২৮ মে ২০২০, বৃহস্পতিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
বিজ্ঞপ্তি
তথ্য মন্ত্রী জনাব হাসানুল হক ইনুর বক্তব্যর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ
২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, বৃহস্পতিবার,
তারিখঃ ২৫-০৯-২০১৩ : জাসদ নেতা মাননীয় তথ্য মন্ত্রী জনাব হাসানুল হক ইনু গতকাল সচিবালয় তার দফতরে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে ‘জামায়াত নিষিদ্ধ করতে আসুন জাতীয় চুক্তি করি’। মর্মে যে অন্যায়, অযৌক্তিক, অগণতান্ত্রিক ও উস্কানীমূলক বক্তব্য রেখেছেন তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব হামিদুর রহমান আজাদ এমপি আজ ২৫ সেপ্টেম্বর নিম্নোক্ত বিবৃতি প্রদান করেছেনঃ-
“জাসদ নেতা মাননীয় তথ্য মন্ত্রী জনাব হাসানুল হক ইনু গতকাল সচিবালয় তার দফতরে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে ‘জামায়াত নিষিদ্ধ করতে আসুন জাতীয় চুক্তি করি’। মর্মে যে অন্যায়, অযৌক্তিক, অগণতান্ত্রিক ও উস্কানীমূলক বক্তব্য রেখেছেন আমি তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ‘জামায়াতকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে অভিহিত করে জামায়াত চোরাগোপ্তা হামলা চালাচ্ছে। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অঘোষিত যুদ্ধ করছে। সময় এসেছে জামায়াতের মত জঙ্গিবাদী, সশস্ত্র ও অন্তর্ঘাতমূলক সংগঠনের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার। জামায়াত-প্রকাশ্য আদালতের বিচার না মেনে হরতাল ও বিক্ষোভ করে মানুষ পুড়িয়ে মারছে।’ মর্মে যে বক্তব্য রেখেছেন তা সর্বৈব মিথ্যা। তার বক্তব্যের জবাবে আমাদের সুস্পষ্ট বক্তব্য হলো, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক ধারার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও আন্তর্ঘাতমূলক, চোরাগোপ্তা হামলার সাথে জামায়াতে ইসলামীর কোন সম্পর্ক নেই। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা কিংবা আদালতের বিচার না মেনে হরতাল ও বিক্ষোভ করে মানুষ পুড়িয়ে মারার প্রশ্নই আসে না। মাননীয় তথ্যমন্ত্রী জামায়াতের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও কাল্পনিক। তার অভিযোগগুলো জামায়াতের ক্ষেত্রে আদৌ প্রযোজ্য নয়। এগুলো জাসদ, আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
অতীতে জাসদ গণবাহিনী গঠন করে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করার কারণে ১৯৭৪ ও ৭৭ সালে দু’বার নিষিদ্ধ হয়েছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জামায়াত-শিবিরসহ ১৮ দলের ওপর চড়াও হয়ে নেতা-কর্মীদের গণগ্রেফতার, গণহত্যা চালিয়ে সারাদেশকে রক্তাক্ত করেছে। তারা  অন্যায়ভাবে জামায়াত-শিবির ও হেফাজতে ইসলামের শতশত নেতা-কর্মীকে পাখীর মত গুলি করে গণহত্যা চালিয়েছে। হাজার হাজার লোককে আহত করেছে। বিনা বিচারে পুলিশ ও র‌্যাব দিয়ে বিরোধীদলের লোকদের হত্যা করে বাংলাদেশকে একটি স্বৈরাচারী, সন্ত্রাসী ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। পুলিশ ও র‌্যাব দিয়ে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করে অনেককে গুম করে ফেলছে, চক্ষু তুলে ফেলেছে, হাতে-পায়ের নখ তুলে ফেলেছে। হাত, পা, মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিচ্ছে। এভাবে তারা মানবাধিকার, আইনের শাসন ও গণতন্ত্র ধ্বংস করে দেশকে জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। কয়েকদিন পূর্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পুত্র জনাব সজীব ওয়াজেদ জয় এক জনসভায় ১৮ দলীয় জোটের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। সুতরাং সন্ত্রাস, গণহত্যা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন গলা টিপে হত্যা করার কারণে জাসদ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ ১৪ দলীয় জোটের রাজনীতিই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা উচিত। জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করার প্রশ্নই আসে না।
উল্লেখ্য যে, গতকাল চট্টগ্রামে পুলিশ গ্রেফতার অভিযান চালিয়ে ছাত্রশিবিরের ৩৪ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করে তাদের বাসা-বাড়ীর মালামাল লুট করে নিয়ে গিয়েছে। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং জামায়াত-শিবিরের গ্রেফতারকৃত নেতা-কর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
মাননীয় তথ্যমন্ত্রীর মিথ্যাচার হিটলারের তথ্যসচিব গোয়েবলসকেও হার মানিয়েছে। কাজেই জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মিথ্যাচার করে তথ্য সন্ত্রাস চালানো থেকে বিরত থাকার জন্য আমি মাননীয় তথ্যমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
 
মোঃ ইব্রাহিম    
কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী