২৮ মে ২০২০, বৃহস্পতিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
বিজ্ঞপ্তি
দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনে অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীদের আহত ও শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ
২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, মঙ্গলবার,
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঘোষিত আজ ২৩ সেপ্টেম্বরের দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ফরিদপুর ও বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের বাধা দান, হামলা ও গুলিবর্ষণ করে জামায়াত-শিবিরের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীদের আহত ও শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান আজ ২৩ সেপ্টেম্বর নিম্নোক্ত বিবৃতি প্রদান করেছেনঃ-
“বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল জনাব আব্দুল কাদের মোল্লাসহ সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও ১৮ দলের নেতা-কর্মী এবং আলেমদের মুক্তির দাবীতে ও দেশে সরকারের নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদে জামায়াতের পক্ষ থেকে ঘোষিত আজ ২৩ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ফরিদপুর ও বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারী দলের সশস্ত্র সন্ত্রাসী এবং পুলিশ দিয়ে বাধা দান, হামলা ও গুলিবর্ষণ করে জামায়াত-শিবিরের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীদের আহত ও শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করার আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। জামায়াতের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বাধা দানের মধ্য দিয়ে সরকারের অগণতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী চরিত্রই অত্যন্ত নগ্নভাবে প্রকাশিত হয়েছে।  সরকার মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে এবং সংবিধানের দোহাই দেয়। কিন্তু কার্যত: বর্তমান সরকার দেশের সংবিধান ও গণতন্ত্র ধ্বংস করে দিয়েছে। সরকার জামায়াত-শিবিরসহ বিরোধীদলের ওপর হামরা চালিয়ে দেশকে সংঘাত-সংঘর্ষ ও নৈরাজ্যের অন্ধকারে ঠেলে দিয়ে ভোটারবিহীন একদলীয় প্রহসনের নির্বাচন করার ষড়যন্ত্র করছে।
গতকাল ২২ সেপ্টেম্বর ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা পুলিশের সহযোগিতায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ কলা ভবনের সামনে ছাত্রশিবির ও সাধারণ ছাত্রদের ওপর গুলি এবং বোমা নিক্ষেপ করে ছাত্রশিবিরের ২ জন নেতাসহ ১০ জনকে আহত করেছে। আজ ঢাকা মহানগরী জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য লস্কর মো: তাসলীমসহ ৩ জন কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ফরিদপুর ও বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ জামায়াত-শিবিরের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীকে আহত করেছে এবং শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। গতকাল সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলায় পুলিশ গ্রেফতার অভিযান চালিয়ে জামায়াত-শিবিরের ৩৪ জন নেতা-কর্মীকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেছে। ঢাকা মহানগরীর শাহজাহানপুর থানার মালিবাগ থেকে গ্রেফতারকৃত ছাত্রশিবিরের ৯ জন নেতা-কর্মীকে ৬ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। সরকারের এসব জুলুম-নির্যাতনের আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং গ্রেফতারকৃত সবাইকে অবিলম্বে মুক্তি প্রদানের জন্য আমি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
সরকার স্বৈরাচারী কায়দায় বিরোধীদলের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে প্রহসনের নির্বাচন করার ষড়যন্ত্র দেশের জনগণ কখনো বাস্তবায়ন করতে দিবে না। দেশের মানুষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা সংবিধানে পুনর্বহাল করার দাবীতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাস হচ্ছে জনগণ যখন ঐক্যবদ্ধভাবে কোন দাবী আদায়ের জন্য আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে তখন জনতার বাধভাঙ্গা জোয়ারের মুখে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী খড়কুটার মত ভেসে যায়। ১৯৬৯, ’৭০ ও ’৯০-এর গণঅভ্যূত্থান তার বড় প্রমাণ। আমরা আশা করি সরকার জনতার আন্দোলনের মুখে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হওয়ার পূর্বেই জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ ১৮দলের গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মী ও আলেমদের মুক্তি দিয়ে এবং গণদাবী মেনে নিয়ে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিবেন। অন্যথায় জনগণ তীব্র গণআন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করবে।
কাজেই জুলুম-নির্যাতন, গণগ্রেফতার, গণহত্যা বন্ধ করে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল জনাব আব্দুল কাদের মোল্লাসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও ১৮ দলীয় জোটের গ্রেফতারকৃত নেতা-কর্মী এবং আলেমদের মুক্তি, বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ ট্রাইব্যুনাল ভেঙ্গে দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা সংবিধানে পুনর্বহাল করে পদত্যাগ করার জন্য আমি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
 
মোঃ ইব্রাহিম    
কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী