২০ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
হুমকি উপেক্ষা করে মুরসি সমর্থকদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা : হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিশ্বব্যাপী নিন্দা
২৯ জুলাই ২০১৩, সোমবার,
নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে শনিবার শতাধিক সমর্থক নিহত ও কয়েক হাজার আহত হওয়া সত্ত্বেও মিসরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসির সমর্থকেরা কায়রোয় তাদের প্রায় এক মাস ধরে চলা অবস্থান ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। এ দিকে মুরসির সমর্থকদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে নিরাপত্তাবাহিনীর নির্বিচার হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত ও কয়েক হাজার আহত হওয়ার ঘটনায় বিশ্বব্যাপী নিন্দা জানানো হয়েছে। আলজাজিরা, বিবিসি ও রয়টার্স। নিরাপত্তা বাহিনীর নির্বিচারে হত্যাকাণ্ডের পর তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়ার সরকারের কঠোর হুমকিকে অগ্রাহ্য করেছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মুরসির সমর্থকেরা। তারা কায়রোয় তাদের প্রায় এক মাস ধরে চলা অবস্থান ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ঘোষণা করেছেন। মুরসির সমর্থক ব্রাদারহুডের নেতারা শনিবার রাতে সেখানে বক্তব্য প্রদানকালে বলেছেন, তারা তাদের দাবি থেকে একচুলও পিছু হটবেন না। তাদের দাবি হচ্ছে, ৩ জুলাই ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মুরসিকে পুনর্বহাল করতে হবে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুহাম্মদ ইব্রাহিম হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন যে, তাদের সেখান থেকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হবে। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বিােভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে আইনরাকারী বাহিনী যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা নেবে।’ মুসলিম ব্রাদারহুডের মুখপাত্র জিহাদ আল হাদ্দাদ বিবিসিকে বলেছেন, ‘কায়রোর রাবা আলআদুবিয়া মসজিদ এলাকায় হাজার হাজার নারী, পুরুষ ও শিশু শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এখন আর আলোচনার কোনো সুযোগ নেই। হয় আমরা থাকব, না হয় ওরা। হয় আমরা সামরিক অভ্যুত্থানকরীদের হটিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনব, নয় মরে যাব।’ তিনি বলেন, ‘যাই ঘটুক না কেন আমরা আমাদের বিােভ চালিয়ে যাব। প্রতিদিনই বিােভকারীদের সংখ্যা বাড়ছে।’ জনগণ স্বৈরশাসন ও সামরিক অভ্যুত্থানের দীর্ঘমেয়াদি তিকর দিক সম্পর্কে আঁচ করতে পারছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মুরসি সমর্থকেরা ব্যারিকেড দিয়ে নিজেদের শিবিরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন বলে বিবিসির খবরে বলা হয়। রাবা আল আদুবিয়া মসজিদের আশপাশে গতকাল সকালে লোকদের সেখানে অবস্থান করার ব্যাপারে দৃঢ় সঙ্কল্পবদ্ধ দেখা যায়। তাদের অবস্থান ধর্মঘটের পঞ্চম সপ্তাহ শুরুর দিন গতকাল সকালে সেখানে শান্ত অবস্থা বিরাজ করছিল। মুরসিকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত তারা ওই স্থান ত্যাগ করবেন না বলে জানান। শনিবারের গণহত্যার ঘটনার পর সমবেত জনতার মনোবল আগের চেয়ে অনেক বেশি দৃঢ় হয়েছে বলে সাংবাদিকেরা জানান। এক ব্যক্তি সাংবাদিকদের বলেন, তিনি পুলিশের মোকাবেলা করে যাবেন। গুলির সামনে বুক পেতে দিতেও প্রস্তুত রয়েছেন তিনি। ৩ জুলাই থেকে মসজিদের বাইরে অবস্থানকারী আরেক ব্যক্তি বলেন, তার জন্য ‘পুলিশের নির্যাতনে’ মৃত্যুবরণ বেঁচে থাকার চেয়ে অনেক উত্তম হবে।’ শনিবার ভোরের হত্যাকাণ্ড বিক্ষোভকারীদের মনোবল দুর্বল করেনি বরং অনেক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সাংবাদিকেরা সাত বোন ও তাদের সন্তানদের নিয়ে গঠিত একটি পরিবারের প্রধানের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তাদের বাড়ি কায়রোর উত্তরে। তারা গোসল করতে বাড়িতে যাচ্ছিলেন। বললেন, গোসল সেরেই আবার আন্দোলনের এই স্থানে ছুটে আসবেন। ওই ব্যক্তি বলেন, প্রেসিডেন্টের যাই হোক না কেন আমাদের প্রতিবাদ বিক্ষোভ অব্যাহত থাকবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুহাম্মদ ইব্রাহিম মুরসির পুনর্বহালের দাবিতে করা যেকোনো বিােভ শিগগিরই ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হবে বলে হুমকি দেন। তিনি শনিবার ভোরে কায়রোয় মুরসির সমর্থকদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি চালানোর কথাও অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, নিরাপত্তা বাহিনী কেবল কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে। শনিবার ভোরে নিরাপত্তা বাহিনী শতাধিক লোককে হত্যা করলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিহতের সংখ্যা ৭৮ জন বলে উল্লেখ করেছে। মুসলিম ব্রাদারহুডের মুখপাত্র জিহাদ আল হাদ্দাদ বলেন, তিনটি গ্রুপ তাদের সমর্থকদের ওপর ওই রাতে হামলা চালায়। তারা হলোÑ খারাপ পোশাক পরা দুষ্কৃতিকারী, তিন ধরনের পোশাকধারী পুলিশ ও সাদা পোশাক পরা পুলিশ। তিনি বলেন, মুরসিকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত তারা বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন। সে জন্য কয়েক সপ্তাহ, কয়েক মাস বা বছর লাগুক না কেন, তারা তাদের এ কর্মসূচি থেকে পিছু হটবেন না। জনগণের বিােভে সেনাবাহিনীর হামলাকে যুক্তরাষ্ট্র অগণতান্ত্রিক আখ্যায়িত করে তাদের মিত্র আরব দেশ মিসরকে বিপজ্জনক পথ থেকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এ ঘটনার নিরপে তদন্ত করার দাবি জানিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, আমি মিসরে রক্তপাতে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। গণ-অভ্যুত্থানে হোসনি মোবারকের পতনের দুই বছরের কম সময়ের মধ্যে মিসর একটি সন্ধিণে এসে দাঁড়িয়েছে। শান্তিপূর্ণ বিােভ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো মিসরীয় কর্মকর্তাদের নৈতিক ও আইনগত দায়িত্ব। মিসরের অব্যাহত সহিংসতা দেশটির পুনর্গঠন ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার েেত্র বাধা সৃষ্টি করবে এবং অঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলবে বলেও মন্তব্য করেন জন কেরি। মার্কিন প্রতিরামন্ত্রী চাক হ্যাগেলও মিসরীয় সশস্ত্র বাহিনী প্রধান ও প্রতিরামন্ত্রী জেনারেল আব্দুল ফাত্তাহ আল-সিসির সাথে টেলিফোনে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। মিসরের ভয়াবহ সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাস্টোন বলেন, পরিস্থিতির উন্নয়নে দেশে দ্রুত বেসামরিক শাসন ফিরিয়ে আনা উচিত। একই সাথে তিনি প্রেসিডেন্ট মুরসিসহ সব রাজনৈতিক নেতার মুক্তি দাবি করেন। সবার পরে প্রতি সহিংসতা বর্জনেরও আহ্বান জানান তিনি। কায়রোর সহিংস ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রজব তৈয়েব এরদোগান বলেছেন, এতে মিসরের গণতন্ত্র ও জাতীয় আশা-আকাক্সা ধুলিসাৎ হয়ে গেছে। এখন মিসরীয় জাতিও ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। মুরসির উৎখাতের সমর্থক দুই ব্যক্তিত্ব মিসরের সামরিক বাহিনী মনোনীত ভাইস প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ আলবারাদি ও আলআজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মীয় নেতা আহমেদ আল তাইয়েব মুরসি সমর্থকদের ওপর শক্তি প্রয়োগের নিন্দা করেন। আলবারাদি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, সমাবেশে সেনা ব্যবহার বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে। টুইটার অ্যাকাউন্টে তিনি লিখেছেন, আমি তীব্র ভাষায় বল প্রয়োগ ও হতাহতের ঘটনার নিন্দা করছি। শান্তিপূর্ণ উপায়ে সঙ্ঘাত অবসানে কঠোর পরিশ্রম করছি। আল্লাহ মিসরকে রা করুন। হত্যার ঘটনায় নিন্দা জানান আলআজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মীয় নেতা আহমেদ আল তাইয়েব। তিনি এ ঘটনায় জরুরি ভিত্তিতে বিচারবিভাগীয় তদন্ত এবং দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন। শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।
http://www.dailynayadiganta.com/welcome/post/9122#.UfYKWW087IU