২০ অক্টোবর ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
আনীত অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ॥ কোন অপরাধের সাথেই আমি জড়িত ছিলাম না -মাওলানা এ কে এম ইউসুফ
২ আগস্ট ২০১৩, শুক্রবার,
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযোদ্ধের সময়ে সংঘটিত কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধসহ বিশেষ করে হত্যা, গণহত্যা দেশান্তর, করার অপরাধের জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমীর  মাওলানা এ কে এম ইউসুফের বিরুদ্ধে ১৩টি অপরাধের ভিত্তিতে অভিযোগ গঠন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে এ মামলায় সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপনের জন্য আগামী ৫ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। ওই দিন সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করে এ আদেশ দেন।
এছাড়া মাওলানা ইউসুফের জামিন চেয়ে করা আবেদন খারিজ না করে ট্রাইব্যুনাল রেকর্ডভুক্ত করে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আসামীপক্ষেগর করা আবেদন খারিজ করে দেয় ট্রাইব্যুনাল।
অভিযোগ গঠনের আদেশ শেষে ট্রাইব্যুনাল মাওলানা ইউসুফের কাছে জানতে চান তিনি দোষী না নির্দোষী। জবাবে মাওলানা ইউসুফ বলেন, আমি সম্পূর্ণ নিদোর্ষ। এই মামলায় আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তার সবগুলোই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ১৯৭১ সালের কোন অপরাধের সাথেই আমি জড়িত ছিলাম না। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কারণেই আমার বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মাওলানা ইউসুফ আরো বলেন, আমার বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে হত্যা, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠন, ধর্মান্তকরণসহ যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আমি সম্পূর্ণ নিদোর্ষ।
ট্রাইব্যুনাল থেকে বাইরে এসে আসামীপক্ষেগর আইনজীবী এডভোকেট সাইফুর রহমান বলেন, প্রসিকউশন তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এনেছে তা সত্য নয়। তিনি একাত্তর সালে হত্যা, গণহত্যা অগ্নিসংযোগের সাথে জড়িত ছিলেন না।  ট্রাইব্যুনাল তার অভিযোগ গঠনের যে আদেশ দিয়েছেন এ বিষয়ে আপিল বা রিভিউ আবেদন করা হবে বলেও তিনি জানান। তিনি আরো বলেন, যে ব্যক্তি যে অপরাধের একবার সাজা ভোগ করেছেন সেই ব্যক্তি ওই একই অপরাধে আরেকবার বিচার হতে পারে না।  তিনি বলেন, ইউসুফ সাহেব পাকিস্তান আমলে মন্ত্রী ছিলেন। স্বাধীনতার পরে দালাল আইনে তার বিচার হয়েছে। এরপর বঙ্গবন্ধুর সাধারণ ক্ষমায় জেল থেকে মুক্ত হয়েছে। কিন্তু এরপর এখন আবার তাকে রাজনৈতিক কারণেই এই বিচারের সম্মুখীন করা হয়েছে। এর আগে গত ৬ মে তার পক্ষে করা একটি জামিন আবেদন খারিজ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
গত ১২ মে রোববার ট্রাইব্যুনালের এক আদেশে ধানমন্ডির বাসা থেকে জামায়াতের এই নেতাকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর আগে গত ৮ মে বুধবার ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার অফিস বরাবর প্রসিকিউটর ঋষিকেষ ১৫টি অভিযোগের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে প্রসিকিউশন। একই সঙ্গে তাকে গ্রেফতারের আবেদনও করা হয়।
গত ২২ এপ্রিল জামায়াতের এ নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত চূড়ান্ত করে চিফ প্রসিকিউটর বরবার প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত সংস্থা। মাওলানা এ কে এম ইউসুফের বিরুদ্ধে একাত্তর সালে ৭শ’ জনকে গণহত্যা, ৮ জনকে হত্যা, ২শ’ হিন্দু লোককে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করাসহ ৩শ’ বাড়ি লুণ্ঠন এবং ৪শ’ দোকান লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করার অপরাধ আনা হয়েছে। মাওলানা এ কে এম ইউসুফের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগে (ফরমাল চার্জে) মূল ৮৫ পৃষ্ঠার ১৫টি অভিযোগের ভিত্তিতে ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়। তদন্ত সূত্রে জানা যায় এ কে এম ইউসুফের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ২২ জানুয়ারি তদন্ত শুরু করে গত ২১ এপ্রিল শেষ করে।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=123629