২৫ জুন ২০১৭, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি বন্ধ ৬ বছর, বর্তমানে এমপিওভুক্তির যোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৫ হাজার ২৪২টি ** ২৩ মার্চ ক্লাস বর্জন করবেন বঞ্চিত শিক্ষকরা
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার,
শূন্য পদের বিপরীতে শিক্ষক এমপিওভুক্তি হচ্ছে প্রতিবছরই। কিন্তু নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি বন্ধ রয়েছে ২০১১ সাল থেকে। এতে ননএমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ভীষণ কষ্টে দিন কাটছে। এই সময়ে অন্তত ২০ বার আন্দোলন হয়েছে, সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে আশ্বাসও মিলেছে। কিন্তু এমপিওভুক্ত হতে পারেননি তারা।
 
এমপিও হবার জন্য যে সকল শর্ত পূরণ করা উচিত তার সবই থাকা সত্ত্বেও ৫ হাজার ২৪২টি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত হতে পারেনি। অথচ এমপিওভুক্ত ৩ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেগুলোর কোনো যোগ্যতাই নেই। বলা হয়ে থাকে এসব প্রতিষ্ঠান একেবারেই অপ্রয়োজনীয়।
 
২০১০ সালে সর্বশেষ ১ হাজার ৬২৪টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছিল। ২০১১ সালে ১০০০ স্কুল-মাদ্রাসা এমপিওভুক্তি করার ঘোষণা দেওয়া হলেও তা করা হয়নি। ২০১০ সালে যখন এমপিওভুক্তির তালিকা প্রকাশ করা হয় তখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল এ কাজ চলমান থাকবে। কিন্তু অর্থ সংকটের কারণ দেখিয়ে সরকারের এ প্রক্রিয়া থেমে রয়েছে।
 
বর্তমানে এমপিওবঞ্চিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার। শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী এখন এমপিওভুক্তির যোগ্য স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৫ হাজার ২৪২টি। এসব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এমপিওর আওতায় আনার দাবি শিক্ষকদের। এ ক্ষেত্রে অর্থ বরাদ্দ না থাকাকেই মূল সমস্যা বলে আসছেন শিক্ষামন্ত্রী। আর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও সরাসরি বলেছেন, এ মুহূর্তে এ খাতে আর টাকা দেওয়া হবে না। গত বছরের ৭ জুন সংসদে সম্পূরক বাজেট পাসের সময় ঢালাওভাবে এমপিওভুক্তির তদবির করায় সংসদ সদস্যদের সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক তৃতীয়াংশ খামোখা গড়ে উঠেছে।
 
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গত রাতে ইত্তেফাককে বলেন, এমপিওভুক্তি অর্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। অর্থ মন্ত্রণালয় অর্থ সংস্থান করলে প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা সম্ভব। এ বিষয়ে আমি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি, আগামী বাজেটে এ খাতের জন্য কিছু অর্থ সংস্থান হবে।
 
তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ২৭ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক রয়েছেন ৩ লাখ ৫৭ হাজার ২৮৮ জন এবং কর্মচারী রয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ৩৭৫ জন। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্কুল ১৬ হাজার ১১৮টি, কলেজ ২৩৭০টি এবং মাদ্রাসা রয়েছে ৭ হাজার ৫৯৭টি।
 
শিক্ষা বিভাগের একটি তথ্যে দেখা যায়, অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩ হাজারের বেশি, যেগুলো এমপিওভুক্তি হয়েছে অনেক আগেই। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগই বলা যায় অপ্রয়োজনীয়। শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুবই কম। পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলও অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক। তারপরও এমপিওভুক্ত হওয়ার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের পেছনে প্রতিমাসে সরকারের কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে।
 
শিক্ষক নেতারা বলছেন, এমপিওভুক্তির সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় অনেক পুরনো প্রতিষ্ঠানও দীর্ঘদিন এমপিওবঞ্চিত থাকছে। এমপিওভুক্তির শর্তানুযায়ী যোগ্যতার ভিত্তিতে এমপিও হলে কারও কোনো আপত্তি থাকত না। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় দলীয় প্রভাব কিংবা অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে নামমাত্র সাইনবোর্ডধারী প্রতিষ্ঠানেরও এমপিওভুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। বহু পুরনো ও যোগ্য প্রতিষ্ঠান বাদ পড়ছে। ফলে এমপিও খাতে কোটি কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
 
এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, অনেক এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা রয়েছে যেগুলো এক কথায় প্রয়োজন নেই বলা যায়। শিক্ষক আছে, শিক্ষার্থী নেই। লেখাপড়া হয় না। এসব প্রতিষ্ঠান অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত করা যায় কি না সেটি ভাবা হচ্ছে।
 
এমপিওভুক্তির দাবিতে আন্দোলনের মাঠে থাকা ননএমপিও শিক্ষকদের নেতা এশারত আলী বলেন, আমরা মনে করি শিক্ষামন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রীর ওপর ভরসা করা যাবে না। আমরা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। তিনি বলেন, আগে যোগ্য প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হোক। এর পর শিক্ষা ব্যবস্থার জাতীয়করণ প্রয়োজন।
 
এই শিক্ষক নেতা বলেন, এমপিওভুক্তির দাবিতে গত জানুয়ারি মাসেও আমরা আন্দোলন করেছিলাম। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আশ্বস্ত করেছেন। তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।
 
একটি এমপিওবঞ্চিত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হারুন রশিদ। ২৬ বছর ধরে তিনি বেতন ভাতাদি ছাড়াই চাকরি করছেন। তার বক্তব্য, এমপিও হবে, বেতন-ভাতা পাব এ আশায় চাকরি করে চলেছি। মাদ্রাসা বোর্ডের সকল শর্ত পূরণ করেও এমপিও পাচ্ছে না। ওই মাদ্রাসার এক কর্মচারী বলেন, প্রতিদিন পত্রিকা বিক্রি করে ৫০-৬০ টাকা রোজগার হয় তা দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করি।
 
২৩ মার্চ থেকে ক্লাস বর্জন কর্মসূচি : দেশের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ননএমপিও শিক্ষক ও কর্মচারীদের এমপিওভুক্তি ও শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে আগামী ২৩ মার্চ ক্লাস বর্জনের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি। এদিন সব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রথম পিরিয়ডের ক্লাস বন্ধ রাখা হবে।
 
গতকাল বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা করেন সমিতির  নেতারা। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ এম এম আউয়াল সিদ্দিকী আরো বলেন, এ ছাড়া বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বার্ষিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি, পেনশন, উত্সব ভাতা, মেডিক্যাল ভাতা ও বৈশাখী উত্সব ভাতা আগের মতো টাইম স্কেলে দিতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে ৯ মার্চ সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ, ১৬ মার্চ সারাদেশের জেলা সদরে বেলা ১১টায় ১ ঘণ্টা মানববন্ধন পালন এবং প্রধান প্রধান সড়কে বিক্ষোভ মিছিল পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিলকিস জামান, সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ সমরেন্দ্র নাথ রায় সমর, মো. শহিদুল ইসলাম তালুকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
http://www.ittefaq.com.bd/print-edition/first-page/2017/02/23/177970.html