২৩ মে ২০১৭, মঙ্গলবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
সাবেক জাপা এমপি কাদের খান লিটন হত্যার পরিকল্পনাকারী , ১০ দিনের রিমান্ড : আবারো বাড়ি তল্লাশি
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার,
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের এমপি আওয়ামী লীগ নেতা মনজুরুল ইসলাম লিটনকে পরিকল্পনা করে অর্থ দিয়ে খুন করিয়েছেন একই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ডা: কাদের খান। তিনি এক বছর ধরে পরিকল্পনা করে কিলারদের ছয় মাস ধরে প্রশিক্ষণ দিয়ে এই খুন করিয়েছেন। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে এমন মোটিভ উন্মোচনের তথ্য গণমাধ্যমকে প্রেসব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানালেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুখ বিপিএম, পিপিএম। এ দিকে গ্রেফতারকৃত সাবেক এমপি কাদের খানকে আদালতে নিয়ে রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর মাধ্যমে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরকার ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর যে ধারাবাহিক প্রেসার ও কৌশল চলছিল তার অবসান হলো বলে মনে করেন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা। ৫৩ দিনের মাথায় এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট মোটিভ বলায় এ নিয়ে সুন্দরগঞ্জে গ্রেফতার আতঙ্ক ও বাণিজ্যেরও অবসান ঘটবে বলে মনে করেন সুন্দরগঞ্জবাসী। 
গতকাল বুধবার সকালে গাইবান্ধা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুখ এমপি লিটন হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রেসব্রিফিংয়ে জানান, লিটন হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী আবদুল কাদের খান। তিনি এক বছর ধরে এই হত্যার পরিকল্পনা করেন। লিটন হত্যায় অংশ নেয়া ব্যক্তিদের মধ্যে চারজনের নাম জানা গেছে। তারা হলোÑ কাদের খানের গাড়িচালক আবদুল হান্নান, দুই তত্ত্বাবধায়ক শাহিন মিয়া ও মেহেদী হাসান এবং তাদের সহযোগী রানা। প্রথম তিনজন গ্রেফতার আছে। তারা হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীও দিয়েছে। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই কাদের খানকে গত মঙ্গলবার বিকেলে বগুড়ার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। আর রানা পলাতক রয়েছে। তাকে খোঁজা হচ্ছে। আশা করছি, শিগগিরই তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।
মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে ডিআইজি আরো জানান, লিটন হত্যায় অংশ নেয়া ব্যক্তিদের এক বছর ধরে অর্থ ও নানা প্রলোভন দেন কাদের খান। হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের অস্ত্র চালানোর জন্য একটি গুদামে ছয় মাস ধরে প্রশিণও দেয়া হয়। মতার পথ মসৃণ করতে লিটনকে হত্যা করা হয় বলেও জানান ডিআইজি। তবে কাদের খান কেন তাকে ‘হত্যার পরিকল্পনা’ করেছেন সে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে কিছু খোলাসা করে বলেননি ডিআইজি গোলাম ফারুখ। তবে তদন্তের সাথে যুক্ত একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচনে নিজের পথ পরিষ্কার করতেই’ সাবেক সংসদ সদস্য কাদের খান এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে তারা ধারণা করছেন।
আদালত সূত্র জানায়, দুপুরের পর গ্রেফতার সাবেক এমপি কাদের খানকে গাইবান্ধার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। বিচারক ময়নুল হাসান ইউসুফ ১০ দিনেরই রিমান্ড মঞ্জুরের আদেশ দেন। এরপর তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। 
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি শফিকুর রহমান বলেন, লিটন হত্যামামলায় কাদের খানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। শুনানি শেষে পুলিশের আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত।
লিটন হত্যা মামলায় কাদের খানকে গত মঙ্গলবার বগুড়া শহরের রহমান নগরের মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের পাশে গরীব শাহ কিনিকের তৃতীয়তলার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের আগে ছয় দিন তাকে নজরবন্দী রাখা হয়। তার গ্রামের বাড়ি সুন্দরগঞ্জের ছাপারহাটিতে। ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে গাইবান্ধা-১ আসনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে নির্বাচিত হন জাপা প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা: কাদের খান। এই আসনের সর্বশেষ সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর নিজ বাড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হলে আসনটি শূন্য হয়। আগামী ২২ মার্চ এই আসনে অনুষ্ঠেয় উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে কাদের খান মনোনয়নপত্র তুলেছিলেন। ১৯ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র দাখিলের ছিল শেষ দিন। কিন্তু এর আগের দিন নজরবন্দী কাদের খান মনোনয়নপত্র দাখিল না করার ঘোষণা দেন। 
গাইবান্ধা পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম জানান, কাদের খানের পরিকল্পনায়, তার নির্দেশে ও তার লাইসেন্স করা অস্ত্র ব্যবহার করে ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে এমপি লিটনকে খুন করা হয়েছে। তবে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার জানান, ডা: কর্নেল (অব:) কাদের খান তিন বছর আগেই জাতীয় পার্টি ছেড়েছেন। তার সাথে এখন পার্টির কোনো সম্পর্ক নেই। অন্য দিকে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও গাইবান্ধা জেলা সভাপতি সাবেক এমপি আবদুর রশিদ সরকার নয়া দিগন্তকে জানান, কাদের খান বর্তমানে দলের কোনো পদ বা দায়িত্বে নেই।
সাবেক এমপি কাদের খানের স্ত্রী ডা: এ জে ইউ নাসিমা জানান, আমার স্বামীকে হয়রানি করার জন্য এমপি লিটন হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। স্বামীর নিঃর্শত মুক্তি দাবি করেন তিনি। কাদের খানের বড়ভাই অবসরপ্রাপ্ত শিক খিজির উদ্দিন খান বলেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে এটি একটি ষড়যন্ত্র। 
গত ২০ ফেব্রুয়ারি সাভারের আশুলিয়ায় এক অনুষ্ঠানে আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক বলেছিলেন, গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মনজুরুল ইসলাম লিটন হত্যামামলার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। সেই সাথে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। জড়িতরা নজরদারিতে আছেন। কারা পরিকল্পনায় ছিল, হত্যাকাণ্ডে কে কোন ভূমিকায় ছিল, আমরা তার আদ্যোপান্ত বের করেছি। সময় হলে সবই জানতে পারবেন। যেকোনো মুহূর্তে আটক করা হবে তাদের। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। তার এই বক্তব্যের একদিন পর মঙ্গলবার বিকেলে বগুড়া থেকে জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি কাদের খানকে গ্রেফতার করা হয়। 
যেভাবে ঘোরে তদন্তের মোড় : এমপি লিটন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ওপেন বক্তব্যকে আমলে নিলেও সেদিকেই তদন্তের বিষয়টি রাখেননি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্তরত সংস্থাগুলোর সূত্র মতে, এমপি লিটন খুন হওয়ার পর প্রথম দিকে কাদের খানকে কেউ সন্দেহই করেননি। লিটনের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, স্ত্রীর ব্যবসায়, শ্যালকদের অবস্থা, শ্বশুরবাড়ির জামায়াত ও উগ্রবাদী কানেকশনÑ এসব নিয়েই ব্যস্ত ছিল তদন্ত দল। কাদের খানের লাইসেন্স করা অস্ত্র থানায় জমা দেয়ার পর তার ব্যবহৃত গুলির একটি কু ধরে তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। সন্দেহের তালিকায় রাখা হয় কাদের খানকে। গ্রেফতার করা হয় কাদের খানের ঘনিষ্ঠ ক্যাডার মেহেদী, মান্নান ও শাহীনকে। তাদের স্বীকারোক্তি ও তদন্তের পরই আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনী অনেকটা নিশ্চিত হয়ে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা, অর্থদাতা ও অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে কাদের খানকে গ্রেফতার করেছে। কাদের খানের জমা দেয়া ব্যক্তিগত অস্ত্রের গুলির মাপ ও এমপি লিটন হত্যায় ব্যবহৃত গুলির সাদৃশ্য রয়েছে কি না, তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। অস্ত্রগুলো শিগগিরই সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হবে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অনেক দিনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এমপি মনজুরুল ইসলাম লিটনকে খুন করা হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয় কাদের খানের লাইসেন্স করা অস্ত্র। তিনি ভেবেছিলেন লিটনকে সরিয়ে দিতে পারলে এই আসনে তার জন্য এমপি হওয়া সহজ হবে। এ উচ্চাভিলাষ থেকেই খুন করা হয় লিটনকে। তিনি কিলার হিসেবে সাত লাখ টাকায় ভাড়া করেন তার ঘনিষ্ঠ মেহেদীকে। সে দলে নেয় আবদুল মান্নান ও শাহীনসহ আরো কয়েকজনকে। ইতোমধ্যে কিলিং মিশনে অংশ নেয়া মেহেদী, শাহীন ও মান্নান আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে। তারা এমপি লিটনকে খুনের বিস্তারিত বিবরণও দিয়েছে।
সূত্রগুলো জানায়, এমপি লিটন খুন হওয়ার পর মূলত তিনটি বিষয়কে মোটিভ ধরে কাজ করা হয়। তার একটি ছিল রাজনৈতিক মোটিভ। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলেন, আমরা তদন্ত করে দেখার চেষ্টা করেছি এমপি লিটনের অবর্তমানে সেখানে রাজনৈতিকভাবে কারা কারা লাভবান হবেন। এ েেত্র সাবেক এমপি ডা: কর্নেল (অব:) কাদের খানের নাম আসে। তদন্তে আরো দেখা যায়, কাদের খান বহুবার সুন্দরগঞ্জে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করেন। এমপি লিটনকে বেকায়দায় ফেলতে পূজামণ্ডপে হামলা ও সংখ্যালঘু নির্যাতনসহ বেশ কিছু নাশকতা ঘটান কাদের খান। এসবের দায়ভার পড়ে এমপি লিটনের ওপর। সুন্দরগঞ্জে এমপি লিটনের গুলিতে এক স্কুলছাত্র গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি (কাদের খান) স্থানীয় লোকজনকে বিভিন্নভাবে উসকানি দিয়েছিলেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। 
আতঙ্ক থেকে মুক্তির পথে সুন্দরগঞ্জের মানুষ : পুলিশের পক্ষ থেকে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে মোটিভ বলার পর থেকেই সুন্দরগঞ্জের আতঙ্কিত মানুষজনের মধ্যে স্বস্তি নেমে এসেছে। তারা মনে করছেন, এ ঘটনার পর তদন্ত সঠিকভাবে এগোবে এবং প্রকৃত অপরাধীরা ধরা পড়বে। অসহায় নিরপরাধ মানুষ আতঙ্ক থেকে রক্ষা পাবেন। তারা বাড়িঘরে শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন। সেটি নিশ্চিত করতে সরকার ও পুলিশকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার দাবি জানান সুন্দরগঞ্জের সচেতন মানুষসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা। 
গাইবান্ধা জেলা জামায়াত সেক্রেটারি আবদুল করিম জানান, সরকারের নির্দেশে এমপি লিটন হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত এবং হত্যার তদন্ত কার্যক্রমকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যেই উপজেলা পূর্ব জামায়াতের আমির এবং জামায়াতের আমিরের দুই ছেলে ও ভাতিজাকে এবং দুলাভাই হওয়ায় বয়োবৃদ্ধ হাজী ফরিদকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। জামায়াত-শিবিরকর্মীসহ বিভিন্ন জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। কাদের খানকে গ্রেফতারের মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয়েছে, জামায়াত-শিবির কিংবা প্রতিপক্ষ কোনো রাজনৈতিক পক্ষ এতে জড়িত নয়। এ ঘটনার সাথে জড়িত মহাজোটরই শরিক পক্ষ। তিনি অবিলম্বে এই মামলায় গ্রেফতার করা জামায়াত-শিবির ও বিএনপিকর্মীসহ নিরপরাধ সাধারণ মানুষের মুক্তি দাবি করেন। তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত প্রকৃত অপরাধীরা এখন শনাক্ত। তাদের গ্রেফতার ও শাস্তির মুখোমুখি করা হোক। এই হত্যাকাণ্ডের পর যেভাবে বাড়ি বাড়ি হানা দিয়ে নিরপরাধ মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এতে মানুষ আতঙ্কিত অবস্থায় ছিলেন। মোটিভ উদ্ধার হওয়ার পর আশা করি এই আতঙ্ক কেটে যাবে। স্ন্দুরগঞ্জের মানুষ সাধারণ জীবনে ফিরে আসতে পারবেন।
উল্লেখ্য, গত ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ শনিবার সন্ধ্যায় সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মনজুরুল ইসলাম লিটনকে দুর্বৃত্তরা সর্বানন্দ ইউনিয়নের উত্তর সাহাবাজ মাস্টারপাড়ার নিজ বাড়িতে ঢুকে গুলি করে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হলে রাত ৭টা ৪০ মিনিটে তাকে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। 
মাইক্রোবাস, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ডিভিআর, হার্ডডিস্ক জব্দ
বগুড়া অফিস জানায়, গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের জাতীয় পার্টি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য কর্নেল (অব:) ডাক্তার আব্দুল কাদের খানের বগুড়া শহরের গরীব শাহ কিনিক কাম-বাড়িতে দ্বিতীয় দফা তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে রাত সাড়ে ৪টা পর্যন্ত তল্লাশি চালানো হয়। গতকাল সাদা পোশাকে পুলিশ দেখা না গেলেও চার-পাঁচজন পোষাকধারী পুলিশকে সেখানে অবস্থান করতে দেখা গেছে। 
গরীব শাহ কিনিকের অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ মোহাম্মদ ওয়াহেদ আলী জানান, রাত ১২টায় গাইবান্ধার সহকারী পুলিশ সুপার রেজিনুর রহমানসহ ৮-১০ জন কিনিকে এসে তল্লাশি চালানোর কথা বলে। এ সময় স্যারের স্ত্রী ডাক্তার এজেইউ নাসিমা বেগম তাকে তল্লাশি কাজে সহযোগিতা করেন। কিনিক-কাম বাসার চতুর্থতলায় স্যারের বেডরুমসহ অন্য একটি রুমে তল্লাশি চালান তারা। রাত সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এই তল্লাশি চলে। তল্লাশি শেষে ডাক্তার নাসিমা বেগমের মোবাইল ফোনসহ কিনিকের স্টাফ নূরী, রোবেজা, শেফালীর মোবাইল ফোন নিয়ে যায় পুলিশ। এ ছাড়াও দু’টি ল্যাপটপ এবং সিসি ক্যামেরার ডিভিআরসহ হার্ডডিস্ক নিয়ে যায় তারা। দু-এক দিনের মধ্যে মোবাইল ফোন ফিরে দেয়ার কথা বলে পুলিশ। তল্লাশি শেষে তারা স্যারের মাইক্রোবাসটিও নিয়ে যায়। এ দিকে কাদের খানের পারিবারিক পুকুরটি অস্ত্রের সন্ধানে পানি সেচের কাজ চলছে। বাড়িটি পুলিশি প্রহরায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় ডাক্তার কাদের খানকে গ্রেফতারের পর গাইবান্ধার সহকারী পুলিশ সুপার রেজিনুর রহমান কর্নেল কাদেরের বাড়িতে তল্লাশি চালালেও তখন কিছু পায়নি।
http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/198104