১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বুধবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
আসামী পক্ষকে প্রস্তুতিমূলক সময় না দিয়েই মীর কাশেম আলীর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন শুনানি শুরু
২৬ জুলাই ২০১৩, শুক্রবার,
দিগন্ত মিডিয়া কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান (এমসি) জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাশেম আলীর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন শুনানি শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ গতকাল শুনানি শুরু হয়। মীর কাশেম আলীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে হত্যা, নির্যাতন, অপহরণ লুণ্ঠন এবং অগ্নিসংযোগের মতো ১৪টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে। এর মধ্যে দুটি পৃথক অভিযোগে মোট সাতজনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। বাকি ১২টি অভিযোগ হল অপহরণ এবং নির্যাতন সংক্রান্ত।
সরকার পক্ষের আইনজীবী সুলতান মাহমুদ সিমন শুনানিতে অংশ নেন এবং মীর কাশেম আলীর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো পড়ে শোনান ট্রাইব্যুনালে। রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষে আগামী ৭ আগস্ট আসামী পক্ষের শুনানি পেশের জন্য পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে।
শুনানি শেষে সুলতান মাহমুদ সিমন সাংবাদিকদের জানান, ১৪টি অভিযোগের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মোট ৩৩ জন সাক্ষীর নাম জমা দেয়া হয়েছে।
অভিযোগসমূহ :
১নং অভিযোগ : মীর কাসেম আলীর নেতৃত্বে আল-বদর বাহিনী ১৯৭১ সালের ৮ নবেম্বর ওমরুল ইসলাম চৌধুরীকে চাকতাই ঘাট থেকে অপহরণ করে। এরপর তাকে কয়েক দফায় চট্টগ্রামের আন্দর কিল্লাস্থ ডালিম হোটেল, পাচলাইশ থানার সালমা মঞ্জিল এবং একটি চামড়ার গুদামে নিয়ে নির্যাতন করা হয়।
২নং অভিযোগ : আসামীর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ১৯ নবেম্বর চাকতাই থেকে লুৎফর রহমান ফারুককে অপহরণ করে ডালিম হোটেলে নিয়ে নির্যাতন করা হয় এবং বাড়িঘরে আগুন দেয়া  হয়।
৩নং অভিযোগ : ২২ অথবা ২৩ নবেম্বর আসামীর নেতৃত্বে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে তার কদমতলা বাসা থেকে ধরে নিয়ে ডালিম হোটেলে নির্যাতন করা হয়।
 ৪নং অভিযোগ : ডবলমুরিং থানায় সালাহউদ্দিন খানকে তার নিজ বাসা থেকে ধরে নিয়ে ডালিম হোটেলে আল-বদর বাহিনী কর্তৃক নির্যাতন।
৫নং অভিযোগ : ২৫ নবেম্বর আনোয়ারা থানার আব্দুল জব্বারকে তার নিজ বাসা থেকে ধরে নিয়ে ডালিম হোটেলে মীর কাসেম আলীর সামনে হাজির করা হয়। এরপর তাকে নির্যাতন করে ছেড়ে দেয়া হয়।
৬নং অভিযোগ : চট্টগ্রাম শহরের একটি চায়ের দোকান থেকে হারুনুর রশিদ নামে একজনকে ধরে নিয়ে ডালিম হোটেল এবং সালমা মঞ্জিলে নির্যাতন করা হয়।
৭নং অভিযোগ : মীর কাসেম আলীর নেতৃত্বে সাত/আটজন যুবক ডবলমুরিং থানা থেকে সানাউল্লাহ চৌধুরীসহ ২ জনকে ধরে নিয়ে ডালিম হোটেলে নির্যাতন করা হয়।
৮নং অভিযোগ : ২৯ নবেম্বর রাতে নুরুল কুদ্দুসসহ চারজনকে অপহরণ করে ডালিম হোটেলে নিয়ে নির্যাতন।
৯নং অভিযোগ : ২৯ নবেম্বর সৈয়দ মোঃ এমরানসহ ছয়জনকে অপহরণ ও নির্যাতন।
১০নং অভিযোগ : আসামীর নির্দেশে মোঃ যাকারিয়াসহ চারজনকে অপহরণ ও নির্যাতন।
১১নং অভিযোগ : শহীদ জসিম উদ্দিনসহ ছয়জনকে অপহণের পর নির্যাতন করা হয়। এতে জসিমসহ পাঁচজন নিহত হয় এবং পরে লাশ গুম করা হয়। ঈদের দিনের পর জসিমকে অপহরণ করে ডালিম হোটেলে নির্যাতন করা হয়।
১২নং অভিযোগ : জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ তিনজনকে অপহরণ করে নির্যাতন করা হয়। এতে দু’জন নিহত হয় এবং তাদের লাশ গুম করা হয়।
১৩নং অভিযোগ : সুনীল কান্তিকে অপহরণ ও নির্যাতন।
১৪নং অভিযোগ : নাসির উদ্দিন চৌধুরীকে অপহরণ ও নির্যাতন।
গতকাল ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হলে মীর কাসেম আলীর পক্ষে এডভোকেট তাজুল ইসলাম চার্জ গঠন শুনানি শুরু বিষয়ে সময় প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, সর্বশেষ যে ২০৯ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট জমা দেয়া হয়েছে তার মধ্যেও ৩৮ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট পাঠযোগ্য নয়। তাছাড়া আসামীর সাথে তার আইনজীবীরাও যোগাযোগের সুযোগ পায়নি। তবে ট্রাইব্যুনাল আবেদন প্রত্যাখ্যান করে রাষ্ট্রপক্ষকে শুনানি শুরু করতে বলেন এবং আসামী পক্ষকে তাদের শুনানি শুরুর জন্য সময় দেয়ার কথা বলেন। দুপুর একটার মধ্যেই রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষ হয়ে যায়।
আসামী পক্ষে এডভোকেট তাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমিন, ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম, আবু বকর সিদ্দিক, সাজ্জাদ আলী চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। আগামী ২৮ জুলাই এবং ১ আগস্ট আসামীকে তার আইনজীদের সাথে পরামর্শ করার সুযোগ দেয়া হয়েছে কাসিমপুর জেলখানায়।
১৬ মে রাষ্ট্রপক্ষ মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে ফরমাল চার্জ দাখিল করে ট্রাইব্যুনালে।
গত বছর ১৭ জুন মীর কাশেম আলীকে ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর নির্দেশে। সেই থেকে তিনি বন্দী রয়েছেন। চার্জ গঠন শুনানি উপলক্ষে গতকাল মীর কাসেম আলীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=123060