২০ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
কায়রোয় মুরসি সমর্থকদের ওপর নির্বিচার গুলি : নিহত ১৩৬; আহত ৪৫০০ জন
২৮ জুলাই ২০১৩, রবিবার,
মিসরের রাজধানী কায়রোয় নাসের সিটিতে গতকাল শনিবার ভোররাতে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসির সমর্থকদের সমাবেশের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর নির্বিচার গুলিবর্ষণে ১৩৬ জন নিহত ও সাড়ে চার হাজার আহত হয়েছে। মুসলিম ব্রাদারহুড বা ইখওয়ানুল মুসলিমিন হতাহতের এ সংখ্যা জানিয়েছে। এ হত্যাকাণ্ড চালানোর জন্য দলটি নিরাপত্তা বাহিনীকে দোষারোপ করেছে। গার্ডিয়ান, রয়টার্স, আলজাজিরা। মিসরের স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের পতনের পর এটি হলো দেশটিতে রাষ্ট্রপরিচালিত সবচেয়ে নৃশংস গণহত্যার ঘটনা। শুক্রবার জুমার নামাজের পর মুরসির সমর্থক ও বিরোধীরা যে পাল্টাপাল্টি বিােভ সমাবেশ করে তারই সূত্র ধরে নিরাপত্তা বাহিনী এ হত্যাকাণ্ড চালায় বলে মনে করা হচ্ছে। মিসরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা মাত্র ২০টি লাশের কথা জানতে পেরেছে। মন্ত্রণালয় অবশ্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কাছে দেয়া লাশের ভিত্তিতেই মৃতের সংখ্যা হিসাব করে থাকে। সাংবাদিকেরা মাত্র একটি কক্ষেই ৩৬টি লাশ পড়ে থাকতে দেখেছেন। গতকাল শনিবার ভোরে কায়রোর পূর্ব দিকে রাবা আল আদাবিয়া মসজিদের কাছে মুরসি সমর্থকদের অবস্থান ধর্মঘটস্থলে এ হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। গত ৩ জুলাই মুরসিকে সেনাবাহিনী ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে গত তিন সপ্তাহ ধরে হাজার হাজার সমর্থক তার পুনর্বহালের দাবিতে সেখানে শিবির গেড়ে দিন রাত ২৪ ঘণ্টা অবস্থান ধর্মঘট পালন করে যাচ্ছেন। ব্রাদারহুডের মুখপাত্র জিহাদ আল হাদ্দাদ বলেছেন, ফজরের নামাজের ঠিক আগে গুলিবর্ষণ শুরু হয়। তিনি বলেন, ওরা আহত করার জন্য নয়, হত্যা করার জন্যই গুলি চালাচ্ছিল। হাদ্দাদ বলেন, এ কারণে নিহতের সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে। আলজাজিরার মিসরীয় অফিস জানায়, তাদের রিপোর্টার ঘটনাস্থল থেকে জানান, রাবা আল আদাবিয়া মসজিদের সহিংসতায় ১২০ জন নিহত ও সাড়ে চার হাজার আহত হয়েছে এবং তিনি সেখানে তখনও গুলিবর্ষণ করার শব্দ শুনতে পাচ্ছিলেন। ব্রাদারহুডের সিনিয়র নেতা সা’দ আল হুসাইনি বলেন, আমি যুবকদের ওই স্থান থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য ৫ ঘণ্টা ধরে চেষ্টা করেছি কিন্তু পারিনি। তারা বলেছে, ‘আমরা বুকের তাজা রক্ত দেবো এবং আমরা কিছুতেই পিছু হটবো না।’ আল হুসাইনি বলেন, মুরসির সমর্থকদের উচ্ছেদ করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে এ হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। অবশ্য সেনা ও পুলিশি অভিযানের পরেও মসজিদ চত্বরের অবস্থানস্থল ত্যাগ করেননি মুরসি সমর্থকরা। বিবিসি জানিয়েছে, এখনো সেখানে হাজার হাজার লোক অবস্থান করছে। মিসর সরকার তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে কী ঘটেছে সে সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি। গতকাল ভোরে মিসরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেছেন, রাবা আল আদাবিয়া মসজিদের আশপাশে যে অবস্থান ধর্মঘট চলছে তার ইতি টানা হবে, তবে তা আইনি পন্থায় করা হবে। কায়রোর পূর্বের অবস্থান ধর্মঘটস্থল থেকে পুলিশ মুরসির হাজার হাজার সমর্থককে ছত্রভঙ্গ করে দিতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করলে সেখানে সংঘর্ষের সূচনা হয়। মসজিদের কাছে স্থাপিত মাঠের হাসপাতালে অসংখ্য আহত লোককে চিকিৎসা দিতে ডাক্তারদের হিমশিম খাওয়ার দৃশ্য আলজাজিরা টিভির খবরে দেখা যায়। চিকিৎসকেরা জানান, নিহতদের বেশির ভাগের মাথায় গুলি লেগেছে। কারো কারো চোকে গুলি লেগেছে। জিহাদ আল হাদ্দাদ বলেন, স্থানীয় সময় রাত ৩টার দিকে পুলিশ মসজিদের কাছের এক রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের ওপর দফায় দফায় কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এরপরই তারা অতি কাছে থেকে লোকদের লক্ষ্য করে বেপরোয়া গুলিবর্ষণ করে। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে কায়রোর পূর্বের যে স্থানে মুরসির সমর্থকদের ওপর সেনাবাহিনী গণহত্যা চালায় তার কাছেই এ নৃশংস গণহত্যা চালানো হলো। মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুতকারী সেনাপ্রধান আব্দুল ফাত্তাহ আলসিসি তার ভাষায় ‘সন্ত্রাসবাদ’ দমনে তাকে অনুমোদন দিতে মুরসিবিরোধীদের কায়রোয় সমাবেশ করার ডাক দেয়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে এ গণহত্যার ঘটনা ঘটল। মুহাম্মদ মুরসিকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনর্বহালের দাবিতে শুক্রবার কায়রোর নাসের সিটিতে তার হাজার হাজার সমর্থক সমবেত হন। সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে এ সমাবেশের ডাক দিয়েছিলেন ইখওয়ানের শীর্ষ নেতারা। পাশাপাশি সামরিক অভ্যুত্থানের নায়ক মিসরের সেনাপ্রধান আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসি সেনাবাহিনীর সমর্থকদের রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানান। সিসির আহ্বানে সাড়া দিয়ে বেশ কিছু মানুষ তাহরির চত্বরে সমবেত হয়। অন্য দিকে মুরসির সমর্থকেরা শুধু কায়রো নয়, আলেক্সান্দ্রিয়াসহ মিসরের অন্যান্য শহরেও বিােভ করেন। শুক্রবার শেষ বেলা থেকে শুরু করে সারারাত ধরে দুই পক্ষের মধ্যে অনেক স্থানে সংঘর্ষ হয়। এতে ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী শহর আলেকক্সান্দ্রিয়ায় ১০ জন নিহত হয়। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর মাধ্যমে মূলত সেনাশাসক শান্তিপূর্ণ মুরসি সমর্থকদের ওপর সহিংস আন্দোলন করার মিথ্যা অভিযোগ আরোপ করেছেন। মুরসি সমর্থকেরা রাবা আল আদাবিয়াসহ সারা দেশে অবস্থান ধর্মঘট ও মিছিল-সমাবেশ করে যাচ্ছেন। অথচ মিসরের অধিকাংশ গণমাধ্যম, রেডিও-টিভি ও পত্রপত্রিকা তাদেরকে সন্ত্রাসী হিসেবে তুলে ধরছে। গত শুক্রবার কায়রোর ১৯ বছর বয়সী ছাত্র আব্দুল্লাহ হাতিম বলেন, ‘প্রতিরক্ষামন্ত্রী সন্ত্রাস দমনে তাকে কর্র্তৃত্ব প্রদানের জন্য জনগণের প্রতি কিভাবে আহ্বান জানাতে পারেন তা বুঝে আসছে না। তাই মনে হচ্ছে, আসলে মুরসির পুনর্বহালের দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত তার সমর্থকদের মোকাবেলায় অন্য কিছু করার একটি অজুহাত খাড়া করার একটা চেষ্টা করছেন আল সিসি।
http://www.dailynayadiganta.com/welcome/post/8886#.UfTUBW087IU