনাব মুজাহিদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ৬৫টি জেলার কোন থানায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে সংঘটিত কোন অপরাধের জন্য কোন মামলা হয়েছে, এমন তথ্য তিনি তার তদন্তে পাননি। তদন্তকারী কর্মকর্তা এটাও স্বীকার করেছেন যে, জনাব মুজাহিদ আল বদর, শান্তি কমিটি, রাজাকার,আশ শামস বা এই ধরনের কোন সহযোগী বাহিনীর সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন, এমন কোন তথ্য তিনি তার তদন্তকালে পাননি। তারপরও মাননীয় ট্রাইব্যুনাল তাকে আলবদর বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এটা সত্য কথা যে জনাব মুজাহিদ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ইসলামী ছাত্রসংঘের সেক্রেটারী জেনারেল এবং পরবর্তীকালে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু তিনি আলবদরের সদস্য ছিলেন বা আলবদরের কমান্ডার ছিলেন এমন কোন সাক্ষ্য প্রমান রাষ্ট্রপক্ষ উপস্থাপনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।
আমরা মনে করি জনাব আলী আহসান মো: মুজাহিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে গণহত্যা ও মানবতা বিরোধী অপরাধের কোন উপাদান নেই। আইনের দৃষ্টিতে ট্রাইব্যুনালের এ রায় কোন রায়ই নয়। উচ্চাআদালতে আমরা ন্যায়বিচার পাব বলে আশা করি।