২৪ নভেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
স্বাধীনতার অনেক পরে মৃত্যুবরণকারী সোহরাবকে ৩ ডিসেম্বর ’৭১ তারিখে নিজামীর নির্দেশে হত্যার অভিযোগ!
২০ আগস্ট ২০১৩, মঙ্গলবার,
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর সাবেক মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে আনীত ১৯৭১ সালের কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গতকাল সোববার সরকার পক্ষের ১৬ তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন পাবনার বেড়া থানাধীন বৃশালিখা গ্রামের জানে আলম ওরফে জানু। প্রসিকিউটর মোহম্মদ আলী তার জবানবন্দী গ্রহন করেন। পরে তাকে জেরা করেন মাওলানা নিজামীর আইনজীবী এডভোকেট মিজানুল ইসলাম। জনৈক মুক্তিযোদ্ধা সোহরাবকে ১৯৭১ সালের ৩রা ডিসেম্বর মাওলানা নিজামীর নির্দেশে সাঁথিয়া থানার রাজাকার আলবদরের কমান্ডার রফিকুন্নবী ওরফে বাবলুর নেতৃত্বে স্থানীয় রাজাকার, আলবদর ও পাক বাহিনীরা বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে এবং পরে গুলী করে হত্যা করে এবং অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে মর্মে শুনেছেন বলে তিনি জবানবন্দীতে উল্লেখ করেন। তবে ঐ সোহরাব স্বাধীনতার পরে মারা যান বলে অভিযোগ করেন এডভোকেট মিজানুল ইসলাম।
গতকাল সোমবার সকালে বিচারপতি এটিএম ফজলে কবিরের নেতৃত্বে  অপর ২ সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে গঠিত ট্রাইব্যুনাল-১ এজলাসে বসার পর  মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। জবানবন্দী ও জেরা বেলা পৌনে ১টার মধ্যে শেষ হয়। আগামী ২৫ আগস্ট পরবর্তী সাক্ষীর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। মাওলানা নিজামীর পক্ষে আরো উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট তাজুল ইসলাম, আসাদ উদ্দিন, তারিকুল ইসলাম,ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন, মতিউর রহমান আকন্দ প্রমুখ।
১৬ তম সাক্ষীর জবানবন্দী নি¤œরূপ:
আমার নাম মোঃ জানে আলম ওরফে জানু, আমার বয়স অনুমান ৫৯/৬০ বৎসর। আমার ঠিকানা- সাং বৃশালিখা, থানা বেড়া, জেলা পাবনা।
১৯৭১ সালে আমি দশম শ্রেণীর ছাত্র ছিলাম। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চে বঙ্গবন্ধু যে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন, সেই ভাষণের পরে আমরা বেড়া বিপিন বিহারী হাইস্কুল মাঠে  মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি ও ট্রেনিং গ্রহণ করি। ১৫/২০ দিন ট্রেনিং নেওয়ার পরে আমরা বেড়া থানার পুলিশের নিকট থেকে ১৪টি রাইফেল ও স্থানীয় লোকজনের লাইসেন্স করা বন্দুক কেড়ে নিয়ে উত্তর বঙ্গের বগুড়া রোডে তৎকালীন ডাববাগান বর্তমান শহীদনগরে প্রতিরোধ গড়ে তুলি। ১৯৭১ সালের ১৯শে এপ্রিল দুপুরের দিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সংগে আমাদের ডাববাগানে সম্মুখ যুদ্ধ হয়। সেই যুদ্ধে আমরা পিছু হটে বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে পালিয়ে চলে যাই। কয়েকদিন পর আমরা আবার সংঘবদ্ধ হয়ে কুড়িগ্রামের রৌমারী বর্ডার দিয়ে ভারতে চলে যাই। সেখান থেকে ট্রেনিং নিয়ে আমরা আগস্ট মাসের মাঝামাঝি বাংলাদেশে প্রবেশ করে টাংগাইলের শাহাজানির চরে অবস্থান নেই। আমরা তখন সংখ্যায় ৫০/৬০ জন ছিলাম। আমরা তখন বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন স্থানে চলে যাই। আমি যে গ্রুপে ছিলাম সেই গ্রুপটি শাহাজাদপুরে দুগলী গ্রামে ক্যাম্প স্থাপন করে। ২রা ডিসেম্বর রাত্রি আনুমানিক ১০.০০ টার দিকে সোহরাব আমাদের ক্যাম্পে আসে এবং আমাকে বলে চলো গ্রাম থেকে লোকজনের সংগে দেখা করে আসি। ঐদিন রাত্রি আনুমানিক ১০.০০টার পরে আমরা রওনা দিয়ে গ্রামের লোকজনের সংগে দেখা করি এবং রাত্রি আনুমানিক ১.০০/১.৩০টার দিকে আমি আমার নিজ বাড়িতে পৌঁছি এবং অবস্থান করি। পরদিন ৩রা ডিসেম্বর রাত্রিতে আমার আব্বা-আম্মা যখন গরুর খাবার দিতে গোয়াল ঘরে যায় তখন দেখতে পান রাজাকার, আলবদর এবং পাক বাহিনী রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে। তখন আমার বাবা এসে আমাকে বলে পাক বাহিনী গ্রাম ঘিরে ফেলেছে তুমি তাড়াতাড়ি উঠে পালাও। তখন আমি বাড়ির পিছন দিক দিয়ে পালিয়ে হুড়াসাগর নদী পার হয়ে ওপারে আমাদের ক্যাম্পে চলে যাই। ভোর বেলা দেখতে পাই আমাদের গ্রামের অনেক লোকজন নদী পার হয়ে ওপারে আশ্রয় নিয়েছে। পরদিন বেলা বারোটা/সাড়ে বারোটার দিকে রাজাকার ও পাক বাহিনী চলে যাওয়ার পরে আমরা কয়েকজন গ্রামে ফিরে আসি। গ্রামে ফিরে এসে শুনি সোহরাবকে বেয়নেট দিয়ে খুচায়ে খুচায়ে পরে গুলি করে হত্যা করে এবং গ্রামের আর কিছু লোক যেমন ষষ্টি, ভাদু, মনু, পফুল্ল, পিন্টু সহ আরও অনেককে হত্যা করেছে এবং আমাদের গ্রামের প্রায় ৭০/৭২টি বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। আমাদের দেখে গ্রামের লোকজন প্রাইমারী স্কুলের সামনে জড়ো হয়। তখন গ্রামের ময়মরব্বীদের মুখে শুনলাম তৎকালীন ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতি মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের নির্দেশে সাঁথিয়া থানার রাজাকার আলবদরের কমান্ডার রফিকুন্নবী ওরফে বাবলুর নেতৃত্বে স্থানীয় রাজাকার, আলবদর ও পাক বাহিনীরা এই হত্যাকা-, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করেছে।
আমি তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট জবানবন্দী প্রদান করেছি। মতিউর রহমান নিজামী সাহেব ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত নাই। পরে কাঠগড়ার নিকট গিয়ে দেখেন তিনি ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ার মধ্যে চেয়ারে বসে আছেন (সনাক্তকৃত)।
জেরার বিবরণ:
প্রশ্ন : ডাববাগান সাঁথিয়া থানার করমজা ইউনিয়নে অবস্থিত।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : ডাববাগান আপনাদের বাড়ি থেকে কোন দিকে কত দূরে?
উত্তর : দক্ষিন দিকে ১০ কি.মি. দূরে।
প্রশ্ন : টাংগাইলের শাহাজানির চর কালিহাতি থানার অধীন।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন :  আপনাদের বাড়ি থেকে শাহাজানির চরের দূরত্ব নদী পথে কত এবং কোন দিকে?
উত্তর : আনুমানিক ৩০ কি.মি. পূর্ব-উত্তর কোণে।
 
প্রশ্ন : আপনাদের বাড়ি থেকে নগরবাড়ী ঘাটে যেতে ১৯৭১ সালে কত সময় লাগতো?
উত্তর : ৩/৪ ঘণ্টা।
প্রশ্ন : আরিচাঘাট থেকে শাজাহান চরের দূরত্ব কত?
উত্তর : জানা নেই।
প্রশ্ন : শাজাহানচর থেকে আরিচা ঘাটে কিসে যেতেন? কত সময় লাগতো?
উত্তর : আমি কখনো আরিচা ঘাটে যাইনি। এ জন্য সময় বলতে পারব না।
প্রশ্ন : আপনাদের বাড়ি থেকে টাঙ্গাইলের শাজাহান চরে যেতে যমুনা নদীতে কত সময় লাগতো?
উত্তর : উজান পথে সাড়ে তিন ঘণ্টা লাগতো।
প্রশ্ন : টাঙ্গাইলের কালিহাতি এলাকা ১৯৭১ সালে মুক্ত এলাকা ছিল।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : শাজাহান চরে আপনারা কতদিন ছিলেন?
উত্তর : ৩/৪ দিন।
প্রশ্ন : ডাববাগান যুদ্ধের পরে আপনারা সবাই শাজাহান চরে গিয়েছিলেন?
উত্তর : অনেকে গিয়েছিল। সবাই যায়নি।
প্রশ্ন : শাজাহান চরে আব্দুস সেলিম লতিফ আপনাদের সাথে ছিল?
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : আপনারা যখন শাহজাদপুর চরে আসেন তখন সেলিম সাহেব ছিলেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : তিনি কোন এলাকায় ছিলেন?
উত্তর : আমার জানা নেই।
প্রশ্ন : আপনার নাম সম্বলিত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকার গেজেট দেখেছেন?
উত্তর : জি, দেখেছি।
প্রশ্ন : আপনার নামের একজনের আগের নাম আছে মোফাখখারুল ইসলাম।
উত্তর : জি, আমাদের গ্রামেই তার বাড়ি।
প্রশ্ন : আপনার তালিকার সিরিয়াল ১৩৮৩ এবং মোফাখখরুলের সিরিয়াল ১৩৮১।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : আপনার এবং মোফাখখারুল ইসলামের পিতার নাম মৃত শব্দ লেখা আছে।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : আপনার নামের পরেও সবার পিতার নাম মৃত লেখা আছে।
উত্তর : সবগুলো পর্যালোচনা দেখি নাই। তবে পিতা মারা গেলে অবশ্যই মৃত লেখা থাকে।
প্রশ্ন : ১৩৮২ ক্রমিকে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল সেলিম লতিফের নাম লেখা আছে।
উত্তর : থাকতে পারে।
প্রশ্ন : তার পিতার নাম মৃত বা শহীদ কোনটাই লেখা নেই।
উত্তর : জানা নেই।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালের ৩রা ডিসেম্বর ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সেক্রেটারি কে ছিলেন?
উত্তর : আমার জানা নেই।
প্রশ্ন : ঐ সময় বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সেক্রেটারি কে ছিলেন?
উত্তর : জানা নেই।
প্রশ্ন : ন্যাশনাল স্টুডেন্ট ফেডারেশন (এনএসএফ) নামে কোন ছাত্র সংগঠন ছিল কি না?
উত্তর : বলতে পারব না।
প্রশ্ন : ১৯৭০ সালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি কে ছিলেন?
উত্তর : জানা নেই।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে ডিসেম্বর মাসে ছাত্রলীগের সভাপতি কে ছিলেন?
উত্তর : জানা নেই।
প্রশ্ন : যে লোকটা আপনাকে মতিউর রহমান নিজামীকে ছাত্রসংঘের সভাপতি বলেছিল তার নাম কি?
উত্তর : মনে নেই। কারণ ৪২ বছর আগের কথা।
প্রশ্ন : মতিউর রহমান নিজামী রফিকুন্নবী বাবলুকে যখন হত্যা, লুটপাটের নির্দেশ দেয় বলে আপনি উল্লেখ করেছেন তখন কে কে ছিল?
উত্তর : বলতে পারব না।
প্রশ্ন : এটা আজ পর্যন্ত জানার চেষ্টাও আপনি করেননি।
উত্তর : জি, করি নাই।
প্রশ্ন : পাবনা শত্রুমুক্ত হলে ৬ ডিসেম্বর আপনি দেশে ফেরত আসার পর সোহরাব সাহেবকে হত্যার অভিযোগে কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছিল?
উত্তর : জানা নেই।
প্রশ্ন : আপনি আগে না সেলিম লতিফ এলাকায় ফেরত আসেন?
উত্তর : আমি ১৪ ডিসেম্বর ফিরে আসি। উনি আমার আগে না পরে আসে তা জানা নেই।
প্রশ্ন : বেড়া এলাকায় আর্মি ক্যাম্প কোথায় ছিল?
উত্তর : নগরবাড়ী ফেরিঘাটে ছিল।
প্রশ্ন : বেড়া থানার অন্য কোথাও আর্মি ক্যাম্প ছিল না।
উত্তর : আমি এটাই জানতাম।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে লাইসেন্স করা বন্দুক ছিল এমন কারো নাম বলতে পারেন?
উত্তর : আব্দুর রাজ্জাক ওরফে রাজা মিয়া চেয়ারম্যান। তার বন্দুকটা আমি এনেছিলাম। অন্য কোন লাইসেন্সধারীর নাম আমি বলতে পারব না।
প্রশ্ন : রাজা মিয়া মুসলিম লীগ করতেন?
উত্তর : পরে শুনেছি উনি মুসলিম লীগ করতেন। ঐ সময় মুসলিম লীগ শব্দটাই আমরা জানতাম না।
প্রশ্ন : এই রাজা মিয়া ছিল বেড়ার পিস কমিটির চেয়ারম্যান।
উত্তর : আমার জানা নেই।
প্রশ্ন : আপনাদের ইউনিয়নের পিস কমিটির কোন লোককে চিনতেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে পাবনা পিস কমিটির কোন লোককে আপনি দেখেননি?
উত্তর : চিনিই না তা দেখব কি করে।
প্রশ্ন : দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আপনাদের এলাকার রাজাকার, আলবদর, আল শাসসের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছিল কি না?
উত্তর : আমার জানা নেই।
প্রশ্ন : আপনি ফেরত আসার পর বেড়ার কোন জায়গায় মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প করা হয়েছিল?
উত্তর : বেড়া থানা সংলগ্ন।
প্রশ্ন : কতদিন ক্যাম্পটি ছিল?
উত্তর : ১০/১৫ দিন ছিল।
প্রশ্ন : ইনচার্জ কে ছিল?
উত্তর : এসএম আমীর আলী।
প্রশ্ন : আপনার আব্বা যখন বাড়ি থেকে আপনাকে চলে যেতে বললেন তখন অন্ধকার ছিল?
উত্তর : জি, অন্ধকার রাত ছিল।
প্রশ্ন : আর্মি এবং রাজাকাররা আসছে শুনলে লোকজন পালিয়ে যেত।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : সোহরাব সাহেবের বাড়ি থেকে তার হত্যার স্থানের দূরত্ব কত?
উত্তর : হাজার/বারশ’ ফুট।
প্রশ্ন : যেখানে তাকে মারা হয় সেখানে তখন বাড়িঘর ছিল?
উত্তর : উত্তর পাশে খোলা এবং বাড়ি ছিল। দক্ষিণ পাশেও বাড়ি ছিল।
প্রশ্ন : দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সোহরাব হত্যার প্রত্যক্ষদর্শী কারো নাম আপনি জানেন?
উত্তর : হত্যা করতে দেখেছে এমন কারো নাম আমার জানা নেই।
প্রশ্ন : ৩ ডিসেম্বর সোহরাব সাহেবের হত্যার যে কথা আপনি বলেছেন তা সত্য নয়।
উত্তর : আপনার বক্তব্য সত্য নয়।
প্রশ্ন : সোহরাব সাহেব স্বাধীনতা যুদ্ধের অনেক পরে তারা মারা গেছেন।
উত্তর : সত্য নয়। উনি ৩ ডিসেম্বরই মারা গেছেন।
প্রশ্ন : ডকে নিজামী সাহেব একাই আছেন?
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : নিজামী সাহেবের নাম প্রথম কবে শোনেন?
উত্তর : ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর প্রথম শুনেছি।
প্রশ্ন : আপনি মতিউর রহমান নিজামীকে ও ইসলামী ছাত্রসংঘকে জড়িয়ে যে জবানবন্দী দিয়েছেন তা সত্য নয়।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনি আওয়ামী লীগের একজন কর্মী।
উত্তর : অবশ্যই।
 
প্রশ্ন : সোহরাব সাহেবকে হত্যা করতে কে দেখেছে এ রকম কোন লোকের নাম আপনার জানা নাই।
উত্তর : জি।
 প্রশ্ন : আপনি যে তারিখে সোহরাব সাহেবকে হত্যার কথা বলেছেন তিনি সেই তারিখে শহীদ হন নাই।
উত্তর :  ইহা সত্য নহে।
প্রশ্ন :  সোহরাব সাহেব দেশ স্বাধীনের অনেক পরে মারা গিয়েছেন।
উত্তর : ইহা সত্য নহে। তিনি ৩রা ডিসেম্বরেই মারা গেছেন।
প্রশ্ন : “পরদিন ৩রা ডিসেম্বর রাত্রিতে আমার আব্বা-আম্মা যখন গরুর খাবার দিতে গোয়াল ঘরে যায় তখন দেখতে পান রাজাকার, আলবদর এবং পাক বাহিনী রাস্তা দিয়ে চলাচল করছিল। তখন আমার বাবা এসে আমাকে বলে পাক বাহিনী গ্রাম ঘিরে ফেলেছে তুমি তাড়াতাড়ি উঠে পালাও। তখন আমি বাড়ির পিছন দিক দিয়ে পালায়ে হুড়াসাগর নদী পার হয়ে ওপারে আমাদের ক্যাম্পে চলে যাই। ভোর বেলা দেখতে পাই আমাদের গ্রামের অনেক লোকজন নদী পার হয়ে ওপারে আশ্রয় নিয়েছে। পরদিন বেলা বারোটা/সাড়ে ১২টার দিকে রাজাকার ও পাক বাহিনী চলে যাওয়ার পরে আমরা কয়েকজন গ্রামে ফিরে আসি। গ্রামে ফিরে এসে শুনি সোহরাবকে বেয়নেট দিয়ে খুচায়ে খুচায়ে পরে গুলি করে হত্যা করে”  এই কথাগুলো আপনি তদন্ত কর্মকর্তাকে বলেননি।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : “আমাদের দেখে গ্রামের লোকজন প্রাইমারি স্কুলের সামনে জড়ো হয় তখন গ্রামের ময়মরব্বীদের মুখে শুনলাম তৎকালীন ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতি মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের নির্দেশে সাঁথিয়া থানার রাজাকার আলবদরের কমান্ডার রফিকুন্নবী ওরফে বাবলুর নেতৃত্বে স্থানীয় রাজাকার, আলবদর ও পাক বাহিনীরা এই হত্যাকা-, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করেছে।” একথাগুলো আপনি তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট বলেন নাই।
উত্তর :  ইহা সত্য নহে।
প্রশ্ন : অদ্য ট্রাইব্যুনালের ডকে একজন ব্যক্তিই উপস্থিত আছেন তিনি মতিউর রহমান নিজামী সাহেব
উত্তর : জি, উনি একাই আছেন।
প্রশ্ন : নিজামী সাহেবকে আপনি গত কয়েকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আপনাদের এলাকায় দেখেছেন।
উত্তর : জি, দেখেছি।
প্রশ্ন : ঐ সময়ই আপনি  মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের নাম প্রথম শুনেছিলেন।
উত্তর : সত্য নয়; ১৯৭১ সালের ৩রা ডিসেম্বর তারিখে আমি প্রথম তার নাম শুনি।
প্রশ্ন : আপনি আওয়ামী লীগের একজন কর্মী।
উত্তর  : জি ।
প্রশ্ন : আপনি মতিউর রহমান নিজামী সাহেব এবং ইসলামী ছাত্রসংঘকে জড়িয়ে অসত্য সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।
উত্তর :  ইহা সত্য নহে।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=124926