২৮ মে ২০২০, বৃহস্পতিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
বিজ্ঞপ্তি
জামায়াতের আটক শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও ১৮ দলের নেতা-কর্মী এবং আলেমদের মুক্তির দাবীতে এবং দেশে সরকারের নৈরাজ্য সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ২৩ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি সফল করার জন্য সংগঠনের সকল শাখার প্রতি আহ্বান
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, সোমবার,
তারিখঃ ২২-০৯-২০১৩ : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল জনাব আব্দুল কাদের মোল্লাসহ জামায়াতের আটক শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও ১৮ দলের নেতা-কর্মী এবং আলেমদের মুক্তির দাবীতে এবং দেশে সরকারের নৈরাজ্য সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে জামায়াতের পক্ষ থেকে ঘোষিত আগামীকাল ২৩ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি সফল করার জন্য সংগঠনের সকল শাখার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান আজ ২২ সেপ্টেম্বর নিম্নোক্ত বিবৃতি প্রদান করেছেন ঃ-
“সরকার জামায়াতে ইসলামীকে নেতৃত্বশূন্য করার উদ্দেশ্য জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে তথাকথিত মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে মিথ্যা মামলা দিয়ে বিচারের নামে প্রহসনের আয়োজন করেছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল জনাব আব্দুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক রায় ঘোষণার পর সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চ গড়ে তোলা হয়। সেই মঞ্চ থেকে কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবী করা হয়। সরকার সেই দাবীর প্রেক্ষিতে আইন সংশোধন করে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টে আব্দুল কাদের মোল্লার শাস্তি বৃদ্ধির জন্য আপীল দায়ের করে। মহামান্য সুপ্রীম কোর্ট ১৭ সেপ্টেম্বর জনাব আব্দুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ প্রদান করেন। সর্বোচ্চ আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পূর্বেই সরকার জনাব আব্দুল কাদের মোল্লাকে স্বল্পতর সময়ের মধ্যে ফাঁসিতে ঝুলানোর ঘোষণা দিয়ে তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে।
গতকাল ২১ সেপ্টেম্বর হাজারীবাগ ও মালিবাগ থেকে জামায়াত-শিবিরের ১৩ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেফতারের এবং একজনকে গুলি করে আহত করার আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। হাজারীবাগে পুলিশের ওপর কথিত হামলা ও ককটেল এবং বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার ও মালিবাগে গ্রেফতারকৃতদের নিকট থেকে হাত বোমা উদ্ধারের যে কথা প্রচার করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো নাটক। গ্রেফতারকৃতদের অবিলম্বে মুক্তি প্রদান করার জন্য আমি সরকারের  প্রতি আহবান জানাচ্ছি।
সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। সরকার দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। বিশেষ করে দেশের বিচার ব্যবস্থাকে নগ্নভাবে দলীয়করণের মাধ্যমে মানুষের আশা-ভরসার শেষ আশ্রয় স্থলকে ধূলিস্যাৎ করে দিয়েছে। সীমাহীন ব্যর্থতা ঢাকার জন্য সরকার জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য জামায়াত নেতৃবৃন্দেকে হত্যার মাধ্যমে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে প্রহসনের নির্বাচন করে আবারো ক্ষমতায় আসার চক্রান্ত করছে। জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারের এ সব ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত প্রতিহত করবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের গণভবনে ডেকে এনে নির্বাচনী প্রচারণার নামে বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে যে অপপ্রচারের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন তাতেই প্রমাণিত হয় যে, সরকারের পায়ের নীচে মাটি নেই। জনগণের রুদ্র রোষে পড়ার ভয়েই এখন প্রধানমন্ত্রী গণভবনে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের ডেকে এনে নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে থেকে বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে পরিকল্পতিভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। সরকারী ক্ষমতার অপব্যবহার করে ও অর্থের অপচয় করে বিরোধীদলের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে তিনি প্রহসনের একতরফা নির্বাচন করতে চান। জনগণ সরকারের এ স্বপ্ন কখনো বাস্তবায়ন হতে দেবে না। 
দেশের জনগণ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে পুনর্বহালের দাবীতে আজ ঐক্যবদ্ধ। সরকার জনগণের সেই দাবী বাস্তবায়ন না করে দেশকে গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সরকারের মনে রাখা দরকার, বহু আন্দোলন সংগ্রাম ও রক্তের বিনিময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে সন্নিবেশিত হয়েছিল। জনগণ আজও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবীতে সোচ্চার। সরকার জনগণের সে দাবী বাস্তবায়ন না করে সংবিধানের দোহাই দিয়ে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে পুনর্বহাল করবে।
আমরা সরকারকে হুশিয়ার করে দিয়ে বলতে চাই, জামায়াত নেতৃবৃন্দকে হত্যা করে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার কোন কৌশল বাস্তবায়ন করতে দেয়া হবে না। 
কাজেই জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল জনাব আব্দুল কাদের মোল্লাসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও ১৮ দলীয় জোটের গ্রেফতারকৃত নেতা-কর্মী এবং আলেমদের মুক্তি, বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ ট্রাইব্যুনাল ভেঙ্গে দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে পুনর্বহাল করার দাবীতে এবং সরকারের গণগ্রেফতার, জুলুম-নির্যাতন ও গণহত্যার প্রতিবাদে জামায়াতের পক্ষ থেকে ঘোষিত ২৩ সেপ্টেম্বর সোমবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি সফল করার জন্য জামায়াতে ইসলামীর সকল শাখার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি এবং দেশবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।।”
 
মোঃ ইব্রাহিম    
কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী