১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বুধবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মীর কাসেম আলীর অভিযোগ খন্ডনের শুনানি: ৪০ বছর পরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশে দায়েরকৃত মামলা চলতে পারে না
১৯ আগস্ট ২০১৩, সোমবার,
মানবতাবিরোধী অপরাধে আটক বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তা দিগন্ত মিডিয়া কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী কমিটির সদস্য মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ খ-নের ওপর আসামীপক্ষের প্রথম পর্যায়ের শুনানি শেষে সরকার পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে জবাবী শুনানির জন্য আগামী ২১ আগস্ট দিন ধার্য করে দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। গতকাল রোববার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর জিয়াদ আল মালুম বলেন, আমরা আজই ডিফেন্স ডকুমেন্ট পেয়েছি। এর জবাব দেয়ার জন্য সময় প্রয়োজন। অপরদিকে আসামীপক্ষের প্রধান কৌঁসুলী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক দেশের বাইরে থাকায় আগমী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্তু শুনানি মুলতবি রাখার আবেদন জানান ব্যরিস্টার তানভীর আহমেদ আল আমিন। তবে সে আবেদন নাকচ করেন ট্রাইব্যুনাল। ডিসচার্জ আবেদনের ওপর তিনি সকাল-বিকাল দুই বেলা শুনানি করেন।
অভিযোগ খ-নের আবেদনের (ডিসচার্জ পিটিশন) শুনানিতে ব্যারিস্টার তানভীর আহমেদ আল আমিন বলেন, ৪০ বছর পর মামলা দায়েরের যে কারণ দেখানো হয়েছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগেরই সরকার ছিল। দালাল আইনে বহু মামলা হয়েছিল। মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে তখন একটি মামলা, এফ আই আর বা জিডিও হয়নি। ৪০ বছর পরে এসে তার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা, কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি একজন শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত। মিডিয়ার সাথেও তার সম্পর্ক রয়েছে। তিনি জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য। তাই রাজনৈতিক হয়রানির জন্য তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হয়েছে।
এসময় ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বলেন, এই আইনটি ১৯৭৩ সালে হলেও ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়নি। ট্রাইব্যুনাল এখন হয়েছে। ভিকটিমরা মামলা দায়ের করেছে। কাজেই তারা তো দেরি করেনি। সরকার ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে দেরি করেছে। এখানে ক্ষতিগ্রস্তদের দোষ কোথায়?
জবাবে তানভীর বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে ১৯৭২ সালেই দালাল আইনের অধীনে ট্রাইব্যুনাল হয়েছিল। তাতে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল তার মধ্যে মীর কাসেম আলীর নাম ছিল না। তাছাড়া প্রচলিত আইনেও স্বাধীনতার পরে মামলা করতে কোন বাধা ছিল না। এখন মামলার উদ্দেশ্যই হলো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা। রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে দায়েরকৃত মামলা চলতে পারে না।
ব্যারিস্টার তানভীর বলেন, আইসিটি ১৯৭৩-এর আইনে মানবতার বিরুদ্ধে আপরাধ কি তার সংজ্ঞা নির্দিস্ট নেই। এজন্যই আমরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইন ও নজিরকে সামনে আনছি। ১৯৭১ সালে নির্যাতনকে মানবতাবিরোধী কোন অপরাধ হিসেবে ধরা হতো না। নির্যাতনকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে ১৯৭৫ সাল থেকে। অথচ এই মামলায় ১৯৭১ সালের অপরাধের বিচার হচ্ছে। সে কারণেই আমার মতে টর্চারকে এই চার্জ থেকে বাদ দিতে হবে। অপহরণ এখন পর্যন্তু মানবতাবিরোধী কোন অপরাধ নয়। তবে কাউকে জোর করে আটকে রাখা অপরাধ।
তিনি বলেন, কমান্ড রেসপনসিবিলিটির যে অভিযোগ মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে আনা হয়েছে তা টেকে না। কারণ তিনি কোন সামরিক বাহিনীর কমান্ডার বা লোকই ছিলেন না। আর কমান্ড রেসপনসিবিলিটি কোন সিভিলিয়নের থাকতে পারে না। কাউকে কমান্ড দেয়া বা কমান্ড মত কাজ না করলে তাকে শাস্তি দেয়ার কোন ক্ষমতা তার ছিল না।
উল্লেখ্য, গত ২৬ মে জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। গত বছরের ১৭ জুন মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে ওইদিন বিকেলে মতিঝিলে দৈনিক নয়া দিগন্ত কার্যালয়ের (দিগন্ত মিডিয়া কর্পোরেশন) থেকে তাকে গ্রেফতার করে বিকেল সোয়া চারটার দিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=124851