৮ ডিসেম্বর ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৬ অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনালের আদেশ প্রদান ১৮ আগস্ট চার্জ গঠনের শুনানি
২৬ জুলাই ২০১৩, শুক্রবার,
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আমলে নিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। আগামী ১৮ আগস্ট অভিযোগ গঠনের (চার্জ ফ্রেমিং) শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীর, সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে গঠিত ট্রাইব্যুনাল-১ এ নির্দেশ দেন। এছাড়া গতকালের মধ্যে এ মামলার যাবতীয় নথিপত্র আসামীপক্ষকে সরবরাহের নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। আসামীপক্ষের দাখিলকৃত আবেদনের প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল আজহারকে গাজীপুর জেলা কারাগার থেকে ঢাকায় ট্রাইব্যুনালে আনা-নেয়ার জন্য স্বাস্থ্য সম্মত গাড়ির ব্যবস্থা করতে জেল কর্তৃপক্ষের প্রতি নির্দেশ দেন।
এ সময় ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর একেএম সাইফুল ইসলাম ও জিয়াদ আল মালুম এবং আসামীপক্ষে এডভোকেট তাজুল ইসলাম, সাইফুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত ১৮ জুলাই প্রসিকউশন জামায়াতের এ নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন।
এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে রংপুর অঞ্চলে ১২২৫ ব্যক্তিকে গণহত্যা, চার জনকে হত্যা, ১৭ জনকে অপহরণ, একজনকে ধর্ষণ, ১৩ জনকে আটক ও ১৩ জনকে নির্যাতন করা এবং শতশত বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা  হয়েছে।
অভিযোগে আরো বলা হয়, রংপুরের কারমাইকেল কলেজের একাদশ শ্রেণীতে বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র থাকাকালে এ আসামী জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের রংপুর শাখার সভাপতি ও ওই জেলার আলবদর বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় মানবতাবিরোধী অপরাধের পরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র ও তা বাস্তবায়নে সক্রিয়ভাবে জড়িত থেকে অপরাধ সংঘটন করেন।
তদন্ত সংস্থা ২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। এ তদন্ত শেষ করতে এক বছর তিন মাস ১১ দিন সময় লেগেছে। তদন্তকালে ৬০ জনেরও বেশি ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। তবে মামলায় ২৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ থেকে ২৭ মার্চের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ভাসানী (ন্যাপ) নেতা ও বিশিষ্ট আইনজীবী এ ওয়াই মাহফুজ আলীসহ ১১ জনকে অপহরণের পর নির্যাতন করা হয়। এরপর তাদের ৩ এপ্রিল রংপুর শহরের দখিগঞ্জ শ্মশানে নিয়ে ব্রাশফায়ার করে। এই গণহত্যার সঙ্গে এ আসামী জড়িত ছিলেন।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, একাত্তরের ১৬ এপ্রিল রংপুরের বদরগঞ্জ থানার ধাপপড়ায় ১৫ জন নিরীহ, নিরস্ত্র বাঙালিকে গুলী করে গণহত্যার সঙ্গে এ আসামী জড়িত ছিলেন।
তৃতীয় অভিযোগে হচ্ছে, এ আসামী একই বছরের ১৭ এপ্রিল রংপুরের বদরগঞ্জের ঝাড়ুয়ার বিল এলাকায় ১২শ’র বেশি নিরীহ লোককে ধরে নিয়ে গণহত্যা চালানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
চতুর্থ অভিযোগে বলা হয়, ১৭ এপ্রিল কারমাইকেল কলেজের চারজন অধ্যাপক ও একজন অধ্যাপক পতœীকে ধরে দমদম ব্রিজের কাছে নিয়ে গুলী করে হত্যার সঙ্গে এ আসামী জড়িত ছিলেন।
পঞ্চম অভিযোগে বলা হয়, ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে রংপুর শহর ও বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মহিলাদের ধরে এনে টাউন হলে আটকে রেখে ধর্ষণসহ শারীরিক নির্যাতনের সঙ্গে এ আসামি জড়িত। একই সঙ্গে তাদের হত্যা ও গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এ আসামী।
ষষ্ঠ অভিযোগে বলা হয়, একাত্তরের নবেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রংপুর শহরের গুপ্তাপাড়ায় একজনকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়।
একই বছরের ১ ডিসেম্বর রংপুর শহরের বেতপট্টি হতে একজনকে অপহরণ করে রংপুর কলেজের মুসলিম ছাত্রাবাসে নিয়ে আটক রেখে নির্যাতন করে গুরুতর জখম করার সঙ্গে এ আসামী জড়িত ছিলেন। গত বছরের ২২ আগস্ট এটিএম আজহারুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=123058